উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গোপালের কর্মকাণ্ড সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান দেবোত্তর এবং সুমনের কর্মকাণ্ড ওয়াক্ফকে নির্দেশ করে। এ প্রতিষ্ঠান দুটি বৈষয়িক সহায়তার মাধ্যমে জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মুসলমানদের ওয়াক্ফ এবং হিন্দুদের দেবোত্তর উভয়ই স্বেচ্ছামূলক দান ব্যবস্থা। হিন্দুরা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কোনো সম্পত্তি উৎসর্গ করলে তাকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে। ধর্মীয় শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ, অনাথ আশ্রম, মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেবোত্তর প্রথায় সম্পত্তি উৎসর্গ করা হয়। আর জনহিতকর কাজে মুসলমানদের সম্পত্তি দানের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে ওয়াক্ফ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গোপাল ও সুমনের কর্মকাণ্ড যথাক্রমে দেবোত্তর ও ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠান বা প্রথাকে তুলে ধরে। জনকল্যাণে প্রতিষ্ঠান দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন- দাতব্য চিকিৎসালয়, এতিমখানা, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট প্রভৃতি নির্মাণ করা যায়। অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অসহায় ও দুস্থদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আত্মীয়-স্বজন ও আশ্রিত ব্যক্তিদের সহায়তা করা যায়। আর সমাজকল্যাণ ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে দেবোত্তর হিন্দুধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসর্গকৃত সাহায্য দান ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাদান প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুস্থদের কল্যাণ, স্কুল-কলেজ স্থাপন প্রভৃতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়। উদ্দীপকের গোপাল ও সুমনের উৎসর্গীকৃত সম্পত্তি দেবোত্তর ও ওয়াফের মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা যেতে পারে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের গোপাল ও সুমনের কর্মকাণ্ড দেবাত্তর ও ওয়াক্ফ জনকল্যাণে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।