শেয়ারFacebookWhatsApp

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর: মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার ভূমিকা : বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়েপড়েছে নেশার উপকরণ। নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়। এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। ড্রাগ বা মাদকাসক্তি অতি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ। নিজের প্রকৃতিকে বাইরের মাদক দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ করার প্রবণতা চিরকালই মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রকৃতির দাস নয়, এই আসক্তির বিপরীত সংস্কারও মানুষের মধ্যে আছে। তাই মানুষ অতীতে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়েও বহু ক্ষেত্রে আবার তা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক হতে পেরেছে। আজও আমাদের এদিক থেকে সচেতন হতে হবে, ড্রাগের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এদেশের তরুণ সমাজকে। মাদকদ্রব্যসমূহ: মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে, আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে, একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষে আবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর। নারকোটিক ড্রাগ একজাতীয় মাদকদ্রব্য। হেরোইন, ব্রাউন সুগার, এল-এস-ডি, স্ম্যাক ইত্যাদি নানা রকম এর নাম। মানুষের নেশার জন্য রয়েছে আরও অনেক ড্রাগ। যেমন গাঁজা, আফিম, চরস, ভাং, পেথিডিন, মরফিন, হাসিস, কোকেন ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম ঘুমের ট্যাবলেট। অধুনা আকাঁড়া কোকেনের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের মাদকদ্রব্য। এ নতুন ড্রাগ 'বাজুকো' নামে ইউরোপের বাজারগুলোতে এখন বেশ জমজমাট। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। সর্বনাশা নেশার উৎসভূমিঃমাদকের উৎস বিদেশের নানান দেশে। আমেরিকা মহাদেশের কলম্বিয়া, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকায় নারকোটিক ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র আছে। আমাজানের অববাহিকার গভীর জঙ্গলে 'ল্যান্ড অব ট্যাঙ্ককোয়েলিটি' নামক অঞ্চলে নারকোটিক ড্রাগ শিল্পের বেআইনি শহরটির কথা প্রসংগত স্মরণ করা যায়।এশিয়ার তিনটি এলাকায় প্রধানত পপি উৎপাদিত হয়। এলাকা তিনটি হলো- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগের কবলে বাংলাদেশঃ ড্রাগের উৎপাদন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন, কোকেন, হেম্প, ব্রাউন সুগার, ওপিয়াম ডেরিভেটিস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ। ১/১৬ গ্রাম হেরোইন বা ব্রাউন সুগার দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তি আর এ নেশা থেকে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারে না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও যারা এ নেশার কবলে একবার প্রবেশ করেছে, তারা হয়েছে নরকের কারাগারে বন্দি। মাদকাসক্তির কারণ: বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহল মেটাতেও মানুষ দু-একবার মাদক সেবন করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি সেই আসক্তি থেকে। কোথাও কোনো মানসিক আঘাত পেলে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্যও মানুষ মাদক সেবন করে, কিন্তু পরে তা নেশায় পরিণত হয়। তাছাড়া চিরন্তন নতুনত্বের নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ এবং সাময়িক ভালো লাগার বশবর্তী হয়েও অনেকে আসক্ত হয়। দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় কেউ কেউ নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পেরে হতাশায় ভোগে এবং তা থেকে আসক্ত হতে শুরু করে। মাদকাসক্ত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরাও দূর থেকে কাজ করে। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতি: মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ড্রাগে অভ্যন্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। চেহারাও হয়ে যায় বুক্ষ। ক্ষুধা না পাওয়া এবং দ্রুত ওজন হ্রাস এই আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। দেখা যায়, তারা যখন-তখন নিজের ঘরে ফিরে আসছে। সেই সঙ্গে বইপত্র, খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা, পায়খানা বা বাথরুমে বেশি সময় কাটানো, চোখের তারা ছোটো হয়ে যাওয়া, এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়। এ সময় থেকেই অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এ ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। প্রতিকার: আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে অক্রত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বজুড়ে তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সব দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাসক্তির কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এই ভয়ংকর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করা আবশ্যক। উপসংহার: মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। মাদক ব্যাবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2026

