SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
আঠারো বছর বয়সে নেই ভয়
পদাঘাতে ভাঙতে চায় পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।
এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।
ক
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
উত্তর
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ছাত্রীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ।
খ
"সেদিন ৫ই আগস্ট ২০২৪ – ৩৬শে জুলাই।” ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
"সেদিন ৫ই আগস্ট ২০২৪ – ৩৬শে জুলাই।"- কথাটি বাঙালির প্রতিবাদী চেতনার ধারক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাংলার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রসহ সাধারণ জনতার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই পেরিয়ে আগস্ট মাস আসে। কিন্তু স্বৈরাচারের অত্যাচারের অবসান হয় না। যেন ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে দুর্বিষহ জুলাই শেষই হচ্ছে না। সেই ধারাবাহিকতায় আগের জুলাই মাসের দিনের সঙ্গে আগস্ট মাসের ৫ দিন যোগ করে বলা হয়েছে ৩৬শে জুলাই, যা বাঙালির হার না-মানা প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
গ
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার কোন দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় উল্লিখিত বৈষম্য নিরসনে তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ে তোলার দিককে নির্দেশ করে।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় দেখানো হয়েছে শিক্ষার্থী তথা তরুণরাই হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ। তারুণ্যের অমিতশক্তি যেকোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি আঠারো বছর বয়সি তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। তার মতে, এ বয়সিরা পাথর বাধাকে চূর্ণ করে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে নিজেদের শপথের কোলাহলে সঁপে দেয়। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে তারা বুকের রক্ত ঢেলে দিতেও পিছপা হয় না। একইভাবে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠেছে। সেখানে বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আত্মশপথে বলীয়ান হয়ে তারা আন্দোলনে নামে। উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার এ দিকটিকেই নির্দেশ করে।
ঘ
“উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার তরুণ শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে যথাযথ প্রতিফলিত করতে পেরেছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
তরুণদের অদম্য সাহস ও সংগ্রামী চেতনার দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার তরুণ শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে যথাযথ প্রতিফলিত করতে পেরেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় ফ্যাসিবাদী সরকারের বিপক্ষে গণমানুষের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে সম্মিলিত শক্তির কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য একটা সুন্দর দেশ বিনির্মাণের সুযোগ এনে দিয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তারুণ্যের নানা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এ বয়সি তরুণরা অকুতোভয় ও স্বাধীনচেতা মনোভাবের হয়ে থাকে। আত্মশপথে বলীয়ান এসব তরুণের কাছে পথের যেকোনো বাধাই যেন তুচ্ছ। মাতৃভূমির প্রয়োজনে এরাই সবার আগে এগিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, এ বয়সিরা আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে রক্তমূল্য দিতেও পিছপা হয় না।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে উপজীব্য করা হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের অবসান হয় এবং এ দেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ পায়। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই আন্দোলনে তরুণ শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বলতে গেলে তারাই ছিল এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আত্মশপথে বলীয়ান হয়ে তারা আন্দোলনে নামে এবং বহু প্রাণের মূল্যে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। এর পশ্চাতে ছিল তারুণ্যের অমিতশক্তি, ভেজ ও আত্মত্যাগের দৃপ্ত শপথ, যা কবিতাংশটিতে বর্ণিত তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যকেই নির্দেশ করে। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো