উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পদ্বয় হলো যথাক্রমে চিনিশিল্প ও সার। শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পদ্বয়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্পখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিনিশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রধান শিল্প। দেশে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আখ উৎপাদন বেশি হওয়ায় অধিকাংশ চিনিকল এ অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কলের মধ্যে ৯টি চালু আছে। এবং চিনি কলগুলোর বার্ষিক চিনি উৎপাদন ২.১০ লক্ষ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে দেশের বার্ষিক চিনির চাহিদা প্রায় ২২ লক্ষ মেট্রিক টন। তাই বাংলাদেশকে বিশ্ববাজার হতে চিনি আমদানি করতে হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের চিনি পরিশোধনাগারগুলো ১৮ লাখ টন কাঁচা চিনি আমদানি করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। ভূমির একরপ্রতি ফলন বাড়ানোর জন্য সারের প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে ২৬.৫০ লাখ টন সারের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে নানান সমস্যার কারণে প্রয়োজনীয় সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট উৎপাদিত সারের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ হাজার মেট্রিক টন। ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বাংলাদেশকে বিশ্ববাজার থেকে সার আমদানি করতে হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্ববাজার থেকে ৩১১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সার আমদানি করে।
অতএর উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাবের কারণেউক্ত শিল্পদ্বয় স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করতে পারেনি। ফলে প্রতিবছর বিশ্ববাজার হতে চিনি ও মার আমদানি করতে হয়, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।