Chapter 2: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: কোম্পানি আমল (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) History 1st Paper

HSC History 1st Paper এর Chapter 2: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: কোম্পানি আমল (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৮৩

প্রশ্ন

History 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথ প্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। প্রচলিত পদ্ধতিকে বাতিল করে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আদলে তিনি এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসে এবং সাম্রাজ্যের রাজস্ব আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তার এ নীতি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রজাদের দুর্দশা লাঘব। এ নীতিটি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
কোন সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে?

উত্তর

১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে।
খ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

২১১৭৬ বঙ্গাব্দে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে সমগ্র বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায় যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। আবার দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলায় যে অরাজকতা প্রচলিত হয়েছিল তাতে দরিদ্র মানুষের অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ শাসনব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যার ফলে বাংলায় এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়। বাংলা ১১৭৬ সালে এ দুর্ভিক্ষ হওয়ায় এটাকে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বা 'মহাদুর্ভিক্ষ' বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত কোন ব্যবস্থার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল আছে। উদ্দীপকে হতে জানা যায়, সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। এ নীতি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। অপরদিকে পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ ভূমি ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় জমিদারগণ জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাদের রাজম্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হয়। যথাসময়ে নির্দিষ্ট কর প্রদান করে জমিদাররা পুরুষানুক্রমে জমিদারি ভোগ করার অধিকার পান। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দ্বারা জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশের জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল এবং এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল রয়েছে।
ঘ
উল্লিখিত ব্যবস্থা ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল? তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

উত্তর

উল্লিখিত ব্যবস্থা অর্থাৎ লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক ছিল- উক্তিটির সাথে আমি একমত। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় কৃষিকার্য সম্প্রসারিত হয় এবং জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায়। সরকারি রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় জমিদারগণ জমিতে অতিরিক্ত শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে ভূমির উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হন। তারা জঙ্গলাকীর্ণ ও পতিত জমি চাষাবাদের ব্যবস্থা করেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। আর জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানি তার আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হয়। এতে বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের সুবিধা হয় এবং কোম্পানি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। অস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে উদ্ভূত কুফলগুলো কোম্পানি এ ব্যবস্থা দ্বারা দূর করতে সমর্থ হয়। এ বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে যে জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে তারা স্বভাবতই কোম্পানির নির্ভরযোগ্য সমর্থক শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ রাজভক্ত জমিদার শ্রেণি এদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশে কোম্পানির অনুগত জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল। এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। এ সময় কোম্পানির শাসনে জমিদারগণ প্রজাদের মঙ্গলার্থে পুষ্করিণী খনন, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় প্রভৃতি স্থাপনের জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছেন। নানাবিধ জনকল্যাণকর কার্যাবলি গ্রামীণ জীবনকে যথেষ্ট সচল করেছিল। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথ প্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। প্রচলিত পদ্ধতিকে বাতিল করে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আদলে তিনি এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসে এবং সাম্রাজ্যের রাজস্ব আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তার এ নীতি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রজাদের দুর্দশা লাঘব। এ নীতিটি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
কোন সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে?

উত্তর

১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে।
খ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

২১১৭৬ বঙ্গাব্দে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে সমগ্র বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায় যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। আবার দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলায় যে অরাজকতা প্রচলিত হয়েছিল তাতে দরিদ্র মানুষের অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ শাসনব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যার ফলে বাংলায় এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়। বাংলা ১১৭৬ সালে এ দুর্ভিক্ষ হওয়ায় এটাকে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বা 'মহাদুর্ভিক্ষ' বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত কোন ব্যবস্থার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল আছে। উদ্দীপকে হতে জানা যায়, সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। এ নীতি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। অপরদিকে পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ ভূমি ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় জমিদারগণ জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাদের রাজম্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হয়। যথাসময়ে নির্দিষ্ট কর প্রদান করে জমিদাররা পুরুষানুক্রমে জমিদারি ভোগ করার অধিকার পান। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দ্বারা জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশের জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল এবং এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল রয়েছে।
ঘ
উল্লিখিত ব্যবস্থা ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল? তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

উত্তর

উল্লিখিত ব্যবস্থা অর্থাৎ লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক ছিল- উক্তিটির সাথে আমি একমত। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় কৃষিকার্য সম্প্রসারিত হয় এবং জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায়। সরকারি রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় জমিদারগণ জমিতে অতিরিক্ত শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে ভূমির উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হন। তারা জঙ্গলাকীর্ণ ও পতিত জমি চাষাবাদের ব্যবস্থা করেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। আর জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানি তার আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হয়। এতে বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের সুবিধা হয় এবং কোম্পানি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। অস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে উদ্ভূত কুফলগুলো কোম্পানি এ ব্যবস্থা দ্বারা দূর করতে সমর্থ হয়। এ বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে যে জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে তারা স্বভাবতই কোম্পানির নির্ভরযোগ্য সমর্থক শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ রাজভক্ত জমিদার শ্রেণি এদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশে কোম্পানির অনুগত জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল। এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। এ সময় কোম্পানির শাসনে জমিদারগণ প্রজাদের মঙ্গলার্থে পুষ্করিণী খনন, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় প্রভৃতি স্থাপনের জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছেন। নানাবিধ জনকল্যাণকর কার্যাবলি গ্রামীণ জীবনকে যথেষ্ট সচল করেছিল। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় পরিচালনার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে আইনের সীমাবদ্ধতায় বেশকিছু জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ প্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইন কোম্পানিটির ব্যবসায় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও ত্রুটিমুক্ত ছিল না। [ সকল বোর্ড ২০১৬ ]
ক
ব্রিটিশ ভারতের কোন গভর্নর জেনারেলকে ইম্পিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়?

উত্তর

ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ইম্পিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।
খ
সূর্যাস্ত আইন' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন অনুযায়ী একটি 'নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের পূর্বে খাজনা প্রদান না করলে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হতো। এ কুখ্যাত আইনটি সূর্যাস্ত আইন নামে পরিচিত। সূর্যাস্ত আইন মোতাবেক ৩০ চৈত্র তারিখের মধ্যে রাজস্ব না দিতে পারার কারণে অনেক পুরনো জমিদার তাদের জমিদারি স্বত্ব হারান। এ আইনের ফলে একমাত্র বর্ধমানের জমিদার ছাড়া সাত বছরের মধ্যে সব বড় জমিদার ধ্বংস হয়ে যান।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের প্রতিফলন ঘটেছে তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ামক আইনের প্রতিফলন ঘটেছে। ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো প্রবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ভারতের তদানীন্তন সমস্যার সমাধানকল্পে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপের ফল হলো রেগুলেটিং অ্যাক্ট। যেহেতু এ আইনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা, সেহেতু এ আইন রেগুলেটিং বা নিয়ন্ত্রণের আইন নামে খ্যাত। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গঠনতন্ত্র ও কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে এ আইন ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি আপসমূলক ব্যবস্থা। এ আইন মোতাবেক সর্বপ্রথম ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতাভিত্তিক কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এ আইন ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ভারতীয়দের মধ্যে একটি আপসনামা হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ এ আইনটি প্রণয়ন করেন। এজন্য আইনটির সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয় Norths Regulating Act. 1773' বা সংক্ষেপে রেগুলেটিং অ্যাক্ট। এ আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে রাজনৈতিক সরকারে রূপান্তরিত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিন্তু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোম্পানির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ পেক্ষাপটে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনটি কোম্পানির ব্যবসায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের এ আইন দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উক্ত আইনের ত্রুটিসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে মূলত রেগুলেটিং অ্যাক্ট সম্পর্কেই আলোকপাত করা হয়েছে। এ আইনে কতিপয় ত্রুটি লক্ষণীয়। প্রথমত, ব্রিটিশ সরকার এ আইনের মাধ্যমে কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতা স্থাপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেননা, এ আইনে সার্বভৌমত্ব কার্যকর করার জন্য কোনো এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, গভর্নর জেনারেল ও তার পরিষদের কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না হওয়ার সুযোগে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি স্বাধীনভাবে চলতে চেষ্টা করে। এর ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়। তৃতীয়ত, এ আইনের দ্বারা মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় পরবর্তীতে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়। চতুর্থত, গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সদস্যবর্গ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে শাসনকার্যে অনেক অসুবিদার সৃষ্টি হয়। পঞ্চমত, ভারতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার স্থাপন করা হলেও এ আইনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় কোর্টের সাথে কাউন্সিলের সদস্যদের নানা বিষয়ে মতানৈক্য দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, নিয়ামক আইনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু এ আইনের সৃষ্ট ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় পরিচালনার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে আইনের সীমাবদ্ধতায় বেশকিছু জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ প্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইন কোম্পানিটির ব্যবসায় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও ত্রুটিমুক্ত ছিল না। [ সকল বোর্ড ২০১৬ ]
ক
ব্রিটিশ ভারতের কোন গভর্নর জেনারেলকে ইম্পিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়?

উত্তর

ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ইম্পিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।
খ
সূর্যাস্ত আইন' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন অনুযায়ী একটি 'নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের পূর্বে খাজনা প্রদান না করলে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হতো। এ কুখ্যাত আইনটি সূর্যাস্ত আইন নামে পরিচিত। সূর্যাস্ত আইন মোতাবেক ৩০ চৈত্র তারিখের মধ্যে রাজস্ব না দিতে পারার কারণে অনেক পুরনো জমিদার তাদের জমিদারি স্বত্ব হারান। এ আইনের ফলে একমাত্র বর্ধমানের জমিদার ছাড়া সাত বছরের মধ্যে সব বড় জমিদার ধ্বংস হয়ে যান।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের প্রতিফলন ঘটেছে তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ামক আইনের প্রতিফলন ঘটেছে। ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো প্রবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ভারতের তদানীন্তন সমস্যার সমাধানকল্পে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপের ফল হলো রেগুলেটিং অ্যাক্ট। যেহেতু এ আইনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা, সেহেতু এ আইন রেগুলেটিং বা নিয়ন্ত্রণের আইন নামে খ্যাত। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গঠনতন্ত্র ও কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে এ আইন ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি আপসমূলক ব্যবস্থা। এ আইন মোতাবেক সর্বপ্রথম ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতাভিত্তিক কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এ আইন ইন্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ভারতীয়দের মধ্যে একটি আপসনামা হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ এ আইনটি প্রণয়ন করেন। এজন্য আইনটির সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয় Norths Regulating Act. 1773' বা সংক্ষেপে রেগুলেটিং অ্যাক্ট। এ আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে রাজনৈতিক সরকারে রূপান্তরিত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিন্তু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোম্পানির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ পেক্ষাপটে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনটি কোম্পানির ব্যবসায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের এ আইন দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উক্ত আইনের ত্রুটিসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে মূলত রেগুলেটিং অ্যাক্ট সম্পর্কেই আলোকপাত করা হয়েছে। এ আইনে কতিপয় ত্রুটি লক্ষণীয়। প্রথমত, ব্রিটিশ সরকার এ আইনের মাধ্যমে কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতা স্থাপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেননা, এ আইনে সার্বভৌমত্ব কার্যকর করার জন্য কোনো এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, গভর্নর জেনারেল ও তার পরিষদের কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না হওয়ার সুযোগে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি স্বাধীনভাবে চলতে চেষ্টা করে। এর ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়। তৃতীয়ত, এ আইনের দ্বারা মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় পরবর্তীতে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়। চতুর্থত, গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সদস্যবর্গ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে শাসনকার্যে অনেক অসুবিদার সৃষ্টি হয়। পঞ্চমত, ভারতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার স্থাপন করা হলেও এ আইনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় কোর্টের সাথে কাউন্সিলের সদস্যদের নানা বিষয়ে মতানৈক্য দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, নিয়ামক আইনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু এ আইনের সৃষ্ট ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৮২৮ সালে ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসা একজন ইংরেজ উপলব্ধি করেন শাসিতদের কল্যাণ সাধন করাই হচ্ছে শাসকের প্রধান কর্তব্য। শাসিতদের কল্যাণ সাধনের জন্য তিনি সতীদাহ প্রথা রহিত করেন, ঠগী দমন ও পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনসহ বিভিন্ন সংস্কার কর্ম সাধন করেন। সংস্কার কর্মের জন্য তিনি ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। [কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ]
ক
কে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নীতি প্রবর্তন করেন?

উত্তর

লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
খ
স্বত্ববিলোপ নীতির প্রকৃতি কী ছিল?

