উদ্দীপকে উল্লিখিত মনীষীর সংজ্ঞার আলোকে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।আমাদের পার্থিব জীবনের অসীম চাহিদা মেটানোর জন্য সসীম সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে সমাজকর্ম শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। উদ্দীপকে হার্বাট বিসনো তার সংজ্ঞায় সামাজিক ও মানসিক বাধা দূর করে ব্যক্তিকে একক ও দলীয়ভাবে সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক বাধা যেমন-কুসংস্কার, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, কুপ্রথা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূরীকরণে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।আবার সংজ্ঞানুযায়ী বিভিন্ন মানসিক বাধা যেমন- মানসিক সংকীর্ণতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, আগ্রহের অভাব, ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণেও সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজীয়নতা রয়েছে। সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যক্তি, দল, সমষ্টিকে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে এর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে। এছাড়া এই বিষয়টি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি করে।সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নে অপরিহার্য। এটি সামাজিক সমস্যা সমাধান, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রদায়গত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মনীষীর সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।