Chapter 8: স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 8: স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৯৭

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল ও মতের অংশগ্রহণ থাকে বিরোধী দলের যৌক্তিক সমালোচনা, পরামর্শ নিয়ে সরকারি দল সুষ্ঠুভাবে দেশকে শাসন করতে পারে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে স্বৈরশাসনের উদ্ভব হতে পারে। স্বেচ্ছাচারীভাবে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ফলে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
নিকোলাই চসেন্ধু কে ছিলেন?

উত্তর

নিকোলাই চসেঙ্কু ছিলেন রুমানিয়ার শাসক।
খ
পেরেস্ত্রোইকা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ঘোষিত অর্থনৈতিক সংস্কারনীতিই পেরেস্ত্রৈইকা (Perestroika) নামে খ্যাত। তিনি বনেদি সমাজতান্ত্রিক ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে তার গ্লাসনস্ত বা খোলানীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সোভিয়েত ইউনিয়নে উদারনৈতিক অর্থনীতি প্রবর্তনে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৮৭ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশসমূহে নয়া অর্থনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি স্বীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে পূর্ব জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
গ
উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির কী পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বিমেরুবিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলয়ের বিভক্তি থেকে একক পরাশক্তি বলয়ের রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো আদর্শ, কোনো দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। NATO-এর প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এবং সোভিয়েত প্রভাব লুপ্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপ, বাল্টিক অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে মোতায়েনকৃত বিপুল মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জাম সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে, পুনঃমোতায়েনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে। অভিন্ন মুদ্রা 'ইউরো' প্রচলন করে শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে মধ্য এশিয়ায় কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মস্কো অতীতে তার মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সে ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবেই আক্রান্ত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে রাশিয়া অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এবং চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
ঘ
পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। মতামত দাও।

উত্তর

পরিবর্তনটি অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে-উক্তিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত হয়। এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা উদ্ভব ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হচ্ছে। কুয়েতে আমেরিকা নীতি, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকার আক্রমণ, সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল ও প্রভাব বলে অনেকে ধারণা পোষণ করেন। সম্প্রতি চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির চরম বিকাশের এ যুগে তথ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য সাম্রাজ্যবাদ আর তথ্যযুদ্ধ হয়ে উঠছে এখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তু। একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করেছে, বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব- সংঘাত বৃদ্ধি বিকল্প পরাশক্তির উত্থানকে ক্রমেই জরুরি করে তুলেছে। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল ও মতের অংশগ্রহণ থাকে বিরোধী দলের যৌক্তিক সমালোচনা, পরামর্শ নিয়ে সরকারি দল সুষ্ঠুভাবে দেশকে শাসন করতে পারে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে স্বৈরশাসনের উদ্ভব হতে পারে। স্বেচ্ছাচারীভাবে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ফলে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
নিকোলাই চসেন্ধু কে ছিলেন?

উত্তর

নিকোলাই চসেঙ্কু ছিলেন রুমানিয়ার শাসক।
খ
পেরেস্ত্রোইকা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ঘোষিত অর্থনৈতিক সংস্কারনীতিই পেরেস্ত্রৈইকা (Perestroika) নামে খ্যাত। তিনি বনেদি সমাজতান্ত্রিক ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে তার গ্লাসনস্ত বা খোলানীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সোভিয়েত ইউনিয়নে উদারনৈতিক অর্থনীতি প্রবর্তনে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৮৭ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশসমূহে নয়া অর্থনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি স্বীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে পূর্ব জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
গ
উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির কী পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বিমেরুবিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলয়ের বিভক্তি থেকে একক পরাশক্তি বলয়ের রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো আদর্শ, কোনো দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। NATO-এর প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এবং সোভিয়েত প্রভাব লুপ্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপ, বাল্টিক অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে মোতায়েনকৃত বিপুল মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জাম সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে, পুনঃমোতায়েনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে। অভিন্ন মুদ্রা 'ইউরো' প্রচলন করে শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে মধ্য এশিয়ায় কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মস্কো অতীতে তার মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সে ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে মধ্য এশীয় মুসলিম দেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবেই আক্রান্ত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে রাশিয়া অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এবং চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
ঘ
পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। মতামত দাও।

উত্তর

পরিবর্তনটি অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে-উক্তিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত হয়। এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা উদ্ভব ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হচ্ছে। কুয়েতে আমেরিকা নীতি, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকার আক্রমণ, সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল ও প্রভাব বলে অনেকে ধারণা পোষণ করেন। সম্প্রতি চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির চরম বিকাশের এ যুগে তথ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য সাম্রাজ্যবাদ আর তথ্যযুদ্ধ হয়ে উঠছে এখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তু। একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করেছে, বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব- সংঘাত বৃদ্ধি বিকল্প পরাশক্তির উত্থানকে ক্রমেই জরুরি করে তুলেছে। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' ও 'খ' পরস্পর বিবদমান দুটি গ্রাম। ফলে আশপাশের গ্রামগুলো তাদের যেকোনো প্রয়োজনে বিবদমান গ্রামদ্বয়ের যেকোনো একটির শরণাপন্ন হতো এবং সহায়তাও পেত। কিন্তু একসময় নানাবিধ কারণে 'ক' গ্রাম ভেঙে পড়লে 'খ' গ্রাম অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং তাকে বাধাদান করার মতো আর কোনো গ্রাম অবশিষ্ট থাকে না। [সকল বোর্ড ২০১৬]
ক
জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় কত সালে?

