দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: প্রতিবেদনের প্রকৃতি : অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রতিবেদনের শিরোনাম : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন তৈরির স্থান : জনজীবন বিপর্যস্ত প্রতিবেদন তৈরির সময় : ঢাকা প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা : সকাল ৯টা প্রতিবেদন তৈরির তারিখ : মনিরা আহমদ, মুগদাপাড়া, ঢাকা ১৭ই এপ্রিল, ২০২৫ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: জনজীবন বিপর্যন্ত নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, সকাল ৯টা: জীবজগতের প্রতিটি জীব তথা প্রাণীকেই খেয়ে-পরে জীবনধারণ করতে হয়। মানুষ জন্মের পর থেকেই বাঁচার তাগিদে তার প্রয়োজনীয় দ্রব্য স্থিতি করতে শিখেছে। সভ্যতার অগ্রগতি হয়েছে আর দ্রব্যের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে পণ্ডিত মানুষেরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছেন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা মোটামুটি পাঁচ ভাগে চাহিদাগুলোকে ভাগ করা হয়েছে। আর এ চাহিদাগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যই হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, যা না হলে মানুষের একদন্ডও চলে না। তাহলে খুব সহজেই অনুমেয়, এর কোনো একটি দ্রব্যের মূল্য যদি ক্রেতার সাধ্যের বাইরে চলে যায় তাহলে তার জীবন অনেকাংশে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের দিকে একটু সচেতন দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কী রকম উর্ধ্বগতি। খাওয়া-পরার জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি দ্রব্যসামগ্রীর দাম বু হু করে বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করছে দ্রব্যের মূল্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন দ্রব্যের এ মূল্যবৃদ্ধি। খুব সহজেই এর কারণগুলোকে চিহ্নিত করা যায়। ব্যবসায়ী শ্রেণির মুনাফালোভী মনোভাবকেই এর জন্য দায়ী করা যায়। এছাড়া আরও ছোট ছোট কিছু কারণ রয়েছে, তবে সেগুলো গৌণ। মজুতদাররা দ্রব্য গুদামজাত করে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেল কি না সেদিকে তাদের 'খেয়াল খুব কমই। তাদের ধারণা যেহেতু দ্রব্যটি মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম সেহেতু যেকোনো উপায়ে দ্রব্যটি তারা ক্রয় করতে বাধ্য। দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতিতে কেবল মজুতদার শ্রেণি নয়, বিভিন্ন এনজিও, সাম্রাজ্যবাদী চক্র ও পুঁজিপতি শ্রেণিরও হাত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আর একটি কারণ হচ্ছে-সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘভাতা 'বৃদ্ধি। সরকারি চাকরিজীবীরা যে হারে মহার্ঘভাতা পেয়ে থাকেন দ্রব্যের মূল্য সে হারে না বেড়ে বরং জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। ফলে তাদের মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি কেবল স্বপ্নের জাল বোনার মতো। তাছাড়া বেসরকারি বা আধা সরকারি চাকরিজীবীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে বাজারে গেলেই তাদের নাভিশ্বাস ওঠে। তাই সরকার, সচেতন শ্রেণি ও সর্বস্তরের জনসাধারণের উচিত এর প্রতিকারের জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে তা হলো- মুনাফালোভী, দুর্নীতিবাজ কালোবাজারি-ব্যবসায়ী শ্রেণি, ঘুসখোর কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে হবে। কৃষিপণ্যে ভর্তুকি দিতে হবে, বাজার মানটারিং জোরদার করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী মুনাফাচক্রকে রোধ করতে হবে। তাহলেই দ্রব্যের মূল্য হ্রাস পাবে। জনমনে হতাশা, ক্ষোভ দূর হয়ে শান্তি ফিরে আসবে। বাজারে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে জনমানসের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে- এ আশা রেখে শেষ করছি। [বি. দ্র.: এখানে খাম এঁকে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হবে।
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর