বাংলাদেশে সেচের পানির সংকট মোকাবিলায় যেভাবে জলাধারে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রাকৃতিক পানির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির ঘাটতি দেখা দেয়, যা ফসল উৎপাদনে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা সমাধানে জলাধারে পানি সংরক্ষণ একটি টেকসই ও কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত। বর্ষাকালে যে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নদী-নালা, খাল-বিল ও নিচু জমিতে পড়ে অপচয় হয়, তা যদি পরিকল্পিতভাবে জলাধারে ধরে রাখা যায়, তাহলে তা শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। মাঠের পাশে ছোট ছোট পুকুর, খাল বা জলাধার খনন করে পানি ধরে রাখা যায়। উঁচু জমিতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। পুরনো খাল-বিল, পুকুর ও ডোবা সংস্কার করে তা পানির ধারক হিসেবে ব্যবহার করা গেলে অনেক কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়াও বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা, যেমন- বৃষ্টির পানি ধরে রাখার কৌশল এবং মাটির নিচে পানি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করলে কৃষিকাজে পানি সরবরাহ স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যায়। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমে যায় এবং পানি সংকট হ্রাস পায়। অতএব বলা যায়, জলাধারভিত্তিক পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা দেশের কৃষি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।