নিরীহ বাঙালি বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর নিরীহ বাঙালি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১২১

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিনি আফরোজা আক্তার। একজন পোশাকশ্রমিক, থাকেন সাভার রেডিও কলোনিতে। সেদিন ভবনধসের খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলেন। শুধু প্রাণের টান থেকেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। প্রচণ্ড ব্যস্ততায় কেটেছে আফরোজার ক'টা দিন। ক্ষণিকের বিশ্রাম পেয়েও আফরোজা যেন সুস্থির হতে পারছিলেন না। দু দণ্ড কথা বলার ফুরসত নেই।
বিশ্বজগতের কী দ্বারা বাঙালি গঠিত হয়েছে?

উত্তর

বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা দ্বারা বাঙালি গঠিত হয়েছে।
"আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙালি।" এ কথা লেখিকা কেন বলেছেন?

উত্তর

বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি কটাক্ষ করে লেখিকা আলোচ্য কথাটি বলেছেন। প্রাবন্ধিক বাঙালি নর-নারীদের পর্যবেক্ষণ করে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত করেছেন। বাঙালি পুরুষেরা অলস, আরামপ্রিয়, শ্রমবিমুখ। তারা মুখে বড়ো বড় কথা বলে ঠিকই, কিন্তু কাজের বেলায় একেবারে ফাঁকা। আর বাঙালি নারীরা অহেতুক রূপচর্চা পরচর্চা আর নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সর্বদা ব্যস্ত। এ কারণে লেখিকা বাঙালিদের দুর্বল, নিরীহ বলেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর

বাঙালির সাহসিকতার পরিচয় উপস্থাপনে উদ্দীপকের সঙ্গে-নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে নিরীহ বাঙালি বলতে লেখিকা এমন এক জাতি বুঝিয়েছেন যারা শান্ত, অলস ও নিষ্ক্রিয়। এই নিরীহতাকে হচ্ছে একধরনের স্থবিরতা ও অলসতা, যা বাঙালির জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি চরিত্রের নেতিবাচক দিকসমূহ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে বাঙালিরা পরিশ্রম করতে চায় না। তাই কৃষিকাজ অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে পড়াশোনার দিকে তাদের বেশি ঝোঁক। বাণিজ্যের কঠিন পরিশ্রমকে তারা বর্জন করে বাণিজ্যকে সহজ ও সুসাধ্য করেছে। উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালি চরিত্রের বিপরীত বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে একজন নারীর সাহসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। অপরের বিপদ দেখে তিনি বসে, থাকতে পারেননি, অবিরাম কাজ করেছেন। এভাবে বাঙালির সাহসিকতার পরিচয় উপস্থাপনে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবেন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বিপরীত ভাবেরই ধারক।" মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি চরিত্রের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে "উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বিপরীত ভাবেরই ধারক" মন্তব্যটি যথার্থ। নিরীহ বাঙালির মধ্যে রোকেয়া দেখেছেন একধরনের 'মূর্তিমান আলস্য'। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাঙালিরা অলসতাকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করেছে, যা তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি নিরুৎসাহিত করে, ফলে তারা অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত বাঙালিকে সচেতন করতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, বাঙালি অলস, শ্রমকাতর। আর বাঙালি নারীরা অকাজে সময় অপচয় করে এবং সব সময় নিজেদের দুর্বল-অবলা প্রমাণিত করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে উদ্দীপকে একজন নারীর সাহসিকতার পরিচয় পাই। তিনি ভীতু নন, শ্রমকাতর নন, এমনকি নিজেকে অবলা প্রমাণের কোনো চেষ্টাই তার মধ্যে নেই। অপরের বিপদে তিনি এগিয়ে এসেছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির কর্মবিমুখতার প্রতি কটাক্ষ করেছেন। এ প্রবন্ধে বাঙালি যে পরিশ্রম করে ভাগ্যের উন্নয়নে আগ্রহী নয় তা তিনি তুলে ধরেছেন। এখানে বাঙালির নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশিত হলেও উদ্দীপকে বাঙালির ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠেছে। এতে বাঙালির সংগ্রাম ও সাহসিকতার পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠেছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিনি আফরোজা আক্তার। একজন পোশাকশ্রমিক, থাকেন সাভার রেডিও কলোনিতে। সেদিন ভবনধসের খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলেন। শুধু প্রাণের টান থেকেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। প্রচণ্ড ব্যস্ততায় কেটেছে আফরোজার ক'টা দিন। ক্ষণিকের বিশ্রাম পেয়েও আফরোজা যেন সুস্থির হতে পারছিলেন না। দু দণ্ড কথা বলার ফুরসত নেই।
বিশ্বজগতের কী দ্বারা বাঙালি গঠিত হয়েছে?

উত্তর

বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা দ্বারা বাঙালি গঠিত হয়েছে।
"আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙালি।" এ কথা লেখিকা কেন বলেছেন?

উত্তর

বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি কটাক্ষ করে লেখিকা আলোচ্য কথাটি বলেছেন। প্রাবন্ধিক বাঙালি নর-নারীদের পর্যবেক্ষণ করে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত করেছেন। বাঙালি পুরুষেরা অলস, আরামপ্রিয়, শ্রমবিমুখ। তারা মুখে বড়ো বড় কথা বলে ঠিকই, কিন্তু কাজের বেলায় একেবারে ফাঁকা। আর বাঙালি নারীরা অহেতুক রূপচর্চা পরচর্চা আর নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সর্বদা ব্যস্ত। এ কারণে লেখিকা বাঙালিদের দুর্বল, নিরীহ বলেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর

বাঙালির সাহসিকতার পরিচয় উপস্থাপনে উদ্দীপকের সঙ্গে-নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে নিরীহ বাঙালি বলতে লেখিকা এমন এক জাতি বুঝিয়েছেন যারা শান্ত, অলস ও নিষ্ক্রিয়। এই নিরীহতাকে হচ্ছে একধরনের স্থবিরতা ও অলসতা, যা বাঙালির জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি চরিত্রের নেতিবাচক দিকসমূহ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে বাঙালিরা পরিশ্রম করতে চায় না। তাই কৃষিকাজ অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে পড়াশোনার দিকে তাদের বেশি ঝোঁক। বাণিজ্যের কঠিন পরিশ্রমকে তারা বর্জন করে বাণিজ্যকে সহজ ও সুসাধ্য করেছে। উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালি চরিত্রের বিপরীত বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে একজন নারীর সাহসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। অপরের বিপদ দেখে তিনি বসে, থাকতে পারেননি, অবিরাম কাজ করেছেন। এভাবে বাঙালির সাহসিকতার পরিচয় উপস্থাপনে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবেন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বিপরীত ভাবেরই ধারক।" মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি চরিত্রের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে "উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বিপরীত ভাবেরই ধারক" মন্তব্যটি যথার্থ। নিরীহ বাঙালির মধ্যে রোকেয়া দেখেছেন একধরনের 'মূর্তিমান আলস্য'। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাঙালিরা অলসতাকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করেছে, যা তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি নিরুৎসাহিত করে, ফলে তারা অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত বাঙালিকে সচেতন করতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, বাঙালি অলস, শ্রমকাতর। আর বাঙালি নারীরা অকাজে সময় অপচয় করে এবং সব সময় নিজেদের দুর্বল-অবলা প্রমাণিত করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে উদ্দীপকে একজন নারীর সাহসিকতার পরিচয় পাই। তিনি ভীতু নন, শ্রমকাতর নন, এমনকি নিজেকে অবলা প্রমাণের কোনো চেষ্টাই তার মধ্যে নেই। অপরের বিপদে তিনি এগিয়ে এসেছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির কর্মবিমুখতার প্রতি কটাক্ষ করেছেন। এ প্রবন্ধে বাঙালি যে পরিশ্রম করে ভাগ্যের উন্নয়নে আগ্রহী নয় তা তিনি তুলে ধরেছেন। এখানে বাঙালির নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশিত হলেও উদ্দীপকে বাঙালির ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠেছে। এতে বাঙালির সংগ্রাম ও সাহসিকতার পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠেছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে, সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ। জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে। হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান। \ldots \ldots \ldots শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার- তবু মাথা নোয়াবার নয়।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাদের পদ্যের অশ্রুজলের বন্যায় বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাঙালি নারীদের বিলাপ-প্রলাপপূর্ণ পদ্যের অশ্রুজলের বন্যায় বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের স্বভাবকবি বলে হাস্যরস করেছেন। তারা বিনা কারণে কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটিয়ে থাকে। তারা তাদের ব্যক্তিজীবনের অভাব, দারিদ্র্য, দুঃখ সামনে এনে এ ধরনের অশ্রুপ্রবাহ ঘটায়। অথচ তারা এই দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা চালায় না। তারা তাদের কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটাতে গিয়ে বিশেষণের অতিশায়নের মধ্য দিয়ে নানাবিধ নতুন শব্দ উৎপাদন করে, যা অশ্রুপ্রবাহের উপযোগী। প্রশ্নোক্ত বাক্যে লেখিকা বাঙালি নারীদের কাব্যক্ষেত্রে সেই বাড়াবাড়ি তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বাঙালির সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বাঙালির সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির স্বভাবগত ভীরুতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা আত্মপ্রশংসার পরিবর্তে কর্মমুখী হয়ে আত্মোন্নতির পথে অগ্রসর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতিকে দুর্বল নিরীহ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের আচরণ। এরূপ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে বাঙালির দেহ তৈলসিক্ত কোমল। স্বভাবও তাই ভীরু। উদ্দীপকে বাঙালি জাতির ঠিক বিপরীত স্বভাবটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বাঙালির সাহসী জাগরণ বর্ণিত হয়েছে। নিরীহ মাটিতে সচেতনতার ফসল ফলিয়ে পুরো বিশ্বের বুকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে বাঙালি জাতির স্বভাবগত ভীরুতার দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের আলোকে বাঙালির প্রকৃত স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি জাতির প্রকৃত স্বরূপ হিসেবে তাদের সহজ সহনশীলতা, আবেগপ্রবণ মানসিকতা এবং আত্মসমালোচনার অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালি অলস, অকর্মণ্য ও আরামপ্রিয় জাতি। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের আত্মোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। নিজেদের শক্তি ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই অলসতা থেকে মুক্তি না পেলে বাঙালি কোনোদিনও উন্নতি করতে পারবে না। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনাচরণের নানা দিক হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। বাঙালির আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর মানসিকতা; তাদের স্ত্রীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক চেষ্টাকে লেখিকা তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বাঙালি জাতির অধিকার সচেতন আত্মজাগরণ ঘোষিত হয়েছে। তাদের সদম্ভ আত্মজাগরণে সারা বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। উদ্দীপকে বাঙালির সচেতন কর্মপ্রচেষ্টার দ্বারা বিপ্লবের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। বাঙালির এ জাগরণ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের লেখিকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মধ্য দিয়ে বাঙালি নারী-পুরুষকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। ফলে এটি বাঙালিকে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়। 'এ দিক বিচারে উদ্দীপকে যে জাগরণ ঘটেছে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে তারই প্রণোদনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে, সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ। জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে। হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান। \ldots \ldots \ldots শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার- তবু মাথা নোয়াবার নয়।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাদের পদ্যের অশ্রুজলের বন্যায় বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাঙালি নারীদের বিলাপ-প্রলাপপূর্ণ পদ্যের অশ্রুজলের বন্যায় বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের স্বভাবকবি বলে হাস্যরস করেছেন। তারা বিনা কারণে কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটিয়ে থাকে। তারা তাদের ব্যক্তিজীবনের অভাব, দারিদ্র্য, দুঃখ সামনে এনে এ ধরনের অশ্রুপ্রবাহ ঘটায়। অথচ তারা এই দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা চালায় না। তারা তাদের কাব্যে অশ্রুপ্রবাহ ঘটাতে গিয়ে বিশেষণের অতিশায়নের মধ্য দিয়ে নানাবিধ নতুন শব্দ উৎপাদন করে, যা অশ্রুপ্রবাহের উপযোগী। প্রশ্নোক্ত বাক্যে লেখিকা বাঙালি নারীদের কাব্যক্ষেত্রে সেই বাড়াবাড়ি তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বাঙালির সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বাঙালির সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির স্বভাবগত ভীরুতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা আত্মপ্রশংসার পরিবর্তে কর্মমুখী হয়ে আত্মোন্নতির পথে অগ্রসর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতিকে দুর্বল নিরীহ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের আচরণ। এরূপ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে বাঙালির দেহ তৈলসিক্ত কোমল। স্বভাবও তাই ভীরু। উদ্দীপকে বাঙালি জাতির ঠিক বিপরীত স্বভাবটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বাঙালির সাহসী জাগরণ বর্ণিত হয়েছে। নিরীহ মাটিতে সচেতনতার ফসল ফলিয়ে পুরো বিশ্বের বুকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে বাঙালি জাতির স্বভাবগত ভীরুতার দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের আলোকে বাঙালির প্রকৃত স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি জাতির প্রকৃত স্বরূপ হিসেবে তাদের সহজ সহনশীলতা, আবেগপ্রবণ মানসিকতা এবং আত্মসমালোচনার অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালি অলস, অকর্মণ্য ও আরামপ্রিয় জাতি। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের আত্মোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। নিজেদের শক্তি ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই অলসতা থেকে মুক্তি না পেলে বাঙালি কোনোদিনও উন্নতি করতে পারবে না। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনাচরণের নানা দিক হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। বাঙালির আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর মানসিকতা; তাদের স্ত্রীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক চেষ্টাকে লেখিকা তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বাঙালি জাতির অধিকার সচেতন আত্মজাগরণ ঘোষিত হয়েছে। তাদের সদম্ভ আত্মজাগরণে সারা বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। উদ্দীপকে বাঙালির সচেতন কর্মপ্রচেষ্টার দ্বারা বিপ্লবের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। বাঙালির এ জাগরণ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের লেখিকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মধ্য দিয়ে বাঙালি নারী-পুরুষকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। ফলে এটি বাঙালিকে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়। 'এ দিক বিচারে উদ্দীপকে যে জাগরণ ঘটেছে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে তারই প্রণোদনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সংসার সমরাঙ্গনে যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে ভয়ে ভীত হইও না মানব, কর যুদ্ধ বীর্যবান, যায় যাবে যাক প্রাণ মহিমাই জগতে দুর্লভ।
'Famine ReportReport^{\prime} অর্থ কী?

উত্তর

'Famine ReportReport^{\prime} অর্থ 'দুর্ভিক্ষ সমাচার'।
আইনচর্চা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা কঠিন কেন?

উত্তর

আইনচর্চার জন্য কৃষিজমিতে গিয়ে গায়ে খেটে কায়িক শ্রম করার মতো কষ্ট করতে হয় না বলে আইনচর্চা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা কঠিন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা ব্যাবসা ও কৃষিকে ধনবৃদ্ধির উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। কৃষি কাজ করে খাদ্যোৎপাদনের মধ্য দিয়ে ধনবৃদ্ধি সম্ভব। কিন্তু বাঙালি শ্রমবিমুখ জাতি হওয়ায় কর্কশ জমিকে চাষাবাদের মাধ্যমে উর্বর করার পক্ষে নেই। জমি উর্বর করার চেয়ে মস্তিষ্ক উর্বর করাকে তারা সহজ বলে মনে করে। ফলে তারা চাষাবাদ করে কৃষি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে আইনচর্চা করে মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে ধনবৃদ্ধি করাকে সহজ মনে করে। তাই আইনচর্চার চেয়ে কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা তাদের কাছে কঠিন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের তুলনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের লেখিকার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে ইতিবাচক কাজের প্রণোদনা দানের দিকটি তুলনীয়। নিরীহ বাঙালি নামের অন্তরালে বাঙালিদের উদ্ভট কর্মকাণ্ড ও শ্রমবিমুখতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। বাঙালিরা নিজেদের দুর্বলতা এবং অলসতাকে স্বীকার করতে চায় না। এই হীন মানসিকতা তাদের পশ্চাৎপদ করে রেখেছে। প্রবন্ধে এ অবস্থার পরিত্রাণের প্রত্যাশা করা হয়েছে। উদ্দীপকে সংসার তথা পৃথিবীকে যুদ্ধক্ষেত্র' বলা হয়েছে। পৃথিবীর বৈরী পরিবেশে নিজের মর্যাদা সমুন্নত রেখে বেঁচে থাকতে চাইলে সাহসী যোদ্ধার মতো লড়াই করতে হবে। সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলেই দুর্লভ মহিমা এসে ধরা দেবে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি পুরুষের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনই বাঙালি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতিও আলোচনা' রয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক এ রচনার মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকারের সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটি তুলনীয়।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত- কথাটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত- মন্তব্যটি যথাযথ, কারণ 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতিকে আলস্য ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালিরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে বা প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। তারা সব সময় কর্মবিমুখ হয়ে আলস্য জীবনযাপন করতে পছন্দ করে। এ কারণে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের নতুনত্ব বা পরিবর্তনের জন্ম হয় না, যা তাদের প্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বাঙালি জাতির নানা নেতিবাচক দিক হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। এরূপ সমালোচনার মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে কর্মে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। উদ্দীপকে পৃথিবীতে মহিমা স্থাপন করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভয় না পেয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে পরিশ্রম করে গেলে সফলতা আসবেই। উদ্দীপকে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য পরিশ্রম করার ইঙ্গিত রয়েছে। আর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই কীর্তিমান হওয়া সম্ভব হবে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরিশ্রমী হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। প্রবন্ধটিতে রয়েছে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সংসার সমরাঙ্গনে যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে ভয়ে ভীত হইও না মানব, কর যুদ্ধ বীর্যবান, যায় যাবে যাক প্রাণ মহিমাই জগতে দুর্লভ।
'Famine ReportReport^{\prime} অর্থ কী?

উত্তর

'Famine ReportReport^{\prime} অর্থ 'দুর্ভিক্ষ সমাচার'।
আইনচর্চা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা কঠিন কেন?

উত্তর

আইনচর্চার জন্য কৃষিজমিতে গিয়ে গায়ে খেটে কায়িক শ্রম করার মতো কষ্ট করতে হয় না বলে আইনচর্চা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা কঠিন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা ব্যাবসা ও কৃষিকে ধনবৃদ্ধির উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। কৃষি কাজ করে খাদ্যোৎপাদনের মধ্য দিয়ে ধনবৃদ্ধি সম্ভব। কিন্তু বাঙালি শ্রমবিমুখ জাতি হওয়ায় কর্কশ জমিকে চাষাবাদের মাধ্যমে উর্বর করার পক্ষে নেই। জমি উর্বর করার চেয়ে মস্তিষ্ক উর্বর করাকে তারা সহজ বলে মনে করে। ফলে তারা চাষাবাদ করে কৃষি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে আইনচর্চা করে মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে ধনবৃদ্ধি করাকে সহজ মনে করে। তাই আইনচর্চার চেয়ে কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা তাদের কাছে কঠিন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের তুলনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের লেখিকার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে ইতিবাচক কাজের প্রণোদনা দানের দিকটি তুলনীয়। নিরীহ বাঙালি নামের অন্তরালে বাঙালিদের উদ্ভট কর্মকাণ্ড ও শ্রমবিমুখতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। বাঙালিরা নিজেদের দুর্বলতা এবং অলসতাকে স্বীকার করতে চায় না। এই হীন মানসিকতা তাদের পশ্চাৎপদ করে রেখেছে। প্রবন্ধে এ অবস্থার পরিত্রাণের প্রত্যাশা করা হয়েছে। উদ্দীপকে সংসার তথা পৃথিবীকে যুদ্ধক্ষেত্র' বলা হয়েছে। পৃথিবীর বৈরী পরিবেশে নিজের মর্যাদা সমুন্নত রেখে বেঁচে থাকতে চাইলে সাহসী যোদ্ধার মতো লড়াই করতে হবে। সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলেই দুর্লভ মহিমা এসে ধরা দেবে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি পুরুষের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনই বাঙালি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতিও আলোচনা' রয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক এ রচনার মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকারের সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটি তুলনীয়।
উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত- কথাটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত- মন্তব্যটি যথাযথ, কারণ 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতিকে আলস্য ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালিরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে বা প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। তারা সব সময় কর্মবিমুখ হয়ে আলস্য জীবনযাপন করতে পছন্দ করে। এ কারণে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের নতুনত্ব বা পরিবর্তনের জন্ম হয় না, যা তাদের প্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বাঙালি জাতির নানা নেতিবাচক দিক হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। এরূপ সমালোচনার মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে কর্মে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। উদ্দীপকে পৃথিবীতে মহিমা স্থাপন করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভয় না পেয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে পরিশ্রম করে গেলে সফলতা আসবেই। উদ্দীপকে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য পরিশ্রম করার ইঙ্গিত রয়েছে। আর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই কীর্তিমান হওয়া সম্ভব হবে। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরিশ্রমী হওয়ার প্রণোদনা দিয়েছেন। প্রবন্ধটিতে রয়েছে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSC বাংলা ১ম পত্র — নিরীহ বাঙালি MCQ | Prosthuti