আমার পঠিত খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সাথে উদ্দীপকের গাজী ওসমান সাহেবের সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকে উল্লিখিত গাজী ওসমান তার গ্রামের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। তিনিই গ্রামের সালিশ বিচার করে থাকেন। তিনি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বিচার করেন। সম্প্রতি তার ছোটো ছেলে গ্রামের একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করলে তিনি সালিশে ছেলেকে ১০০টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন। তাছাড়া তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করেন। তিনি নিষ্ঠার সাথে ইসলাম ধর্মের বিধিবিধানসমূহ পালন করেন। যা উমর (রা.) কে নির্দেশ করে। হযরত উমর (রা.) ৬৩৪ সালে খলিফা নির্বাচিত হয়ে রাজ্য বিজয় তথা মুসলিম রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ ও প্রজাকল্যাণমূলক শাসন সংস্কার করেন। তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পুলিশব্যবস্থা, কারাগার ব্যবস্থা, আদমশুমারি ও মজলিস উশ-শূরা গঠন করে ইতিহাসে অমরত্ব লাভকরেন। তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য উদারতা ও মহানুভবতা প্রদর্শন করেন। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে ইসলামি সাম্রাজ্য গোটা বিশ্বের অর্ধেক অংশজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি যেমন শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন তেমনি একজন চৌকস শাসকও ছিলেন। তার আমলে শাসনব্যবস্থার প্রভূত সংস্কার সাধিত হয় এবং নিরপেক্ষ, প্রজাবান্ধব ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এ মহান খলিফার আদর্শই উদ্দীপকের শাসক রহিম সাহেবের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে। তাঁরই অনুকরণে তিনি রাজ্যজয় করেন এবং সুষ্ঠু প্রশাসন গড়ে তোলেন। তিনি রাতে নিজ খিলাফতে ঘুরে বেড়াতেন এবং বিপর্যয়ে নিজ হাতে নাগরিকদের খাবার পৌঁছে দিতেন।অতএব, উদ্দীপকের পঠিত খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সাথে উদ্দীপকের গাজী ওসমান সাহেবের সাদৃশ্য রয়েছে।