উত্তর

জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় ১৯৯০ সালে।
খ
'গ্লাসনস্ত' কী?

উত্তর

সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিথাইল গর্ভাচেভ কর্তৃক প্রণীত গ্লাসনস্ত (খোলামেলা নীতি) একটি অন্যতম রাজনৈতিক সংস্কারের নাম। খোলামেলা নীতি তথা গ্লাসনস্তের ফলে রুশ জনগণ কমিউনিজমের ত্রুটিগুলো এবং এর ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা খোলামেলা আলোচনা ও মত প্রকাশের সুযোগ পায়। এর ফলে কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুশ ও অন্যান্য রিপাবলিকের জনগণ জেগে ওঠে। জনতার অধিকতর স্বাধীনতার প্রত্যাশায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত হয়।
গ
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিংশ শতাব্দীর দিকে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের উত্থান আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি আলোচিত বিষয়। আবার, বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজমের বিলুপ্তি একটি আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনা। কমিউনিজমের পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। লেনিনের নেতৃত্বে কার্ল মার্কসের মতবাদে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবের পর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে রাশিয়া নামে চিনলেও আসলে রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি অঙ্গরাজ্যের একটি। স্ট্যালিনের শাসনামল (১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে) পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের যৌবনকাল বিদ্যমান ছিল। এরপর ক্রুশ্চেভ ও ব্রেজনেভের শাসনামল থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম পতনের দিকে ধাবিত হয় এবং গর্বাচেভের শাসনামলের পতন ঘটে।
ঘ
উল্লিখিত ঘটনা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছিল বলে কি তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত ঘটনা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে পুরো পৃথিবীর চিত্র পাল্টে যায় এবং যার প্রভাব এখনও ক্রিয়াশীল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর পরাশক্তির একটিতে পরিণত হয়। তখনকার বিশ্বকে দ্বিমাত্রিক বিশ্ব (Biopolar world) বলা হতো। স্নায়ুযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে (Unipolar world) পরিণত হয়। রাশিয়ার বিলুপ্তিতে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বেশি আনন্দিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ গর্বিতভাবে ঘোষণা করেন, "ঈশ্বরের করুণায় আমেরিকা ঠান্ডা লড়াইয়ে বিজয় লাভ করেছে।" সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে আমেরিকা এককভাবে সমগ্র বিশ্বে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, কুয়েতে আমেরিকা নীতি, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকা আক্রমণ প্রভৃতি সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক দুর্যোগ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' ও 'খ' পরস্পর বিবদমান দুটি গ্রাম। ফলে আশপাশের গ্রামগুলো তাদের যেকোনো প্রয়োজনে বিবদমান গ্রামদ্বয়ের যেকোনো একটির শরণাপন্ন হতো এবং সহায়তাও পেত। কিন্তু একসময় নানাবিধ কারণে 'ক' গ্রাম ভেঙে পড়লে 'খ' গ্রাম অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং তাকে বাধাদান করার মতো আর কোনো গ্রাম অবশিষ্ট থাকে না। [সকল বোর্ড ২০১৬]
ক
জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় কত সালে?

উত্তর

জার্মানির একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় ১৯৯০ সালে।
খ
'গ্লাসনস্ত' কী?

উত্তর

সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিথাইল গর্ভাচেভ কর্তৃক প্রণীত গ্লাসনস্ত (খোলামেলা নীতি) একটি অন্যতম রাজনৈতিক সংস্কারের নাম। খোলামেলা নীতি তথা গ্লাসনস্তের ফলে রুশ জনগণ কমিউনিজমের ত্রুটিগুলো এবং এর ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা খোলামেলা আলোচনা ও মত প্রকাশের সুযোগ পায়। এর ফলে কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুশ ও অন্যান্য রিপাবলিকের জনগণ জেগে ওঠে। জনতার অধিকতর স্বাধীনতার প্রত্যাশায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত হয়।
গ
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিংশ শতাব্দীর দিকে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের উত্থান আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি আলোচিত বিষয়। আবার, বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজমের বিলুপ্তি একটি আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনা। কমিউনিজমের পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। লেনিনের নেতৃত্বে কার্ল মার্কসের মতবাদে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবের পর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে রাশিয়া নামে চিনলেও আসলে রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি অঙ্গরাজ্যের একটি। স্ট্যালিনের শাসনামল (১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে) পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের যৌবনকাল বিদ্যমান ছিল। এরপর ক্রুশ্চেভ ও ব্রেজনেভের শাসনামল থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম পতনের দিকে ধাবিত হয় এবং গর্বাচেভের শাসনামলের পতন ঘটে।
ঘ
উল্লিখিত ঘটনা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছিল বলে কি তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত ঘটনা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে পুরো পৃথিবীর চিত্র পাল্টে যায় এবং যার প্রভাব এখনও ক্রিয়াশীল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর পরাশক্তির একটিতে পরিণত হয়। তখনকার বিশ্বকে দ্বিমাত্রিক বিশ্ব (Biopolar world) বলা হতো। স্নায়ুযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে (Unipolar world) পরিণত হয়। রাশিয়ার বিলুপ্তিতে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বেশি আনন্দিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ গর্বিতভাবে ঘোষণা করেন, "ঈশ্বরের করুণায় আমেরিকা ঠান্ডা লড়াইয়ে বিজয় লাভ করেছে।" সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে আমেরিকা এককভাবে সমগ্র বিশ্বে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, কুয়েতে আমেরিকা নীতি, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকা আক্রমণ প্রভৃতি সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক দুর্যোগ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' এ রকম এক সংসারে বড় হয়েছে। যেখানে বাবা ও মায়ের দ্বন্দ্বের কারণে সংসারে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সে দেখেছে কীভাবে অন্যদের কুপরামর্শে তার বাবা ও মা আলাদা হয়েছেন। শুধু আলাদা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাবা ও মায়ের সাক্ষাৎ যাতে না হয় সে ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত করেছে। কিন্তু কোনো বাধাই চিরস্থায়ী নয়। একসময় বাবা ও মা তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং পুনরায় তারা একসাথে হন।
ক
সলিডারিটি আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?

উত্তর

সলিডারিটি আন্দোলনের নেতা ছিলেন লেস ওয়ালেসা।
খ
ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর চার দশকেরও অধিককাল ধরে চলতে থাকা রুমানিয়ার কমিউনিস্ট শাসন আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। টিমিসোয়ারার গণঅসন্তোষ ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় এবং তা ওইদিন বুখারেস্টে চরম আকার ধারণ করে। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা নিকোলাই চসেম্ভর সরকার ও রুমানিয়ার কমিউনিস্ট দলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ ধরনের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ কয়েক সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত ছিল কল্পনাতীত। এ কারণে সেদেশের জনগণ এ ঘটনাকে ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার বলে মনে করে।
গ
উদ্দীপকের অন্যদের পাকাপোক্ত ব্যবস্থা তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার উদ্ভবের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত দুই জার্মানির দ্বিখন্ডিতকরণের সামঞ্জস্য রয়েছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট আশঙ্কা করেছিল যে, সোভিয়েত প্রভাবে জার্মানি সাম্যবাদের আওতায় পড়তে পারে। অপরদিকে, রাশিয়া আশঙ্কা করেছিল যে, পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট জার্মানিকে সোভিয়েতবিরোধী ঘাঁটিতে পরিণত করতে পারে। এ আশঙ্কায় দুই শক্তিই পরস্পরকে বাধাদান করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ফলে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। সোভিয়েত প্রতিবাদ সত্ত্বেও ১৯৪৮ সালের জুন মাসে পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট তাদের অধিকৃত এলাকায় এক নতুন মুদ্রা বা মার্কের প্রবর্তন করে। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির অর্থনীতিতে এ বিভেদ যাতে ব্যর্থ হয় সেজন্য পূর্ব জার্মানি পশ্চিম বার্লিনের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করেছিল। কিন্তু মিত্র শক্তিবর্গ বার্লিন অবরোধের বিরুদ্ধে বিমান পথে পশ্চিম বার্লিনে যাতায়াত অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেছিল। এভাবে দুই জার্মানিকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৯ সালের নিউইয়র্কে জ্যাকব মালিক আলোচনার পর মে মাসে বার্লিন অবরোধের অবসান হয়। এসব মতবিরোধের ফলে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি পৃথক রাষ্ট্র স্থাপিত হয় এবং জার্মানি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
ঘ
উক্ত পাকাপোক্ত ব্যবস্থার অবসানের প্রভাব তোমার পাঠ্যবইয়ের নিরিখে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত দুই জার্মানির দ্বিখণ্ডিতকরণের সামঞ্জস্য রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা রাষ্ট্রজোটের স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে দুই জার্মানি বিভক্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু গত ৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দুই জার্মানি আবার একত্রিত হয়ে যায়। দুই জার্মানি একত্রিত হওয়ার ফলে পশ্চিম জার্মানি পূর্ব জার্মানি থেকে সমাজতান্ত্রিক সরকার এবং ভাবধারাকে উচ্ছেদ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম জার্মানি পূর্ব জার্মানির উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। দুই জার্মানি একত্রীকরণের ফলে পূর্ব, জার্মানি ওয়ারস জোট থেকে তার সদস্যপদ ত্যাগ করে। ফলে ওয়ারস জোট দুর্বল হয়ে পড়ে। রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী পুঁজিবাদী শক্তিশালী জার্মান রাজ্যের অবস্থা রাশিয়ার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। দুই জার্মানি একত্রীকরণের ফলে জার্মানি ইউরোপে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' এ রকম এক সংসারে বড় হয়েছে। যেখানে বাবা ও মায়ের দ্বন্দ্বের কারণে সংসারে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সে দেখেছে কীভাবে অন্যদের কুপরামর্শে তার বাবা ও মা আলাদা হয়েছেন। শুধু আলাদা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাবা ও মায়ের সাক্ষাৎ যাতে না হয় সে ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত করেছে। কিন্তু কোনো বাধাই চিরস্থায়ী নয়। একসময় বাবা ও মা তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং পুনরায় তারা একসাথে হন।
ক
সলিডারিটি আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?

