উদ্দীপকে জাহিন ও আক্কাসের জীবিকা নির্বাহের পন্থাটি পেশা ও বৃত্তির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটিই বিদ্যমান। নিচে এদের অমিল বিশ্লেষণ করা হলো-পেশা ও বৃত্তি উভয়টি জীবিকা নির্বাহের পন্থা, যা শ্রমনির্ভর এবং জনসমষ্টির সেবাকর্ম হিসেবে একে অপরের সদৃশ। এসব মিল থাকা সত্ত্বেও উভয়টির মধ্যে অমিলও সুস্পষ্ট। প্রথমত, পেশার ক্ষেত্রে সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান আবশ্যক, বৃত্তির ক্ষেত্রে তা নয়। দ্বিতীয়ত, নৈপুণ্য ও দক্ষতানির্ভর কাজ হলো পেশা, আর শ্রমনির্ভর কাজ হলো বৃত্তি। তৃতীয়ত, পেশাকর্ম করতে ব্যক্তিকে পেশাগত মূল্যবোধ ও মানদণ্ড মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে, বৃত্তিতে এরকম কোনো নীতি মানতে হয়। না। চতুর্থত, পেশার ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন, অন্যটির নয়। পঞ্চমত, পেশার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবা করা; কিন্তু বৃত্তির উদ্দেশ্য ব্যতিক্রম হতে পারে। ষষ্ঠত, পেশাদার কর্মের জন্য জবাবদিহি অপরিহার্য, যা পেশার গ্রহণযোগ্যতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, বৃত্তিতে জবাবদিহির ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সপ্তমত, পেশার ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা সনদপত্র থাকা আবশ্যক। কিন্তু বৃত্তির ক্ষেত্রে অনাবশ্যক। তাই বলা যায় , জাহিন ও আক্কাসের জীবিকা নির্বাহের মধ্যে মিল থাকলেও পাশাপাশি অমিল রয়েছে।