উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতির গুরুত্ব ক্রমশ বর্তমান আধুনিক বস্তুবাদী যান্ত্রিক সমাজে বেড়েই চলছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-বর্তমান সমাজে অবহেলিত, নিপীড়িত ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা ও অবহেলার করুণ সুর আরও তীব্রতর হচ্ছে। এক্ষেত্রে সামাজিক কার্যক্রম বাঞ্ছিত সামাজিক পরিবর্তন ও সংস্কার সাধনের মাধ্যমে সমাজ থেকে বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা এবং এ কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাই আধুনিক ও জটিল সমাজের ক্ষতিকর ও অবাঞ্ছিত প্রখা, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি সম্পর্কে জনগণকে সোচ্চার করে জনমত সৃষ্টি করতে সামাজিক কার্যক্রমের ব্যতিক্রম হয় না। আবার, বর্তমান সমাজে নারী ও শিশু শ্রম, চোরাচালান, বস্তি সমস্যা, সামাজিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় ইত্যাদি সমস্যার পাশাপাশি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এসব সমস্যা প্রতিরোধে সামাজিক কার্যক্রম সমষ্টির সকলের অংশগ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মোটকথা, সমাজে বিদ্যমান যেকোনো ধরনের কুসংস্কার বা অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার পরিবর্তনে সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি একটি কার্যকর ব্যবস্থা। তাই বলা যায়, সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতির গুরুত্ব বর্তমান সমাজে বেড়েই চলছে।