উদ্দীপকে সমাজ সংস্কারমূলক বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই আন্দোলনটি মূলত হিন্দু সমাজে বিধবাদের করুণ জীবন এবং তাদের পুনরায় বিয়ে করার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল।বিধবা বিবাহ বলতে এমন একটি প্রথা বোঝায় যেখানে কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে সে নতুন করে বিয়ে করতে পারে। প্রাচীন হিন্দু সমাজে বিধবারা নানা কুসংস্কার ও অবহেলার শিকার হতো এবং তাদের স্বামী মারা গেলে পুনরায় বিয়ে করার সুযোগ ছিল না। এই অবমাননাকর প্রথা উচ্ছেদের জন্য বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যার ফলস্বরূপ বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটে এবং বিধবা নারীরা মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নতুন জীবনের সুযোগ লাভ করে।উদ্দীপকের পুষ্পাঞ্জলির গল্পে দেখা যায়, সমাজে বিধবাদের দ্বিতীয় বিয়ের কোনো সুযোগ ছিল না, যা তাদের জীবনকে অমানবিক করে তুলেছিল। এই অমানবিক অবস্থার অবসানের জন্য একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হয়, যিনি বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালান। তার এই আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়, যা বিধবাদের নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। এই আইনটি ছিল তৎকালীন সমাজের একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজ সংস্কারমূলক বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।