বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সেবাকর্ম হিসেবে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, নীতিমালা, মূল্যবোধের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকের রিনা সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। সমাজকর্মের জ্ঞান, কৌশল ও পদ্ধতি বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের অস্থিতিশীল আর্থ- সামাজিক পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। যে কারণে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জনসংখ্যাস্ফীতি, বেকারত্ব, অপরাধ প্রবণতা, সন্ত্রাস ইত্যাদির মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিনিয়ত দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মের প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিকল্প নেই। এছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, প্রয়োজন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ করা যায়। একইসাথে সমাজকর্মে নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্যের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক স্বনির্ভরতা অর্জনকে উৎসাহিত করা হয়। তাই বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে সমাজকর্মের নীতি, পদ্ধতি ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিক আলোচনায় তাই বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সীমিত সম্পদের যথার্থ ব্যবহার এবং মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।