"সমাজকর্মের জ্ঞান এবং সমাজকর্ম সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জনের প্রধান উৎস সমাজকর্ম গবেষণা।"- এ উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং যথার্থ বলে আমি মনে করি। সমাজকর্মের পেশাগত ভিত্তি ও কার্যকারিতার জন্য গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম।সমাজকর্ম গবেষণা হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টির একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এটি সামাজিক সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে এবং পদ্ধতিগতভাবে তদন্ত করে, তাদের মূল কারণ, প্রভাব এবং সমাধানের সম্ভাব্য পথগুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। এই গবেষণালব্ধ তথ্য ও তত্ত্বগুলোই সমাজকর্মের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে এবং এটি সমাজকর্মীদের তাদের অনুশীলনকে আরও কার্যকর ও পেশাদারি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও সমাজকর্ম গবেষণার প্রক্রিয়ায় একজন সমাজকর্মী বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার ক্ষমতা, তথ্য সংগ্রহের কৌশল, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যা মাঠপর্যায়ে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা সমাজকর্ম অনুশীলনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি অনুমাননির্ভর কাজ থেকে বেরিয়ে এসে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।উদ্দীপকে প্রফেসর 'এম'-এর ভূমিকা এ বিষয়টিরই প্রতিফলন। তিনি মৃৎশিল্পীদের সমস্যা সমাধানের জন্য কেবল কাজ শুরু করেননি, বরং প্রথমে গবেষণা (তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা) করেছেন। তার এ গবেষণা থেকেই মৃৎশিল্পীদের সমস্যার প্রকৃত জ্ঞান এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয়েছে। সুতরাং, সমাজকর্ম পেশার জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সমাজকর্ম গবেষণার ভূমিকা প্রধান ও অপরিহার্য।