উত্তর

ক্রিকেটে বাংলাদেশ; ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি আসছে, আনন্দ আর উল্লাসেতে দেশের মানুষ হাসছে। ভূমিকা: বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। ক্রিকেটের মতো একটি রাজকীয় খেলায় বাংলাদেশের প্রবেশ, উত্থান ও অগ্রযাত্রা বিস্ময়কর না হলেও আনন্দের। এ খেলার জন্ম হয়েছে ইংল্যান্ডে আজ থেকে প্রায় সাতশ বছর আগে। বর্তমানে অনেক দেশে ক্রিকেট খেলা প্রচলিত। ক্রিকেট সম্বন্ধে Tony Greig বলেন, "Cricket is more exciting than football." আসলে ক্রিকেট সারাবিশ্বে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সর্বোপরি খেলোয়াড়দের অদম্য অগ্রহের কারণে বাংলাদেশ আজ ক্রিকেট বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। এই পরিচয়কে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ক্রিকেটের প্রতি সব সময় আমাদের আন্তরিকতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পূর্ব ইতিহাসঃবাংলাদেশে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতা পূর্বকালে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর। বৈষম্য নীতির কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তেমন কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও বাংলাদেশের লোকেরা বসে থাকেনি। বাঙালিরা সব সময় স্বাধীন স্পৃহায় অদম্য ছিল। এদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তারা পদানত হতে দেয়নি। তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ক্রিকেট পরিবারের সদস্য পদ এবং ক্রিকেটের অভিজাত পরিবারের মর্যাদা টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সফলতা: বাংলাদেশ স্বাধীনতাপূর্ব কাল থেকে ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করলেও তেমন একটা সফলতা পায়নি। - স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন খেলার সাথে ক্রিকেটের মানোন্নয়নের ব্যাপারে তৎপর হয়। গঠিত হয় 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড'। ১৯৭৬ সালের ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি-র সহযোগী সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম আইসিসি'তে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ তার আগমন বার্তা জানিয়ে দেয়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি'র ষষ্ঠ আসর বসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। ২৪ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আইসিসি ট্রফি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় শক্তিশালী কেনিয়াকে ২ উইকেটে পরাজিত করে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব লাভ করে এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে স্থান করে নেয়। ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশঃ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত খেলায় আইসিসি ট্রফি জয়লাভের পর বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাসের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক আইসিসি'র কাছে জোর দাবি জানায়। আইসিসি'র কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিয়ে ভাবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করা হয়। বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ: আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মূলপর্বে অংশগ্রহণ করে ১৯৯৯ সালে। সপ্তম বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সুপার এইটে স্থান করে নেয়। দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম রাউন্ডে ছয়টি খেলার মধ্যে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তিনটি খেলা থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ১৯ মার্চ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের সঙ্গে হেরে গেলে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়। ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ সাতটি ম্যাচ খেলে তিনটিতে জয়লাভ করে, একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান: question image বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ: ১. ১৯৯৯: পাকিস্তানকে ৬২ রানে পরাজিত করে বিশ্ব ক্রিকেটে চমক সৃষ্টি করে। ২. ২০০৭: ভারতকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে সুপার এইটে পৌঁছে। ৩. ২০১৫: ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে। ৪. ২০১৯: শাকিব আল হাসান ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স: বাংলাদেশ ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয়লাভ করে এবং সাতটিতে পরাজিত হয়। দলটি টেবিলের নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে এবং ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারী: ১. শাকিব আল হাসান: ৩৬ ম্যাচে ১,৩৩২ রান ও ৪৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারি। ২. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: ২১ ম্যাচে ৮১৪ রান, যার মধ্যে ৩টি শতরান রয়েছে। ৩. মুশফিকুর রহিম: ৩৪ ম্যাচে ১,০৪২ রান, সর্বোচ্চ স্কোর ১০২*। টেস্ট ক্রিকেট ও বাংলাদেশঃ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস-এর জন্য আইসিসি'র কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু আইসিসি প্রথম দিকে বাংলাদেশের এ দাবিকে গুরুত্বের সাথে দেখেনি। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দুটো দেশকে পরাজিত করে দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। ফলে বিশ্বকাপ পরবর্তী আইসিসির সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবিটি বেশ গুরুত্ব পায়। সব দিক বিবেচনা করে আইসিসি ২০০০ সালের ২৬ জুনের সভায় সবগুলো টেস্ট প্লেয়িং দেশের সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রদান করে। এখন পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে ২৫টিতে বাংলাদেশ জয়লাভকরে। ১৯টি ম্যাচ ড্র করে। ১১২টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করে। উপসংহার: ক্রিকেট বাংলাদেশের জাতীয় আবেগের প্রতীক। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আরও অনেক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন, খেলার জন্য মাঠ প্রয়োজন এবং সারা দেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে একাদশ বিশ্বকাপের সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে অগ্রসর হলে একদিন বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

