মহান বিজয় দিবস কীভাবে কাটিয়েছ তার বর্ণনা দিয়ে একটি দিনলিপি রচনা কর।
উত্তর: ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০: ০০ মিনিট বিজয় দিবস উদযাপন ভোর পাঁচটায় ঘুম ভেঙে গেল। মা উঠে গেছেন আগেই। নাশতা তৈরি করছেন। আমাকে তাড়াতাড়ি তৈরি হতে বললেন। আজ বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাস ধরে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ শত্রুমুক্ত হয়। এই দিন চূড়ান্ত পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদেশের অকুতোভয় ও পরাক্রমশালী যৌথবাহিনীর (মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনা) কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে । ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। কাজেই আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য পরম পবিত্র ও তাৎপর্যময় দিন 1 আমাদের কুমুদিনী কলেজ থেকে সকাল ৬টায় বিজয় র্যালি বের হবে। না আমি যথাসময়ে পৌছে 'জয় বাংলা' স্লোগানমুখর বিজয় র্যালিতে অংশ ছু নিলাম । শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয় র্যালি আবার কলেজ গেটে এসে থামল। আমরা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম। সেখানে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা না, পালন করলাম । তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া প্ৰাৰ্থনা করা হলো। পাশেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করলেন কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়। ছবিগুলো সংগ্রহ করেছে 'আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান'রা। এতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫শে মার্চের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ, পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের হত্যাযজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, নারীর সম্ভ্রম হরণ, নির্যাতন, গ্রামে গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য, পরাজিত পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হটা, মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন, খণ্ডযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন বৈঠক, এলাকাবাসীর সতর্ক অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে চিত্রগুলো চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল সেগুলো অপূর্ব দীপ্তি ছড়াল হৃদয়জুড়ে। সকাল ৯টায় কলেজ মিলনায়তনে শুরু হলো আলোচনা সভা। পর্যাক্রমে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি হলো। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল, বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুন। তাঁদের তথ্যনির্ভর ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমি একটি পূর্ণ ধারণা লাভ করলাম। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করছিল কলেজের ছাত্রীরা। আমিও কবি শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি আবৃত্তি করেছি। মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতারা দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছিল । এই উজ্জীবিত হৃদয় দেশ ও জাতির কল্যাণে অকৃপণভাবে নিবেদিত হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে দৃপ্ত সৈনিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ মহোদয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন। বাসায় ফিরে এসে মাকে আমার অনুভূতি জানালাম। যাঁরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন তাঁদের মতো দেশপ্রেমিক হতে মা আমাকে আশীর্বাদ করলেন। টিভিতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর রাত ১১টায় ঘুমাতে গেলাম । জয়িতা টাঙ্গাইল
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
মহান বিজয় দিবস কীভাবে কাটিয়েছ তার বর্ণনা দিয়ে একটি দিনলিপি রচনা কর।
Comilla · 2025
উত্তর
উত্তর
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান প্রতিবেদন
১. গত ১১ মার্চ ২০২৫ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারেও কলেজের নিয়মিত বার্ষিক প্রতিযোগিতা বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সবার আন্তরিকতা সহযোগিতা ও গতিশীল উদ্যম লক্ষ করা গেছে।
২. অন্য বছরের তুলনায় এবারে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিষয় যেমন বেশি ছিল তেমনি ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। ফলে অনেক বেশি শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছিল।
৩. ১১ মার্চ, ২০২৫ সকাল ন'টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য ক্রীড়াবিদ গাজী সালাউদ্দিন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জাতীয় সংগীত ও সকল শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
৪. ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিষয়ের মধ্যে প্রধানত ১০০ মিটার ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার ও ৮০০ মিটার ও ১৫০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, দন্ড যোগে লাফ, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, ভার উত্তোলন, টেবিল টেনিস এবং রিলে দৌড়। ক্রীড়ানুষ্ঠানে পুরস্কার (৪টি) অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে একাদশ শ্রেণির নীপা রায় এবং দ্বাদশ শ্রেণির আবু সাঈদ চৌধুরী। যেমন খুশি তেমন সাজ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সবাইকে শুভেচ্ছা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৭. প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্য পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে কলেজের শিক্ষকদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের প্রশংসা ও ক্রীড়ানুষ্ঠান পরিচারনা কমিটিকে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কলেজ অধ্যক্ষ মহোদয়, ধন্যবাদ জানান।
৮. অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপ্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কোথাও কোনো অসংগতি দেখা যায়নি।
৯. কলেজে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাজেটের মধ্যেই 'বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ যথার্থভাবে সম্পাদন করেছেন। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় হিসাব কমিটি যথা সময়ে পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠান আপ্যায়ন কমিটিও তাদের খরচ সমন্বয় করে যথা সময়ে কলেজের হিসাব শাখায় জমা দিবেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক
'ক'
সদস্য/ছাত্র প্রতিনিধি, বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ।
[বি. দ্র.: এখানে খাম এঁকে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হবে।]