হ্যাঁ, দুমাতুল জন্দলের সালিশ বৈঠক ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এটি মুসলিম জাহানকে বিভক্ত করে এবং এর ফলে খারেজি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
হযরত আমর আল আসের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রে দুমার মীমাংসা ব্যর্থ হলে চরম হতাশা ও অরাজকতা তৈরি হয়। দুমাতুল জন্দলের রায় প্রহসনে রূপ নিলে হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়া স্ব-স্ব পদে বহাল থাকেন। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শিয়া ও খারিজি নামক দুটি উগ্র সাম্প্রদায়িক দলের সৃষ্টি হয় এবং তারা সমগ্র খিলাফতে অরাজকতা ও গোলযোগ সৃষ্টি করে। মুয়াবিয়া সিরিয়ায় নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে খিলাফত লাভের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখার পরিবর্তে উমাইয়া শাখাকে প্রাধান্য দিতে থাকে। অপরদিকে আলী (রা) মদিনা থেকে মুসলিম জাহানের রাজধানী কুফাতে স্থানান্তর করলে মদিনার মর্যাদা হ্রাস পায় এবং মদিনাবাসীরা হযরত আলী (রা)-কে সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। এ যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হযরত আলী (রা) ৬৬১ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি শাহাদত বরণ করেন। তার মৃত্যুর সাথে সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের অবসান ঘটে এবং মুয়াবিয়া কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে খিলাফতের পরিবর্তে উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ও খলিফার পদ বংশানুক্রমিক হয়ে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, দুমাতুল জন্দলের ফলস্বরূপ মুসলিম জাহানের শাসনক্ষমতা আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আলী (রা)-এর মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করলে সত্য ও ন্যায়ের যুগের অবসান হয় এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।