উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজকর্ম পেশা সমাজের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
শিল্প বিপ্লব পরবর্তী যান্ত্রিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় সমাজকর্মের কৌশল ও পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ, চিন্তা-চেতনা প্রভৃতিও পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যক্তি ও সমষ্টিকে সহায়তা করে সমাজকর্ম। উদ্দীপকে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের আমজাদ হোসেন একসময় জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে শহরে থেকেছেন। এখন তার সন্তানরাও বিদেশে থাকে। ন্যূনতম প্রয়োজনের সময়ও তিনি তাদের কাছে পান না। ফলে সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেড়েছে। আর এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব হয়েছে। মূলত শিল্পায়ন ও শহরায়নের ফলে আমাদের সমাজব্যবস্থা প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। সমাজকর্ম পেশার পদ্ধতি ও কৌশল ব্যক্তি ও দলকে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানে বিশেষভাবে সহায়তা করে। যেকোনো দেশের সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক হলো কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতি। সমাজকর্ম পেশা এসব কুসংস্কার ও কু-প্রথার প্রকৃতি, কারণ ও সমাধানের কৌশল নিয়ে ব্যক্তি ও সমষ্টির সাথে কাজ করে। এছাড়া পেশাদার সমাজকর্মীগণ সমাজকর্মের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করে থাকেন। এভাবে সমাজকর্ম পেশা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজকর্ম পেশা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।