ললিতা রায় ও নুরজাহানের দান মানব কল্যাণে অবদান রাখছে - নিম্নে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো: উদ্দীপকের ললিতা রায়ের দান দেবোত্তর প্রত্যয়কে ইঙ্গিত করে এবং নুরজাহানের দান ওয়াকফ কে ইঙ্গিত করে। হিন্দু ধর্ম মতে কোন ব্যক্তির সম্পত্তি মন্দির, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আশ্রম বা জনহিত কর্মকান্ডে ব্যয় করা হলে তাকে দেবোত্তর বলে। সাধারণত সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন, পূর্ণ অর্জন, পাপমোচন এর উদ্দেশ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবোত্তর করে থাকে। আবার কোন ধর্মীয় বা জনহিতকর কাজে স্থায়ীভাবে মুসলমানরা যে সম্পত্তি দান করে সেটি ওয়াকফ। সাধারণত ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দ্বারা বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, অসহায় ও দরিদ্রদের দান, রাস্তাঘাট সংস্কার ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয়। উপরের আলোচনা থেকে আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি দেবোত্তর ও ওয়াকফ উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণত জনহিতকার কর্মকান্ড হয়ে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন মসজিদ মন্দির ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধানের ফলে মানুষ ধর্মচর্চা করতে সহজ হচ্ছে অন্যদিকে আশ্রম এতিমখানা ইত্যাদিতে ধানের ক্ষেত্রে মানুষের শিক্ষা অর্জনের সহায়তা হচ্ছে। এছাড়াও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে সকল মানুষেরই সহায়তা হচ্ছে। যেমন রাস্তা সংস্কার বা পুল নির্মাণের মাধ্যমে সমাজের অনেক উপকার হচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায়, এক্ষেত্রে মানব কল্যাণই হচ্ছে। তাই বলা যায়, ললিতা রায় ও নুরজাহানের দান মানব কল্যাণে অবদান রাখছে, উক্তিটি যথার্থ।