কোনো একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের উপর একটি দিনলিপি রচনা কর।
উত্তর: ২৩.০৫.২০২৫, শুক্রবার রাত ১১:০০ মিনিট ঐতিহাসিক স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ভ্রমণ ঐতিহাসিক স্থান এমন একটি স্থান যা ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। অতীত ইতিহাসের পাতায় রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা। ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করা শুধু আকর্ষণীয় এবং বিনোদনের জন্য নয়, বরং শিক্ষামূলকও। সময় ও সুযোগ পেলেই আমি দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করি। কারণ এটি আমাকে অনেক আনন্দ দেয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের সহায়তা করে এবং এজন্য আমি বিশেষ এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করি। এই আকর্ষণেই আজ হাজির হয়েছিলাম পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে, যা সোমপুর বিহার নামেও পরিচিত। এর অবস্থান নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপেজেলার পাহাড়পুর গ্রামে। সকাল দশটায় আমরা সবান্ধব পাহাড়পুরে পৌঁছালাম। স্থানীয় রেস্টুরেন্টে সকালের নাশতা খেয়ে বিহারটি পরিদর্শনে মনোনিবেশ করলাম। এটি পালবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতাব্দীতে নির্মাণ করেন। ১৯৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে UNESCO কর্তৃক এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়। বিহারটি ভালোভাবে আমরা পরিদর্শন করলাম, লক্ষ করলাম এটির ভূমি পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। চারদিকে চওড়া সীমানা দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং তিন দিকের বাহুতে ৪৪টি করে কক্ষ ছিল। কোনো কোনো কক্ষে কুলুঙ্গি এবং মেঝেতে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত নানা দ্রব্য পাওয়া গিয়েছে। ভেতরের উন্মুক্ত চতুরের সিঁড়ি আজও বিদ্যমান। বিহারের ভেতরে দেখতে পেলাম চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। মন্দিরে শীর্ষদেশের কোনো নিদর্শন নেই, তাই ছাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে প্রায় ৪৯ মিটার দক্ষিণে আনুমানিক ৩-৫ মিটার প্রশস্ত স্নানঘাট দৃশ্যমান হয়। অনুমান করা হয়, এই ঘাট নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। পশ্চিমে উদগত একটি দেওয়ালের বাইরের দিকে রয়েছে একটি বর্গাকার পূজার কক্ষ। মন্দিরের সামনের দিকে রয়েছে বিশাল চত্বর। মূল বিহার থেকে বেরিয়ে গেলাম পাহাড়পুর সংলগ্ন জাদুঘরে। সেখানে দেখলাম বেলেপাথরের চামুণ্ডা মূর্তি, লালপাথরের শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণপাথরের বিষ্ণু মূর্তি, মনসা মূর্তি, দুবলহাটির মহারানির তৈলচিত্র ইত্যাদি। ঘুরতে ঘুরতে দিনের আলো প্রায় শেষ হয়ে আসছে দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রেলস্টেসনের দিকে রওয়ানা হলাম। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে আসাটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের ছিল। এটা সত্যিই খুব স্মরণীয় সফর ছিল। এই সফরের মধুর স্মৃতি আমাদের মনে চিরদিন সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। রাত নয়টায় বাসায় পৌঁছালাম। অপূর্ব, রাজশাহী
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
কোনো একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের উপর একটি দিনলিপি রচনা কর।
উত্তর