উদ্দীপকের ভুল বোঝাবুঝি খিলাফতে গভীর সংকট সৃষ্টি করেছিল। হযরত আলী (রা.) খিলাফতের পদে আসীন হওয়ার পর সর্ববিষয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের অনুসন্ধান করে বের করা এবং তাদের নিকট থেকে বিচার আদায় করা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তার এ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষ হতে কোনো ত্রুটি ছিল না। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা সম্ভবপর ছিল না। একমাত্র হযরত উসমান (রা.)-এর স্ত্রী নায়লা ঘটনার সময় ঘরে ছিলেন। তিনি একজন পর্দানসীন মহিলা ছিলেন বিধায় যারা হত্যার কাজে অংশ নিয়েছিল তাদেরকে চিনতে পারেন নি। এদিক দিয়ে হযরত আয়েশা (রা.), সালমা (রা.) ও হযরত হাফসা (রা.) মক্কা হতে ফেরত আসার সময় হযরত উসমান হত্যার খবর পান এবং তিনি হত্যার প্রতিশোধ। নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। সম্ভবত হযরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে মারওয়ান ও বারো জন পদচ্যুত গভর্নর মাথানত করে তাকে ভুল তথ্য দেন। আর এতে করে হযরত আয়েশা (রা.) উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তাদের এ ভুল বোঝাবুঝির কারণে হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (রা.)-এর খিলাফতকালে যে বিদ্বেষ ও ভয়াবহতার সৃষ্টি হওয়ার ফলে উষ্ট্রের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধ নামে তিনটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তেমনি এমডি রশীদ সাহেবের ক্ষেত্রেও কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। রশীদ সাহেব বিশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যে কে এন্ড কে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোম্পানির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু লোক তাকে পরিবর্তন করে। এতে কর্মকর্তাদের সাথে এমডির ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। যার ফলে কোম্পানি গভীর সংকটে পড়ে।পরিশেষে বলা যায়, কে এন্ড কে কোম্পানির কর্মকর্তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির মতো হযরত উসমান (রা.) হত্যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে উষ্ট্রের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।