উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি সমাজকর্ম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনোসামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যেই সমাজকর্মের অভ্যুদয়। বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্ম সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মনীষী ফ্রিডল্যান্ডার ও এপট সমাজকর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “জনগণের সাহায্যার্থে আইন বা কর্মসূচি জানার চেয়ে সমাজকর্ম অধ্যয়ন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তি, পরিবার, দল ও প্রতিষ্ঠান এবং সমষ্টি কীভাবে কাজ করে, তা জানার মধ্যে সমাজকর্ম পাঠের তাৎপর্য নিহিত।” সমাজকর্ম সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের ব্যক্তিগত, দলীয় ও সমষ্টির সমস্যাসহ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টা চালায়। বিশেষ করে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা, জনসংখ্যা স্ফীতি, বেকারত্ব, অপরাধ, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, বস্তি সমস্যা, সন্ত্রাস প্রভৃতি মোকাবিলাতে সমাজকর্ম প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে, যা সমাজের অগ্রগতি সাধন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি সমাজকর্ম সকল স্তরের জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে । তাই সংগত কারণে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজকর্মের গুরত্ব অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সমস্যামুক্ত সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল মানুষের স্বনির্ভরতা অর্জন অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজের সার্বিক কল্যাণ অসম্ভব। সমাজে ন্যায়বিচার থাকলে সামাজিক অসন্তোষ ও বৈষম্য হ্রাস পায় । এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মানুষের অন্তর্নিহিত মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, সম্পদের সুষম বন্টন ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালায়। তাছাড়া জনগণের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নে সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।