খলিফা হযরত উমর (রা.) খিলাফতের রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি সুশৃঙ্খল রাজস্বব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
হযরত উমর (রা.)-এর রাজস্বব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (ক) আয় ও (খ) ব্যয়। হযরত উমর (রা.)-এর আমলে রাজস্বের উৎস ছিল ৭টি। যথা- ১. আল গনিমত, ২. আল যাকাত, ৩. আল উশর, ৪. আল জিজিয়া, ৫. আল খারাজ, ৬. আল ফাই ও ৭. আল হিমা। যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব শত্রুসম্পদ মুসলিম সৈনিকদের হাতে আসত, সেগুলোকে গনিমত বলা হতো। ৪/৫ ভাগ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের মাঝে এবং ১/৫ ভাগ বায়তুল মালে জমা হতো। ১/৫-কে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হতো। মহানবি ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের অংশ দিয়ে সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম এবং অবশিষ্ট অংশ দিয়ে কুরআনের নির্দেশমতো নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজে ব্যয় হতো। যাকাত একটি শরিয়ত অনুমোদিত কর। কাজেই এর নিয়মকানুন কোনো যুগেই পরিবর্তন হয়নি। হযরত উমর (রা.)-এর আমলে ঘোড়ার 'ব্যবসায় লাভজনক হওয়ায় ঘোড়ার ওপর যাকাত 'ধার্য করা হতো। যাকাত কুরআনের নির্দেশিত খাতে খরচ করা হতো। সামরিক ও বেসামরিক খাতে, রাজকর্মচারীদের বেতন এবং জনহিতকর কার্যে ব্যয় করার পর যা উদ্বৃত্ত থাকত, তা বণ্টনের জন্য এ বিভাগ একটি ভাতাভোগী তালিকা প্রণয়ন করতেন। তিনি রাজস্বের সঠিক হিসাব রাখার জন্য দিওয়ান-উল-খারাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া আদায়কৃত রাজস্ব সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য বাইতুল মাল গঠন করেন।