উদ্দীপকের সাথে ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকের ঘটনা হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষকে নির্দেশ করে। জনাব 'ক' ক্ষমতা গ্রহণ করে দুর্নীতির অভিযোগে বেশকিছু প্রাদেশিক গভর্নরকে বরখাস্ত করেন। তবে পূর্ববর্তী খলিফার নিযুক্ত একজন প্রাদেশিক শাসক পদত্যাগ অস্বীকৃতি জানালে সশস্ত্র যুদ্ধ হয়। যা হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া বিরোধের অনুরূপ। হযরত আলী (রা) হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকান্ডের পর ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। তিনি বিশৃঙ্খল অবস্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আনার জন্য কতিপয় প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। কিন্তু সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া খলিফার আদেশ মানতে অস্বীকার করে। তাছাড়া হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়াকে হযরত উসমান (রা)-এর সময়ে অর্জিত সকল সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে দেবার আদেশ দিলে মুয়াবিয়া (রা) তা প্রত্যাখ্যান করে বিদ্রোহ করে। মুয়াবিয়া (রা) হযরত আলী (রা)-এর আদেশ মানতে অস্বীকার করেন এবং তার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়ার অবাধ্যতা, ধৃষ্টতা ও খিলাফতের প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের জন্য ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মুয়াবিয়াও ৬০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিনের প্রান্তরে হযরত আলী (রা)-এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যা ইতিহাসে সিফফিনের যুদ্ধ নামে পরিচিত। মুয়াবিয়া (রা)-এ যুদ্ধে পরাজয়ের আভাস পেয়ে সেনাপতি আমরের পরামর্শে বর্শার মাথায় কুরআন শরিফ ঝুলিয়ে সন্ধি প্রার্থনা করলে যুদ্ধ বন্ধ হয়।তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা হযরত আলী মুয়াবিয়ার সিফফিনের যুদ্ধকে নির্দেশ করে।