নারী শিক্ষা বিস্তারে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজ সংস্কারকের (বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন) কাজ ছিল যুগান্তকারী ও বিপ্লবী।বেগম রোকেয়া এমন একটি সময়ে নারী শিক্ষা প্রসারে কাজ শুরু করেন যখন মুসলিম সমাজে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণকে অনৈতিক ও অপ্রয়োজনীয় মনে করা হতো। তিনি শুধু নারী শিক্ষার পক্ষে লেখন বা বক্তব্য দিয়েই থেমে থাকেননি, বরং বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে এবং ১৯১১ সালে কলকাতায় শাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই উদ্যোগ সমাজের রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছিল। তার 'সুলতানার স্বপ্ন' ও 'অবরোধবাসিনী'র মতো কালজয়ী সাহিত্যকর্মগুলো নারীদের দুর্দশা, তাদের প্রতি সমাজের অবিচার এবং শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই বাঙালি মুসলিম নারীরা শিক্ষালাভের সুযোগ পান এবং তারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কূপমণ্ডকতা থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজে পান। বেগম রোকেয়ার কাজ ছিল নারী মুক্তির আন্দোলনের প্রথম বীজ বপন করা, যা পরবর্তীতে নারী শিক্ষার বিস্তারকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করে। তার কাজ নারী জাগরণের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল এবং এখনো তিনি নারী শিক্ষার অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল প্রতীক।বেগম রোকেয়ার এই কাজ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি শুধু নারী শিক্ষার প্রয়োজনকে সামনে নিয়ে আসেননি, বরং তিনি এমন একটি পথ তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন, যা নারীদের স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতার দিকে পরিচালিত করেছে। তার দেখানো পথ ধরেই বেগম জামিলার মতো অনেকেই নারী শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে এসেছেন। এভাবে বেগম রোকেয়ার কাজ একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের অনুপ্রেরণা যোগায়।