HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল ও মতের অংশগ্রহণ থাকে বিরোধী দলের যৌক্তিক সমালোচনা, পরামর্শ নিয়ে সরকারি দল সুষ্ঠুভাবে দেশকে শাসন করতে পারে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে স্বৈরশাসনের উদ্ভব হতে পারে। স্বেচ্ছাচারীভাবে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ফলে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে।
[সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
নিকোলাই চসেন্ধু কে ছিলেন?
উত্তর
নিকোলাই চসেঙ্কু ছিলেন রুমানিয়ার শাসক।
খ
পেরেস্ত্রোইকা বলতে কী বোঝ?
উত্তর
সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ঘোষিত অর্থনৈতিক সংস্কারনীতিই পেরেস্ত্রৈইকা (Perestroika) নামে খ্যাত।
তিনি বনেদি সমাজতান্ত্রিক ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে তার গ্লাসনস্ত বা খোলানীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সোভিয়েত ইউনিয়নে উদারনৈতিক অর্থনীতি প্রবর্তনে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৮৭ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশসমূহে নয়া অর্থনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি স্বীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে পূর্ব জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
গ
উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির কী পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বিমেরুবিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলয়ের বিভক্তি থেকে একক পরাশক্তি বলয়ের রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো আদর্শ, কোনো দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। NATO-এর প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এবং সোভিয়েত প্রভাব লুপ্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপ, বাল্টিক অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে মোতায়েনকৃত বিপুল মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জাম সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে, পুনঃমোতায়েনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে। অভিন্ন মুদ্রা 'ইউরো' প্রচলন করে শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে মধ্য এশিয়ায় কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মস্কো অতীতে তার মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সে ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
যার কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবেই আক্রান্ত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে রাশিয়া অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এবং চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
ঘ
পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। মতামত দাও।
উত্তর
পরিবর্তনটি অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে-উক্তিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত হয়। এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা উদ্ভব ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হচ্ছে। কুয়েতে আমেরিকা নীতি, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকার আক্রমণ, সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল ও প্রভাব বলে অনেকে ধারণা পোষণ করেন। সম্প্রতি চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির চরম বিকাশের এ যুগে তথ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য সাম্রাজ্যবাদ আর তথ্যযুদ্ধ হয়ে উঠছে এখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তু। একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করেছে, বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব- সংঘাত বৃদ্ধি বিকল্প পরাশক্তির উত্থানকে ক্রমেই জরুরি করে তুলেছে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো