হ্যাঁ, উক্ত শাসক তথা কুতুবউদ্দিন আইবেকের চেয়ে খলিফা বা হযরত উমর (রা.) ছিলেন আরও অধিকতর সফল প্রশাসক- আমি এ মন্তব্যটি সমর্থন করি।উদ্দীপকে কুতুবউদ্দিন আইবেকের কর্মকাণ্ডে হযরত উমর (রা.)-এর কার্যাবলির মিল পরিলক্ষিত হয়। খলিফা হযরত উমর (রা.) শাসনব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে খিলাফতের দূরতম এলাকায়ও সুষ্ঠু শাসনের ব্যবস্থা করেন। সাম্রাজ্যের বিশালতা হেতু তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। প্রত্যেক প্রদেশকে তিনি জেলায় এবং প্রত্যেক জেলাকে মহকুমায় বিভক্ত করেন। খলিফা শূরার পরামর্শ এবং জনগণের মত যাচাই করে প্রত্যেক প্রদেশে একজন করে 'ওয়ালি' এবং প্রত্যেক জেলায় একজন করে 'আমির' নিযুক্ত করতেন।নিয়োগের সময় তাঁদেরকে তাঁদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা সম্বন্ধে খলিফা পরিষ্কারভাবে অবগত করাতেন এবং নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তার ভূসম্পত্তির হিসাব রাখতেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তারা শুধু পদচ্যুতই হতেন না, অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিপ্রাপ্তও হতেন। খলিফা বিভিন্ন এলাকার শাসনকার্য সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল থাকার জন্য গুপ্তচর বিভাগও সৃষ্টি করেন। ফলে শাসনব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত থাকত। ওয়ালিগণ (প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণ) শুধু প্রশাসনিক, শাসনকর্তাই ছিলেন না, তারা নিজ নিজ প্রদেশের সামরিক, ধর্মীয় ও রাজস্ব বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। শাসনকার্যে তাঁকে একজন কাতিব (প্রধান উপদেষ্টা), একজন কাতিব-উদ-দিওয়ান (প্রধান সামরিক উপদেষ্টা), একজন সাহিব-উল-খারাজ (রাজস্ব উপদেষ্টা), একজন সাহিব-উল-আহদাশ, (পুলিশ উপদেষ্টা), একজন সাহিব-উল-বায়তুল মাল (কোষাধ্যক্ষ), একজন কাজি এবং আরও অনেক কর্মচারী সাহায্য করত। হযরত উমর (রা.)-এর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা বাস্তবিকই অত্যন্ত জবাবদিহিতামূলক ছিল।সুতরাং বলা যায়, হযরত উমর (রা.)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের চেয়ে অধিকতর সফল ছিল।