সমাজকর্ম পেশা বিকাশের ক্ষেত্রে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই আইনকে আধুনিক সমাজকর্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।১৬০১ সালের দরিদ্র আইন সর্বপ্রথম দরিদ্রদের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগঠিত সহায়তা ব্যবস্থা চালু করে। এর আগে দরিদ্রদের সাহায্য করা হতো মূলত ব্যক্তিগত বা চার্চের উদ্যোগে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো ছিল না। ১৬০১ সালের আইনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য করা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটিই সমাজকর্মকে একটি সুশৃঙ্খল এবং সংগঠিত পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল।'এই আইন দরিদ্রদের শ্রেণিকরণ করে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সাহায্য করার পদ্ধতি চালু করে, যা আধুনিক সমাজকর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই আইনে দরিদ্রের সক্ষম, অক্ষম এবং নির্ভরশীল বালক-বালিকা এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই আইন অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন দরিদ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তাদের সেবা দিতে বাধ্য থাকে। এমনকি যারা কাজ করতে সক্ষম কিন্তু কাজ করছে না তাদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেকার, শিশু, অক্ষম ও ভবঘুরে লোকদের জন্য পুনর্বাসন, তত্ত্বাবধান ও প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই আইনের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল সমাজের বিত্তবানদের ওপর 'দরিদ্র কর' আরোপ, যা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হতো।পরিশেষে বলা যায়, সমাজকর্ম পেশার বিকাশের ক্ষেত্রে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইফলক, যা পরবর্তীতে সমাজকর্মকে পেশাদার সমাজকর্মে রূপ দিতে সাহায্য করে।