উদ্দীপকের ঘটনা আমার পাঠিত হযরত ওসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ড ও তৎপরবর্তী ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।উদ্দীপকের উলিপুর গ্রামের প্রবীণ মাতব্বর ইলিয়াস দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক নিহত হলে পরবর্তীতে শেহাব সেখানকার মাতব্বর নির্বাচিত হন। তিনি গ্রামের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করেন। এতে জনসমর্থন লাভে ব্যর্থ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এমরান আলী কৌশলে মাতব্বরের বিরুদ্ধে বিচার বিলম্বিত করার অভিযোগ এনে আন্দোলন গড়ে তোলে। এ ঘটনা হযরত আলী (রা.)-এর সময়ের ঘটনাকে ইঙ্গিত প্রদান করে। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর খিলাফতের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মদিনার বিশৃঙ্খলার মধ্যে পাঁচদিন পর হযরত আলী (রা.) খলিফা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে প্রধান কারণ হলো হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যার প্রতিশোধ। হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে বিলম্ব হওয়াতে বিশিষ্ট সাহাবিদের সাথে হযরত আলী (রা.)-এর বিরোধ সৃষ্টি হয়। যার ফলে মুসলমানরা সর্বপ্রথম পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে রক্তপাত ঘটান। এতে তারা ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেন।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ইলিয়াস নিহত হলে শেহাবের মাতব্বর নির্বাচিত হওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এমরান আলীর অপপ্রচার হযরত ওসমানের হত্যাকাণ্ড ও মুয়াবিয়া ও আলীর বিরোধের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।