উদ্দীপকে দেখা যায়, রেজাশাহ পাহলভী তার স্বৈরাচারী শাসনের জন্য ইমাম খোমেনীকে হুমকি মনে করে ফ্রান্সে নির্বাসনে পাঠান।
কেননা, ইমাম খোমেনী গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে সংঘটিত করে আন্দোলনের ডাক দেন। কিন্তু হযরত আবু জার আল গিফারী গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য আন্দোলনের ডাক দেন নি। তিনি ধন সম্পদ সঞ্চয়ের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি ধর্মভীরু ও তাপস ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মুসলমানদের ধনসম্পদ সঞ্চয়ের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি কুরআন শরিফের ৯নং সূরার ৩৪নং আয়াতকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন। কুরআন শরিফের ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রচার করতে থাকেন যে, ধনসম্পদ সঞ্চয় করার জন্য নয়, এটি জনহিতকর কাজে ব্যয় করার জন্য। তিনি সিরিয়ায় এ মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। মুয়াবিয়া (রা.) সুকৌশলে তাঁকে মদিনায় পাঠিয়ে দেন। মদিনাতেও তাঁর বিপ্লবী বাণী যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। খলিফা তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, যাকাত, উশর, ফেতরাসহ কুরআন শরিফে বর্ণিত সকল শর্ত পূরণ করে ধনসম্পদ সঞ্চয় করলে দোষের কিছু নেই। আবুজর গিফারি (রা.) তাঁর নিজস্ব মতবাদ প্রচার করতে অটল থাকেন। বাধ্য হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খলিফা তাকে 'রাবাদা' নামক স্থানে নির্বাসন দেন।
অতএব ইমাম খোমেনীর জীবন ও কর্মের সাথে হযরত আবুজর গিফফারীর জীবন ও কর্মের নানা বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।