কোনো ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের অনুভূতি ব্যক্ত করে দিনলিপি রচনা কর।
উত্তর: ২০শে জানুয়ারি ২০২৩, শুক্রবার, সময়: রাত ১১.৩০ মি. একটি অসাধারণ আনন্দময় এবং শিক্ষণীয় দিনের সমাপ্তি হয় আজ। মনে একটি আনন্দ ও কৌতূহলের আমেজ নিয়ে ঘুম ভাঙে ভোর ৫টায়। ঘুম ভাঙতেই মনে হয় আজ আমরা কলেজে থেকে লালবাগ কেল্লা ভ্রমণ করতে যাব। এই ভ্রমণের আয়োজন করেছে আমাদের কলেজের ইতিহাস বিভাগ। এই ভ্রমণের আমার সঙ্গী হয় আমার অনেক বন্ধুরা। যাদের সাথে এই আনন্দময় ভ্রমণ করেছি তাদের কয়েকজনের নাম এখানে না বললেই নয়। নদী, প্রিয়ন্তী, জান্নাত, সৌরভ, ফাহিম, সিফাত, রিয়ানা, তিথি, মনিরা, বৃষ্টি, মৌমিতা, নামিসা, বিভোর, মারিতা, তাসনিম, সুমাইয়া, মৃদুলা প্রমুখের সঙ্গ আমার ভ্রমণকে আনন্দময় করেছে ব্যাপকভাবে। ভ্রমণসূচি অনুযায়ী যথারীতি আমরা দুপুর ১২টায় লালবাগ কেল্লায় পৌঁছাই। সু-উচ্চ প্রাচীরঘেরা বর্গাকৃতির লালবাগ কেল্লার প্রথমেই নজরে আসে বিশাল তোরণ বা ফটক। এতে মোট তিনটি ফটক আছে, যার দুটি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভিতরে প্রবেশ করলেই পাওয়া যায় একটি বাগান। বাগান ঘেরা পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে আনন্দের অনুভূতি জাগায়। সোজা একটু ভিতরে গেলেই সামনে পড়ে শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা পরীবিবির সমাধিসৌধ। ১৬৮০-৮৮ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময় পরীবিবি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শায়েস্তা খান ব্যয়বহুল এ সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। একটি পুকুর রয়েছে কেল্লার পূর্ব প্রান্তে। পেছনে রয়েছে সৈনিকদের ব্যারাক; যা বর্তমানে আনসার ক্যাম্প। কেল্লার ভিতরে রয়েছে একটি মসজিদ। এটি সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা আযম বাংলার সুবেদার থাকার সময় নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটি আয়তাকারে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট। এ মসজিদটি এদেশের প্রচলিত মুঘল সমজিদের একটি আদর্শ নিদর্শন। ভিতরে আরো রয়েছে শায়েস্তা খানের বাসভবন। বাসভাবনের পাশে একটি কামান। এই কামানটি সেই সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যবহৃত হতো। লালবাগ কেল্লায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় যে জিনিসটি আছে তা হলো সুবেদার শায়েস্তা খানের বাসভবন ও দরবার হল। ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের এ এক অনন্য নিদর্শন। এছাড়াও এ স্থানে রয়েছে সিংহাসনে বসা সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রতিকৃতি, আসফ শাহ বাহাদুরের প্রতিকৃতি, মধুমতি অঙ্কিত একটি চিত্র, উটের নাচ, বন্যজন্তু, যুবরাজ ও রাজ তনয়ার অশ্ব চালনা, বৃক্ষ ছায়ায় চিন্তামগ্ন খাজা হাফিজ সিরাজ, অমাত্যদের আঘাতে রক্তাক্ত দুটি মানুষকে অবলোকনের চিত্র। বস্তুত, ঐতিহাসিক এই স্থান ভ্রমণ করে আমাদের অতীত ঐতিহ্য সম্বন্ধে যে অভিজ্ঞতা লাভ করলাম তা চিরদিন স্মৃতির ভাণ্ডারে অক্ষয় হয়ে থাকবে। ঐতিহাসিক এই স্থান ভ্রমণ করে আমরা যখন কলেজে পৌঁছাই তখন রাত ৮টা। এই ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের কিছু দায়িত্ব আমার উপরও ছিল। দায়িত্ব শেষ করে যখন বাসায় ফিরি তখন ঘড়িতে ১০টা বাজে। রাতের আহার শেষ করতে করতেই ক্লান্ত দেহ ঘুমের রাজ্যে প্রবেশের জন্য ব্যাকুল। এখন রাত ১০টা বেজে ৩০ মিনিট। এখনই নিজেকে বিছানায় সমর্পণ করবো।
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
কোনো ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের অনুভূতি ব্যক্ত করে দিনলিপি রচনা কর।
উত্তর