অথবা, "১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি ভাষণ প্রস্তুত করো ।
উত্তর: "১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” সম্মানিত সভাপতি, সমাগত সুধীমণ্ডলী, সবার প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ক আজকের অনুষ্ঠানে আমার পূর্ববর্তী আলোচকরা অত্যন্ত তথ্যবহুল, প্রাসঙ্গিক ও হৃদয়গ্রাহী আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাসঙ্গিক বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের সামনে দু-চারটি কথা উপস্থাপন করতে চাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ই ডিসেম্বর এক অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিবস। এ দিনেই সুজলা, সুফলা, নদী বিধৌত বাংলা নামের ভূখণ্ড হানাদার মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। এ বিজয় একদিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আন্দোলন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাতে প্রথম বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। এর ফলে প্রায় দুশো বছর ইংরেজরা এদেশে তাদের শাসন, শোষণ পরিচালনা করে। তারপর দেশবাসী একসময় ব্রিটিশদের শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়। এরই মধ্য দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। ফলে পূর্ব বাংলা তথা বাংলার জনগণ পরাধীনই থেকে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক চক্রের শোষণ ও বৈষম্যপূর্ণ নীতির ফলে বাংলার জনগণ শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। এ নিরবচ্ছিন্ন বৈষম্যে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে, যার সূচনা ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ৬২ সালের ছাত্র অভ্যুত্থান, অভ্যুত্থান, ৬৬ ৬৬ সালের ৬ দফা, ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান পেরিয়ে ব্যাপক গণ-বিস্ফোরণের প্রতিফলন হিসেবে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি স্বৈরশাসকচক্র আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে না দিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে থাকে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের ঘুমন্ত নিরীহ জনসাধারণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫শে মার্চ মধ্যরাত শেষে, অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পরেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। এরপর থেকে শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। এদেশের সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণে এক সাগর রক্ত পেরিয়ে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা। তাই এত রক্ত, এত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা প্রত্যেক বাঙালির জাতীয় দায়িত্ব। সম্মানিত সুধীমন্ডলী, একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জনই শেষ কথা নয় বরং তা রক্ষা করাই মূল দায়িত্ব পরাশক্তির হাত থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করলেই স্বাধীনতা উদ্ধার হয় না। সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাথে সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জন করা একান্ত জরুরি। স্বাধীনতার ৪৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে আশানুরূপ সফলতা অর্জিত হয়নি। রাজনীতি হয়ে পড়েছে দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও সন্ত্রাসনির্ভর। আইনশৃঙ্খলার ক্রম অবনতি ঘটছে, অর্থনীতি হয়ে পড়ছে ঋণনির্ভর, শিক্ষাব্যবস্থা সংকটের কবলে নিমজ্জিত। এসব বিপ্রতীপ পরিস্থিতি থেকে দেশের উত্তরণ ঘটাতে হবে। এজন্যে দেশের সরকারি দল, বিরোধী দল, ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, শিল্পপতি প্রত্যেককেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাই এবারের বিজয় দিবসে সকলের অঙ্গীকার হোক দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার চেতনাকে রক্ষার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে। এটাই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
অথবা, "১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি ভাষণ প্রস্তুত করো ।
উত্তর