উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর জাতীয় সংসদের গঠন ও কার্যাবলির সাথে মজলিস-উশ-শূরার গঠন ও কার্যপরিধির বৈপরীত্য রয়েছে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও দেশের মানুষের সমস্যা, দেশের আর্থিক ও জনকল্যাণমূলক সকল বিষয়ে সংসদে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অপরদিকে, হযরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে কুরআন অনুযায়ী শাসন পরিচালিত হতো। তাই মজলিসে শূরায় আইন প্রণয়ন করা হতো না। তাছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এক কক্ষবিশিষ্ট হলেও মজলিস-উশ-শূরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
'শূরা' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ 'পরামর্শ'। প্রাক-ইসলামি যুগের দারুন নাদওয়ায় বায়োজ্যেষ্ঠ পরিষদের অনুকরণে রাসুল (সা.) এ পরামর্শ ব্যবস্থা চালু রাখেন। হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়কালেও এ ব্যবস্থা চালু ছিল। হযরত ওমর (রা.) এ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি সবসময় বলতেন, 'পরামর্শ ছাড়া খিলাফত চলতে পারে না'। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণাপরিষদ গঠন করেন, যা মজলিসে-শূরা বা মন্ত্রণাপরিষদ নামে পরিচিত। এটি দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. মজলিশ আল-খাস এবং ২. মজলিস আল-আম।
১. মজলিস আল-খাস: মজলিস আল-খাস ছিল উচ্চ পরিষদ। এটিকে Cabinet বলা হয়। এ পরিষদের সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা.), হযরত আলী (রা.), তালহা (রা.), যুবায়ের (রা.) আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবিয়া। মদিনা মসজিদে এ মন্ত্রণাপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হতো। মজলিস আল-খাসের পরামর্শ ছাড়া ওমর (রা.) কোনো কাজ সম্পাদন করতেন না। খলিফা মজলিস আল-খাসের পরামর্শক্রমে প্রশাসনে কর্মচারী, প্রাদেশিক শাসনকর্তা, বিচারক নিয়োগ দিতেন। এটি ছিল রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি।
২. মজলিশ আল-আম: মজলিস আল-আমের সদস্য ছিলেন প্রাদেশিক শাসক, মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুহাজির ও আনসাররা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মজলিস আল-আমের বৈঠক ডাকা হতো এবং সেখানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করলেও উমরের মজলিস-উশ-শূরা মূলত উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা পালন করত। তাই গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যপরিধির সাথে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিভিন্ন পার্থক্য রয়েছে।