উত্তর

সলিডারিটি আন্দোলনের নেতা ছিলেন লেস ওয়ালেসা।
খ
ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর চার দশকেরও অধিককাল ধরে চলতে থাকা রুমানিয়ার কমিউনিস্ট শাসন আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। টিমিসোয়ারার গণঅসন্তোষ ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় এবং তা ওইদিন বুখারেস্টে চরম আকার ধারণ করে। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা নিকোলাই চসেম্ভর সরকার ও রুমানিয়ার কমিউনিস্ট দলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ ধরনের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ কয়েক সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত ছিল কল্পনাতীত। এ কারণে সেদেশের জনগণ এ ঘটনাকে ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার বলে মনে করে।
গ
উদ্দীপকের অন্যদের পাকাপোক্ত ব্যবস্থা তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার উদ্ভবের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত দুই জার্মানির দ্বিখন্ডিতকরণের সামঞ্জস্য রয়েছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট আশঙ্কা করেছিল যে, সোভিয়েত প্রভাবে জার্মানি সাম্যবাদের আওতায় পড়তে পারে। অপরদিকে, রাশিয়া আশঙ্কা করেছিল যে, পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট জার্মানিকে সোভিয়েতবিরোধী ঘাঁটিতে পরিণত করতে পারে। এ আশঙ্কায় দুই শক্তিই পরস্পরকে বাধাদান করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ফলে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। সোভিয়েত প্রতিবাদ সত্ত্বেও ১৯৪৮ সালের জুন মাসে পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট তাদের অধিকৃত এলাকায় এক নতুন মুদ্রা বা মার্কের প্রবর্তন করে। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির অর্থনীতিতে এ বিভেদ যাতে ব্যর্থ হয় সেজন্য পূর্ব জার্মানি পশ্চিম বার্লিনের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করেছিল। কিন্তু মিত্র শক্তিবর্গ বার্লিন অবরোধের বিরুদ্ধে বিমান পথে পশ্চিম বার্লিনে যাতায়াত অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেছিল। এভাবে দুই জার্মানিকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৯ সালের নিউইয়র্কে জ্যাকব মালিক আলোচনার পর মে মাসে বার্লিন অবরোধের অবসান হয়। এসব মতবিরোধের ফলে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি পৃথক রাষ্ট্র স্থাপিত হয় এবং জার্মানি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
ঘ
উক্ত পাকাপোক্ত ব্যবস্থার অবসানের প্রভাব তোমার পাঠ্যবইয়ের নিরিখে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত দুই জার্মানির দ্বিখণ্ডিতকরণের সামঞ্জস্য রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা রাষ্ট্রজোটের স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে দুই জার্মানি বিভক্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু গত ৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দুই জার্মানি আবার একত্রিত হয়ে যায়। দুই জার্মানি একত্রিত হওয়ার ফলে পশ্চিম জার্মানি পূর্ব জার্মানি থেকে সমাজতান্ত্রিক সরকার এবং ভাবধারাকে উচ্ছেদ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম জার্মানি পূর্ব জার্মানির উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। দুই জার্মানি একত্রীকরণের ফলে পূর্ব, জার্মানি ওয়ারস জোট থেকে তার সদস্যপদ ত্যাগ করে। ফলে ওয়ারস জোট দুর্বল হয়ে পড়ে। রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী পুঁজিবাদী শক্তিশালী জার্মান রাজ্যের অবস্থা রাশিয়ার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। দুই জার্মানি একত্রীকরণের ফলে জার্মানি ইউরোপে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো