বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে, যার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।বিধবা বিবাহ প্রচলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। তিনি কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং যুক্তির মাধ্যমে তাঁর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান। প্রথমেই তিনি শাস্ত্রী যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব'-এ প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ নয়। এটি তৎকালীন সমাজের রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জবাব ছিল।তিনি কেবল শাস্ত্রীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বিধবা বিবাহের পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠনে মনোনিবেশ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজের সাধারণ মানুষের সমর্থন ছাড়া এই আন্দোলন সফল হবে না। তাঁর নিরলস প্রচারণার ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকারও এই আইনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে। এরপর তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়।বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য আসে যখন ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে বিধবাদের পুনর্বিবাহ আইনত বৈধতা লাভ করে। আইন প্রণয়ন করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং এটি সমাজে কার্যকর করার জন্য নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।সুতরাং বলা যায়, বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলন শুধু একটি আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল সমাজের একটি মানবিক ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রতিফলন।
HSC Social Work 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Social Work 1st Paper · সৃজনশীল
বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনের অবদান মূল্যায়ন…
উদ্দীপক
Dhaka, comilla, sylhet, barisal, mymensingh · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর