উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সিফফিনের যুদ্ধ ও দুমার মীমাংসার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।হযরত আলী (রা.) ৬৫৬ সালে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। উক্ত পরিস্থিতি নির্মূলে প্রাদেশিক শাসনকর্তার রদবদল করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। খলিফা কালবিলম্ব না করে বসরা, কুফা, মিশর ও সিরিয়ার শাসনকর্তাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। অন্যান্য শাসনকর্তারা খলিফার নির্দেশ মান্য করলেও সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া খলিফার নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা ও অবাধ্যতার উপযুক্ত জবাব এবং ইসলামে ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষার জন্য হযরত আলী (রা.) ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ৫০,০০০ সৈন্যসহ সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হন। খলিফার এ অগ্রগতির সংবাদে কালবিলম্ব না করে মুয়াবিয়াও ৬০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে সিফফিন নামক প্রান্তরে উপস্থিত হন। যুদ্ধে পরাজয় যখন আসন্ন তখন মুয়াবিয়া আমর আল আসের পরামর্শে বর্শার মাথায় কুরআন ঝুলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। ঘোষণা করা হয় সালিশ বৈটকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। সিফফিনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে যে সালিশ সংঘটিত হয় তাই ইতিহাসে দুমার মীমাংসা নামে পরিচিত। দুমাতুল জন্দল নামক স্থানে এ মীমাংসা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষে আবু মুসা আশারির নেতৃত্বে ৪০০ জন ও মুয়াবিয়ার পক্ষে আমর আল আসের নেতৃত্বে ৪০০ জন লোক অংশগ্রহণ করে। তবে আমরের ধূর্ততায় দুমাতুল জন্দলের সালিশি রায় প্রহসনে রূপ নেয়।অতএব উদ্দীপকের সাথে সিফফিনের যুদ্ধ ও দুমার মীমাংসার মিল রয়েছে।