প্রশ্নে উল্লিখিত উক্ত খলিফা বলতে হযরত উসমান (রা.)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। তার ওপর আনীত অভিযোগগুলো ছিল মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো-১. স্বজনপ্রীতি।২. কুরআন শরিফ দক্ষ্মীভূতকরণ।৩. বায়তুল মালের অর্থ আত্মীয়স্বজনকে দান।৪. সরকারি চারণভূমি নিজস্ব কাজে ব্যবহার।৫. আবুজার আল-গিফারিকে নির্বাসন।৬. কাবাগৃহ সম্প্রসারণ।মূলত হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। তিনি মোটেও স্বজনপ্রীতি করেননি। তাঁর বংশীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই প্রশাসনের বিভিন্ন পদে বহাল ছিল। কুরআন শরিফ পোড়ানোর অভিযোগও সঠিক নয়। কারণ বিভিন্ন স্থানে কুরআন তিলাওয়াতে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় তিনি হযরত আবু বকর (রা.) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি হতে ৭টি কপি করেন। অতঃপর তা বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরণ করেন ও পূর্বের কুরআনগুলো পোড়ানোর নির্দেশ দেয়। তাঁর এ কার্য কুরআন সংরক্ষণের স্বার্থেই ছিল। তিনি বায়তুল মালের অর্থ আত্মীয়স্বজনকে দেননি। তবে উমাইয়া বংশীয় কেউ কেউ খলিফার অজান্তে অন্যায়ভাবে বায়তুল মাল থেকে অর্থসম্পদ লুট করে। এর জন্য তাঁকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। চারণভূমি তিনি কখনো নিজ কাজে ব্যবহার করেননি। বরং চারণভূমির ব্যবহারের নীতি পূর্বের দুই খলিফা যেভাবে নির্ধারণ করেছিলেন, সেভাবেই তিনি পরিচালনা করেছেন। তবুও তিনিমিথ্যাচারের স্বীকার হন। আবুজার গিফারি (রা.) ইসলামি নির্দেশনার বাইরে মতবাদ প্রচার করলে, তা থেকে তাঁকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করলে তাকে নির্বাসন দেওয়া হয়। কাবাঘর সম্প্রসারণের ফলে ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণ নেননি। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বিদ্রোহীদের সাথে হাত মিলায়।পরিশেষে বলা যায়, দুর্ভাগ্যবশত হযরত উসমান (রা.)-এর ওপর বহু মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়। যার সাথে তার বিন্দু পরিমাণ সম্পর্কও ছিল না।