উক্ত খলিফার ওসমানের করুণ পরিণতির কারণ ছিল তার চারিত্রিক কোমলতা ও সরলতা।হযরত উসমান (রা.)-এর দুর্বল প্রকৃতি তার দুর্ভাগ্যের অন্যতম কারণ ছিল। তিনি ছিলেন সহজ-সরল, ধর্মপ্রাণ ও দয়ালু খলিফা। তিনি রক্তপাত পছন্দ করতেন না। সঙ্কটময় মুহূর্তে তাঁর সরলতা ও উদারতা মোটেই পরিস্থিতির উপযোগী ছিল না। তিনি অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধীকেও, ক্ষমা করতেন। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের তিনি শক্ত হাতে দমন করতে পারেননি। তাছাড়া মহানবি (সা.)-এর বিশ্বস্ত সাহাবিদের অনেকেই এ সময় জীবিত ছিলেন না, যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁরা হযরত উসমান (রা.)-কে বিপদের দিনে সৎ পরামর্শ ও সাহায্যদানে এগিয়ে আসেননি। ইসলামের মৌলিক লক্ষ্যের প্রতি ও জীবিত সাহাবিদের নিষ্ক্রিয়তা হযরত উসমান (রা.)-এর শত্রুদের হাতকে শক্তিশালী করেছিল। খলিফার দুর্বলতার সুযোগে তার প্রধান উপদেষ্টা মারওয়ান রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা করায়ত্ত করেন। উমাইয়াদের ধন-ঐশ্বর্যে প্রতিষ্ঠিত করে হাশেমিদের দুর্বল করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের উচ্চপদে উমাইয়াদের নিয়োগ করেন। মারওয়ানের এসব কুচক্রান্ত ও স্বার্থপর নীতি বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল, যা খলিফা ওসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করে। এদিকে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য তিনি একটি ভুল মতবাদ প্রচার করেন। তার মতে হযরত আলী (রা.) রক্তের সম্পর্ক এবং বৈবাহিক সূত্রে মহানবি (সা.)-এর একমাত্র উত্তরাধিকারী। এরূপ অপপ্রচার কুফা ও বসরায় জনপ্রিয়তা লাভকরে। যা হযরত উসমানের করুন পরিণতির জন্য দায়ী।