মানুষের জীবনে উক্ত প্রত্যয়ের অর্থাৎ সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে আধুনিক সমাজজীবনের বিভিন্ন বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র কর্তৃক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গৃহীত হয়। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন, বিমা, শিশুকল্যাণ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মানুষের জীবনে এক ধরনের নিশ্চয়তা বিধান করছে।
আধুনিক শিল্প-সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রতিবন্ধিত্ব, বেকারত্ব, বার্ধক্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যকেই কোনো না কোনো সময়ে আকস্মিকভাবে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ অক্ষম ও কর্মহীন হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে। এসব আকস্মিক ও শোচনীয় অবস্থা মোকাবিলা করে জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। প্রকৃতপক্ষে সামাজিক নিরাপত্তা কেবল ব্যক্তিবিশেষের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের উপায় নয়, এটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার ও অন্যতম পূর্বশর্ত।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অপরিসীম।