অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তার যে ভয়াবহ পরিণতি হতো পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তাকে অমানবিক ও দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে হতো। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতীয় হিন্দু সমাজে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। বরং মৃত স্বামীর সাথে একই চিতায় স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রচলন ছিল। এটি সে সময় সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত ছিল। তবে রাজা রামমোহনের রায়ের প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হলে এ সমস্যা নতুন মোড় নেয়। সে সময় হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহও ব্যাপক প্রচলিত ছিল। বংশের মান রক্ষার অজুহাতে অল্প বয়সেই মেয়েদের দ্বিগুণ বয়সের পুরুষের সাথে বিয়ে দেওয়া হতো। দ্বিতীয় বিবাহের সুযোগ না থাকায় স্বামী মারা গেলে আজীবন তাদের বিধবা হয়ে থাকতে হতো। এছাড়া হিন্দু আইন অনুসারে পিতার সম্পত্তিতে কন্যার উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি ছিল না। এ কারণে হিন্দু বিধবারা পিতা বা ভাইদের সংসারে অথবা শ্বশুরবাড়ি বা অন্য কোথাও মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হতো। অনেক সময়ে তারা নানারকম অসামাজিক কাজে জড়িত হতো। এমনকি জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে তারা পতিতাবৃত্তিতে সংশ্লিষ্ট হতো। উদ্দীপকে অতসীর স্বামী মারা গেলে তাকে দ্বিতীয় বিবাহ দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্বামী যদি অষ্টাদশ শতাব্দীতে মারা যেত তাহলে সে আবার বিবাহ করতে পারত না। বরং তাকে তার বাবার বাড়ি অথবা শ্বশুর বাড়ি বা অন্য কোথাও পরাধীন জীবনযাপন করতে হতো। আবার জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সেও হয়তো কোনো অসামাজিক কাজে জড়িত হতে বাধ্য হতো। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতো।
HSC Social Work 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Social Work 1st Paper · সৃজনশীল
অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তার যে ভয়াবহ পরিণতি হতো প…
উদ্দীপক
Rajshahi · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর