HSCFinance 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
নিবেদিতা রহমান একজন সফল শেয়ার ব্যবসায়ী। তিনি শেয়ার কেনাবেচা করে বেশ মুনাফা অর্জন করেছেন। তিনি একটি পাবলিক লি. কোম্পানির শেয়ারের পূর্ণমূল্য পরিশোধ করায় কোম্পানি তার নামে একটি প্রমাণপত্র ইস্যু করে।
[মতিঝিল মন্ডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ]
ক
ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীর লিখিত নির্দেশকে কী বলা হয়?
উত্তর
ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীর লিখিত নির্দেশনাকে চেক বলে।
খ
বিনিময় বিলের প্রধান কাজ কী?
উত্তর
ধারে ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি হতে উদ্ভূত পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে সহায়তা করা বিনিময় বিলের প্রধান কাজ।
বিনিময় বিল হলো এমন এক প্রকার দলিল যাতে কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য শর্তহীন নির্দেশ প্রদান করে এবং অপরপক্ষ এতে স্বীকৃতি প্রদান করলে তা মূল্যবান দলিল হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বিনিময় বিল বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে তা ব্যাংকে বাট্টাকরণ করা যায়।
গ
কোম্পানি নিবেদিতার নামে কোন ধরনের প্রমাণপত্র ইস্যু করেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের কোম্পানি নিবেদিতা রহমানের নামে যে প্রমাণপত্র ইস্যু করেছে তা হলো একটি শেয়ার ওয়ারেন্ট।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি শেয়ারের পূর্ণমূল্য পরিশোধের জন্য শেয়ারগ্রহিতাকে যে দলিল দেয় তাই শেয়ার ওয়ারেন্ট। এ দলিলে শেয়ারমালিকের নাম লিখা থাকে না। শুধু শেয়ারের নামিক মূল্য ও ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ দলিল অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তর করা যায়।
উদ্দীপকে নিবেদিতা রহমান একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। শেয়ার কেনা- বেচার মাধ্যমে তিনি মুনাফা অর্জন করেন। তিনি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারের জন্য পূর্ণমূল্য পরিশোধ করেন। এতে কোম্পানি তার নামে একটি প্রমাণপত্র ইস্যু করে। সাধারণত শেয়ারের পূর্ণমূল্য পরিশোধের জন্য শেয়ার ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। এটি শেয়ারের মালিকের জন্য শেয়ার ক্রয়ের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কোম্পানি নিবেদিতা রহমান নামে একটি শেয়ার ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিবেদিতা রহমানের প্রমাণপত্রটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর
শেয়ার ওয়ারেন্ট অর্পণের দ্বারা হস্তান্তর করা যায় বলে নিবেদিতা রহমানের দলিলটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে আমি মনে করি।
এক হাত থেকে অন্য হাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে যে দলিলের মালিকানা বা স্বত্ব হস্তান্তর হয় তাকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল আইন প্রচলিত আছে। এ দলিলের আওতায় বিনিময় বিল, চেক, প্রতিজ্ঞাপত্র, শেয়ার ওয়ারেন্ট উল্লেখযোগ্য হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল।
উদ্দীপকে নিবেদিতা রহমান শেয়ার কেনা-বেচা করে মুনাফা অর্জন করে। এক্ষেত্রে তিনি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারের পূর্ণমূল্য পরিশোধ করেন। ফলে কোম্পানিটি তাকে একটি প্রমাণপত্র ইস্যু করে।
উদ্দীপকে ইস্যুকৃত প্রমাণপত্রটি হলো শেয়ার ওয়ারেন্ট। কোনো কোম্পানির শেয়ারের পূর্ণমূল্য পরিশোধ করা হলে এর বিপরীতে কোম্পানির শেয়ারমালিককে এ দলিল ইস্যু করে। শেয়ারমালিক শেয়ারের মালিকানার জন্য এটি প্রমাণপত্র হিসেবে সংরক্ষণ করে। এতে শেয়ারমালিকের নাম লিখা থাকে না। শুধু অর্পণের দ্বারা এটি হস্তান্তর করা হয়। এভাবে মালিকানা বা স্বত্ব হস্তান্তর করা যায় বলে উদ্দীপকে উল্লিখিত শেয়ার ওয়ারেন্টটিকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলা যৌক্তিক হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো