উদ্দীপকের উল্লিখিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের (৬৫৭ খ্রি.) প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।হযরত আলী (রা.) ৬৫৬ সালে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। উক্ত পরিস্থিতি নির্মূলে প্রাদেশিক শাসনকর্তার রদবদল করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। খলিফা কালবিলম্ব না করে বসরা, কুফা, মিশর ও সিরিয়ার শাসনকর্তাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। অন্যান্য শাসনকর্তারা। খলিফার নির্দেশ মান্য- করলেও সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া খলিফার নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা ও অবাধ্যতার উপযুক্ত জবাব এবং ইসলামে ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষার জন্য হযরত আলী (রা.) ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ৫০,০০০ সৈন্যসহ সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হন। খলিফার এ অগ্রগতির সংবাদে কালবিলম্ব না করে মুয়াবিয়াও ৬০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে সিফফিন নামক প্রান্তরে উপস্থিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েও হযরত আলী (রা.) মুসলমানদের অহেতুক রক্তপাত এড়ানোর জন্য মুয়াবিয়াকে বশ্যতা স্বীকার করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় আহ্বান জানান। কিন্তু মুয়াবিয়া খলিফার আহ্বানে সাড়া দেওয়া তো দূরের কথা, খলিফা উসমান (রা)-এর হত্যাকারীদের তৎক্ষণাৎ শাস্তিবিধানে অসম্মতিজ্ঞাপন করায় তাঁকে বৈধ খলিফা বলে। মানতেও অস্বীকার করেন। মুয়াবিয়ার এরূপ ঔদ্ধত্যের কারণে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং ৬৫৭ সালে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।