আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বর্ণনা করে একটি ভাষণ রচনা করো।
উত্তর: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা-২০১৯ আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানের সম্মানীত সভাপতি, মাননীয় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সুধীমণ্ডলী- আস্সালামুআলাইকুম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের এ অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে আপনারা আমার শুভেচ্ছা নিন। দিন গড়িয়ে মাস হয়, মাস পেরিয়ে বছর, সকলই পতিত হয় অনন্তকালের গর্ভে। কিন্তু জীবনে এমন কিছু ক্ষণ আছে, দিন আছে যা কখনোই বিস্মৃত হওয়ার নয়। প্রতি বছরই সেসব দিন আসে মানুষের চেতনাবোধকে সমৃদ্ধ করতে। তেমনই একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন ২১শে ফেব্রুয়ারি। আজ মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটির তাৎপর্য অপরিসীম। ভাষার জন্য এতখানি ত্যাগ স্বীকার করেছে এমন জাতি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আপন সত্তা আবিষ্কারের মহিমা, অসাম্প্রদায়িক গণচেতনার বলিষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে। ভাষা শহিদদের পবিত্র সম্মস্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়েছে জাতীয় মর্যাদার প্রতীক শহিদ মিনার। এর প্রতিটি ইট যেন প্রতিনিয়ত ঘোষণা দিচ্ছে বাংলা ও বাঙালির শৌর্য-বীর্যের। আজ একুশ আরও অধিক তাৎপর্যের সঙ্গে মহিমান্বিত হয়েছে দুনিয়াব্যাপী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের প্রিয় একুশকে গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী সাড়ম্বরে পালিত হয় দিনটি। আলোচিত হয় বাংলা ও বাঙালির বীরত্বপূর্ণ ভাষা আন্দোলনের বিজয়গাথা। একুশ মানেই অসুন্দর ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে সুন্দর ও কল্যাণের চিরন্তন সংগ্রামের স্মারক। একুশ প্রতি বছরই আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে, সত্য প্রতিষ্ঠার দীপ্তমন্ত্রে উজ্জীবিত হতে শেখায়। বাংলাদেশের কৃষ্টি, সাহিত্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ জাতীয় চেতনার দিন অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। এদিন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। বাঙালির চেতনাগত উন্মেষের উৎকৃষ্ট মানদণ্ড একুশে ফেব্রুয়ারি। আজ সারাবিশ্ব বাঙালির এ অস্তিত্ব-চেতনার স্বীকৃতি দিয়েছে। দিবসটি আজ আর শুধু বাংলাদেশের একক সম্পত্তি নয়, পৃথিবীর ছোট-বড় সকল ভাষাগোষ্ঠীর কাছেই দিনটি আসে নতুন প্রেরণা ও উৎসাহ নিয়ে। এ আমাদের জন্য বড়ই আনন্দের, বড়ই গর্বের। পরিশেষে বলতে চাই, একুশ হোক জগতের সকল অনৈক্য, সংঘাত ও অশান্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতিয়ার। একুশ আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা দিবস। একুশ হোক সমুদ্রপথের ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ অন্ধকার রাতের আশার প্রদীপ। সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। ধন্যবাদ।
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বর্ণনা করে একটি ভাষণ রচনা করো।
উত্তর