উত্তর

স্বত্ববিলোপ নীতির প্রকৃতি ছিল লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক গৃহীত একটি নীতি যাতে বলা হয় রাজবংশের কোনো উত্তারাধিকার না থাকলে রাজার মৃত্যুর পর রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজভুক্ত হবে। মূলত ব্রিটিশদের আশ্রিত যেকোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশের কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সে রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এবং দত্তক বা পালিত পুত্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক গৃহীত এ নীতিই স্বত্ববিলোপ নীতি হিসেবে অভিহিত।
গ
উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সামাজিক সংস্কারসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সাথে আমার পঠিত সংস্কারক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের মিল বিদ্যমান। তার শাসনামল ভারতবর্ষে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের জন্য প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। তবে একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবেই তিনি সমধিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি ভারতীয় সমাজব্যবস্থা থেকে সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করে ইতিহাসে সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তিনি এই অমানবিক শাস্তিদান প্রথায় ব্যথিত হয়ে ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে এর বিলোপ সাধন করেন। এছাড়া তিনি তৎকালীন হিন্দুরীতি অনুযায়ী দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রথম সন্তানকে গঙ্গায় নিক্ষেপ এবং বিবাহ দেওয়ার অক্ষমতা হেতু শিশুকন্যাকে গলাটিপে হত্যা করার প্রথাও চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অতঃপর তিনি ভারতের সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত ঠগীদস্যু দমনে মনোনিবেশ করেন। মুঘলদের পতনের যুগে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এ ঠগী দস্যুদের আবির্ভাব ঘটে। তারা ভারতবর্ষের সর্বত্র লুট, অত্যাচার এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দস্যুবৃত্তি পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করত। তিনি কর্নেল স্লিম্যানের মাধ্যমে এ ঠগী দস্যুদের দমন করেন। তিনি ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় সমাজে ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারের প্রচলন করেন। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সামাজিক সংস্কারসমূহ উল্লেখযোগ্য।
ঘ
উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার কীভাবে মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার অর্থাৎ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের সংস্কার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক ছিল। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতীয় অর্থনীতি, বিচার প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার করেন। শাসনভার গ্রহণ করে বেন্টিংক অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। তিনি বোর্ড অব ডাইরেক্টরের নিকট থেকে ব্যয় সংকোচ ও যুদ্ধনীতি পরিত্যাগের সুস্পষ্ট নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কোম্পানির সামরিক ও বেসামরিক ব্যয় সংকোচের জন্য বহু কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেন এবং অন্যান্য কর্মচারীর বেতন হ্রাস করেন। শান্তিকালীন সময়ে সামরিক কর্মচারীদের অর্ধেক ভাতা দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল, তা তিনি রহিত করেন। এছাড়া তিনি কর্নওয়ালিসের রাজত্বকালের প্রাদেশিক আপিল কোর্টগুলো বাতিল করে উত্তর প্রদেশে জমি জরিপের ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার প্রবর্তনের লক্ষ্যে কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত প্রাদেশিক বিচারালয়গুলো রহিত করে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জেলা কালেক্টরের ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি কয়েকটি জেলা একত্রিত করে একটি বিভাগ গঠন করেন এবং প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনারের ওপর ন্যস্ত করেন। তাছাড়া তিনি ভারতীয় বিচারকদের জন্য সাবজজ পদ সৃষ্টি করে ভারতবাসীর কৃতজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রথম থেকে ভারতীয় জেলাগুলোর প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনারের ওপর ন্যস্ত করেন। বোর্ড অব রেভিনিউ এর সদর দপ্তর কলকাতা থেকে এলাহাবাদে স্থানান্তরিত হয়। ভারতীয় বিচারালয়গুলোতে ফার্সি ভাষার পরিবর্তে দেশীয় ভাষার প্রচলন শুরু হয়। আর তিনি একটি আইন কমিশন গঠন করে ভারতীয় পেনাল কোডের ভিত্তি রচনা করেন। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৮২৮ সালে ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসা একজন ইংরেজ উপলব্ধি করেন শাসিতদের কল্যাণ সাধন করাই হচ্ছে শাসকের প্রধান কর্তব্য। শাসিতদের কল্যাণ সাধনের জন্য তিনি সতীদাহ প্রথা রহিত করেন, ঠগী দমন ও পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনসহ বিভিন্ন সংস্কার কর্ম সাধন করেন। সংস্কার কর্মের জন্য তিনি ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। [কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ]
ক
কে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নীতি প্রবর্তন করেন?

উত্তর

লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
খ
স্বত্ববিলোপ নীতির প্রকৃতি কী ছিল?

উত্তর

স্বত্ববিলোপ নীতির প্রকৃতি ছিল লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক গৃহীত একটি নীতি যাতে বলা হয় রাজবংশের কোনো উত্তারাধিকার না থাকলে রাজার মৃত্যুর পর রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজভুক্ত হবে। মূলত ব্রিটিশদের আশ্রিত যেকোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশের কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সে রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এবং দত্তক বা পালিত পুত্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক গৃহীত এ নীতিই স্বত্ববিলোপ নীতি হিসেবে অভিহিত।
গ
উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সামাজিক সংস্কারসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সাথে আমার পঠিত সংস্কারক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের মিল বিদ্যমান। তার শাসনামল ভারতবর্ষে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের জন্য প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। তবে একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবেই তিনি সমধিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি ভারতীয় সমাজব্যবস্থা থেকে সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করে ইতিহাসে সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তিনি এই অমানবিক শাস্তিদান প্রথায় ব্যথিত হয়ে ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে এর বিলোপ সাধন করেন। এছাড়া তিনি তৎকালীন হিন্দুরীতি অনুযায়ী দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রথম সন্তানকে গঙ্গায় নিক্ষেপ এবং বিবাহ দেওয়ার অক্ষমতা হেতু শিশুকন্যাকে গলাটিপে হত্যা করার প্রথাও চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অতঃপর তিনি ভারতের সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত ঠগীদস্যু দমনে মনোনিবেশ করেন। মুঘলদের পতনের যুগে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এ ঠগী দস্যুদের আবির্ভাব ঘটে। তারা ভারতবর্ষের সর্বত্র লুট, অত্যাচার এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দস্যুবৃত্তি পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করত। তিনি কর্নেল স্লিম্যানের মাধ্যমে এ ঠগী দস্যুদের দমন করেন। তিনি ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় সমাজে ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারের প্রচলন করেন। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচিত সংস্কারকের সামাজিক সংস্কারসমূহ উল্লেখযোগ্য।
ঘ
উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার কীভাবে মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার অর্থাৎ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের সংস্কার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক ছিল। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতীয় অর্থনীতি, বিচার প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার করেন। শাসনভার গ্রহণ করে বেন্টিংক অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। তিনি বোর্ড অব ডাইরেক্টরের নিকট থেকে ব্যয় সংকোচ ও যুদ্ধনীতি পরিত্যাগের সুস্পষ্ট নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কোম্পানির সামরিক ও বেসামরিক ব্যয় সংকোচের জন্য বহু কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেন এবং অন্যান্য কর্মচারীর বেতন হ্রাস করেন। শান্তিকালীন সময়ে সামরিক কর্মচারীদের অর্ধেক ভাতা দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল, তা তিনি রহিত করেন। এছাড়া তিনি কর্নওয়ালিসের রাজত্বকালের প্রাদেশিক আপিল কোর্টগুলো বাতিল করে উত্তর প্রদেশে জমি জরিপের ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার প্রবর্তনের লক্ষ্যে কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত প্রাদেশিক বিচারালয়গুলো রহিত করে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জেলা কালেক্টরের ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি কয়েকটি জেলা একত্রিত করে একটি বিভাগ গঠন করেন এবং প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনারের ওপর ন্যস্ত করেন। তাছাড়া তিনি ভারতীয় বিচারকদের জন্য সাবজজ পদ সৃষ্টি করে ভারতবাসীর কৃতজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রথম থেকে ভারতীয় জেলাগুলোর প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনারের ওপর ন্যস্ত করেন। বোর্ড অব রেভিনিউ এর সদর দপ্তর কলকাতা থেকে এলাহাবাদে স্থানান্তরিত হয়। ভারতীয় বিচারালয়গুলোতে ফার্সি ভাষার পরিবর্তে দেশীয় ভাষার প্রচলন শুরু হয়। আর তিনি একটি আইন কমিশন গঠন করে ভারতীয় পেনাল কোডের ভিত্তি রচনা করেন। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তির সংস্কার মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো