উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফা অর্থাৎ হযরত ওমর (রা.) নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সক্ষম হয়েছিলেন। মন্তব্যটি যথার্থ।
হযরত উমর (রা.) ইসলামের আদর্শকে ধারণ ও লালন করেছিলেন। পারস্য ও পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য মুসলিম সাম্রাজ্যের সাথে একীভূত হওয়ার ফলে কুরআন, হাদিস ও ইজমার ভিত্তিতে ইসলামি রাষ্ট্রের রূপদান করেন। তাঁর শাসনব্যবস্থায় দেখা যায় কুরআন ও হাদিসের অধীনে সকল অধিবাসী শতভাগ স্বাধীন। হযরত উমর (রা.)-এর মজলিসে শূরা ছিল আধুনিক বিশ্বের আইনসভার অনুরূপ। তাঁর প্রশাসনিক কাঠামো খলিফা কেন্দ্রীয় প্রধান, ওয়ালি প্রদেশ প্রধান, আমল জেলা প্রধান ছিলেন। সুষম উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার জন্য হযরত উমর (রা.) তার খিলাফতকে ১৪টি প্রদেশে ভাগ করেন। প্রত্যেকটি ওয়ালির একটি দেওয়ান বা Sectrariat বা সচিবালয় ছিল। হযরত উমর (রা.)-এর রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুভাগে ভাগ করা হয়। যথ- ক. আয় ও খ. ব্যয়। হযরত উমর (রা.)-এর আমলে রাজস্বের উৎস ছিল ৭টি। যথা- ১. আল গনিমত, ২. আল জাকাত, ৩. আল উশর, ৪. আল জিজিয়া, ৫. আল খারাজ, ৬. আল ফাই, ৭. আল হিমা। উশর ছিল ভূমি রাজস্ব। এ কর শুধু মুসলিমদের দিতে হতো। কোনো জমিতে ৫ ওয়াসাক বা যা ফসল উৎপাদিত হতো ঐ জমির ফসল থেকে উশর দিতে হতো। সুষ্ঠু, ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিচার বিভাগকে সর্বপ্রথম নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করেন। মসজিদকে বিচারালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। হযরত উমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থা ছিল একটি প্রকৃত রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা।