SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে রাখির বাবার ৯০% লিভার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় লিভার প্রতিস্থাপনই তাঁকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় রাখি তাঁর নিজের লিভারের একটা অংশ তাঁর বাবাকে দান করেন। এতে তাঁর বাবা বেঁচে যান। এখন বাবা-মেয়ে দুজনই সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
Mymensingh · 2026
ক
'জীবন বিনিময়' কবিতায় কার চোখে নিদ নাই?
উত্তর
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা বাবরের চোখে নিদ নেই।
খ
'জীবন বিনিময়' কবিতায় কবি নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন কেন?
উত্তর
কবি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন হুমায়ুনের রোগমুক্তির উপায় নেই এমন ভাব প্রকাশ পাওয়ায়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাবরপুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত বিজ্ঞ চিকিৎসক আছেন সবাই আসার পরও হুমায়ুনের রোগমুক্তির কোনো উপায় হয় না। একসময় বাবর যখন রাগান্বিত হয়ে চিকিৎসকদের বলেন, রোগ থেকে বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না, তখন রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয় ভেবে চিকিৎসকরা নীরব থাকেন। এ কারণেই তাদের নীরবতাকে কবি নিষ্ঠুর বলেছে।
গ
উদ্দীপকের রাখির বাবার পরিস্থিতি 'জীবন বিনিময়' কবিতার কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের রাখির বাবার পরিস্থিতি 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুনের দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। রাজ্যের সব চিকিৎসক মিলেও সেই রোগের চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে তারা তার জীবনের আশা ছেড়ে দেন।
উদ্দীপকের রাখির বাবা মরণঘাতী জণ্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী। তার যকৃতের ৯০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। রাখির বাবার এমন মুমূর্ষু পরিস্থিতির সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুনের দুরারোগ্য ব্যাধি সাদৃশ্যপূর্ণ। রাজ্যের বিজ্ঞ হেকিম-কবিরাজরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাঁর সেই রোগ উপশম করতে পারেন না। শত চেষ্টার পরেও তার রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে না। এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
“উদ্দীপকের রাখি যেন 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরেরই প্রতিচ্ছবি।”- তুমি কি এ কথার সাথে একমত? যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর
'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর ছেলের সুস্থতার জন্য প্রাণদান করলেও উদ্দীপকের রাখি তাঁর বাবার সুস্থতার জন্য নিজের লিভারের একটি অংশ দান করায় "উদ্দীপকের রাখি যেন 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরেরই প্রতিচ্ছবি" কথাটির সঙ্গে আমি একমত নই।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বাবর তাঁর জীবন দিয়ে সন্তানকে সুস্থ করে নিজে মৃত্যুবরণ করেন।
উদ্দীপকের রাখির কর্মকাণ্ডে পিতার প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি ফুটে উঠেছে। তাঁর পিতা জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী। এমতাবস্থায় রাখি নিজের লিভারের একটা অংশ দিয়ে পিতাকে সুস্থ করে তোলেন। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় পুত্রের প্রতি পিতার অপরিসীম আত্মত্যাগ প্রকাশ পেয়েছে। হুমায়ুন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে পিতা বাবর তাঁর জীবন দিয়ে তাকে বাঁচান।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা বাবরের অপরিসীম আত্মত্যাগ প্রকাশিত হয়েছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বাবর রাজ্যের যত চিকিৎসক ডেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এক দরবেশের পরামর্শে তিনি সন্তানের জন্য নিজের জীবন দান করতেও পিছপা হননি। নিজের জীবনের বিনিময়ে তিনি পুত্রকে সুস্থ করে তোলেন। উদ্দীপকের রাখি বাবার জন্য নিজের লিভারের একটা অংশ দান করলেও বাদশা বাবরের মতো জীবন বিনিময় করেননি। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ নয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো