একটি বৈশাখী মেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে একটি দিনলিপি লেখ।
উত্তর: ১৪ই এপ্রিল, ২০২৫, রবিবার রাত ১০: ১৫ মিনিট বৈশাখী মেলায় একদিন অনেকটা সময় আজ আনন্দে কাটালাম। গতকাল চৈত্রসংক্রান্তিতে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে আজ পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে বরণ করে নিলাম। আজ সারাদিন বৈশাখী মেলায় ছিলাম। বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করে। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন এখন বাঙালির জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। নববর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বৈশাখী মেলার সূচনা। বৈশাখী মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এই মেলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন মেলা। প্রতিবারের মতো এবারও ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠ সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বসেছে বৈশাখী মেলা। পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী রুশো, রুমি, আমি বৈশাখি মেলায় যাই সকাল ৯টায়। প্রথমে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার সামনে অনুষ্ঠানে যাই। সেখানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমিসহ স্থানীয় শিল্পীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করি। রুমির ইচ্ছায় আমরা পান্তা ইলিশ খেলাম। সেখান থেকে বের হই সকাল ১১টায়। দুপুরের সূর্যের তাপে আমাদের তেষ্টা পেল। আমরা মেলায় ফিরে এসে ডাব খেলাম। রুমি বায়না ধরল, সে নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টি খাবে। সে একাই এক কেজি ওজনের একটি বালি মিষ্টি খেয়ে রুশোর সঙ্গে বাজিতে জিতে গেল। আমরা সন্দেশ খেলাম। তারপর ঘুরে ঘুরে মেলার নানা জিনিসপত্র দেখতে লাগলাম। নাগরদোলায় চড়ে শিশুরা আনন্দে মেতে উঠেছে। আমরা পুতুলনাচ দেখে অভিভূত হলাম। আঙুল দিয়ে সুতা টেনে কী চমৎকার নাচ দেখান শিল্পী কুশলীরা। একটু সামনে খোলা মাঠে লাঠি খেলা চলছে। লাঠিতে লাঠিতে আঘাত লাগছে, লোকজন হাততালি দিচ্ছে। একটু দূরে গাছের ছায়ায় বসেছে জারি গানের আসর। বয়াতি তার দল নিয়ে রং-বেরঙের পোশাকে নাচের তালে তালে জারি গান করছে। উন্মুক্ত মঞ্চে ম্যাজিক দেখাচ্ছে একজন ম্যাজিশিয়ান। সব বয়সের লোকেরা সেখানে ভিড় করেছে। আমরা তিনজন মেলায় ঘুরে ঘুরে নানা জিনিস দেখলাম। যেমন- গ্রামীণ কৃষিজাত পণ্য, মিষ্টান্ন দ্রব্য, কুটির শিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি। বাঁশ ও তালপাতাল রঙিন বাঁশি, ভেঁপু, একতারা, দোতারা, ডুগডুগি; রঙিন বেলুন, লাটিম, ঘুড়ি-নাটাই; মাটির ঘোড়া ইত্যাদি নানা কিছু নানাজনে কিনে কিনে ঘরে ফিরছে। রুশো ডুগডুগি কিনেছে। আমি খাবারের দোকানের দিকে এগিয়ে পেলাম। নানা রকম খাবার সাজানো হয়েছে, তাতে মিষ্টান্নই বেশি। কদমা, জিলিপি, বাতাসা, ছাঁচের মিঠাই কিনছে অনৈকে। তার পাশেই মুড়ি, মুড়কি, খই, চিড়ে, তিলের খাজা নানা কিছু দেখলাম। রুমিকে নিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। বালিশ মিষ্টি খেয়ে তার টালমাটাল অবস্থা। ঘুরতে ঘুরতে কখন বিকেল গড়িয়ে গেছে খেয়াল করিনি। মেলা থেকে নানা জিনিসপত্র কিনে আমরা ঘরে ফিরলাম। মেলা থেকে যখন বের হলাম তখন সন্ধ্যে ছয়টা ত্রিশ মিনিট। বৈশাখি মেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। বৈশাখি মেলার আনন্দ-অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আনন্দ কেবল অনুভব করা যায়। শামীম
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
একটি বৈশাখী মেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে একটি দিনলিপি লেখ।
উত্তর