উত্তর

একটি ঝড়ের রাত ভূমিকা : বাংলাদেশের ষড়ঋতুর মধ্যে গ্রীষ্ম সবচেয়ে খরতাপের ঋতু, ভয়ংকর ঋতু। গ্রীষ্ম দিয়ে আমাদের ঋতুচক্রের যাত্রা শুরু হয়। শেষ ঋতু রোমান্টিক বসন্তের পর ঘামঝরা গ্রীষ্মের আগমন ঘটে। এ সময়ে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবায় তেমন একটা পানি থাকে না। মাঠ ঘাট প্রান্তর শুকিয়ে মাটি ফেটে হা-করে থাকে। চারদিকে শুধু ধূলি আর ধূলি। রসহীন রোদের সুতীব্র উত্তাপে মাথার মগজ গলে যেতে চায়। শূন্য পায়ে মেঠো পথে হাঁটা যায় না। গ্রীষ্মের প্রথম মাস বৈশাখ, কালবৈশাখির মাস। ঝড়-তুফানের তাণ্ডবলীলা শুরু হয় এ মাস থেকে। ঝড়ের পূর্বাভাস: বৈশাখ মাস। ভোর' থেকেই কেমন যেন এক ধরনের গুমোট ভাব ছিল আকাশে। দুপুর বেলার গরমটা একেবারে অসহ্য লাগল। প্রবল বেগে বাতাস বইছে-তবু গরমের দাপটে ঘরে থাকা যায় না। ঘাম ঝরছে অবিরাম। বারবার ঘাম মুছতে হচ্ছে। দুপুর শেষ হয়ে এলো। দুপুরের পরপরই হঠাৎ বাতাস বন্ধ হয়ে গেল। প্রকৃতি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। গাছের একটি পাতাও নড়ছে না। আকাশের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে একখন্ড মেঘ দেখা দিল। মেঘখণ্ড ক্রমে ক্রমে ঘনতর হতে হতে কালো হয়ে উঠল এবং দেখতে দেখতে পূর্ব-দক্ষিণ আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। নদীর অবস্থা: সন্ধ্যার দিকে নদীর অবস্থা ভয়ংকর রূপ ধারণ করল। উঁচু ঢেউগুলো প্রবল বেগে ছুটে এসে নদীর পাড়ে আঘাত খেয়ে ভেঙে পড়ছিল। অনেক দূর থেকে শোনা যাচ্ছিল ঢেউ ভাঙার শব্দ। রেডিও, টেলিভিশন থেকে সতর্কবাণী প্রচারের সাথে সাথে হুঁশিয়ার মাঝিরা আগেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। যেসব নৌকা তখন নদী পাড়ি দিয়ে আসছিল, তাদের আরোহীরা ভয়ে আর্তরব জুড়ে দিল। আবহাওয়ার পরিবর্তন: ক্রমে ক্রমে অন্ধকার হয়ে এলো। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল। আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটল। হঠাৎ করে প্রবল বেগে শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইতে শুরু করল। এতক্ষণ ধরে যে বিস্ফোরিত শব্দে বজ্রের গর্জন চলছিল-তাও থেমে গেল। কেমন একটা গুমগুম ভাব। সবার মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হলো। পথচারীরা স্কুলঘরে, পথের পাশে যে বাড়িতে যে পারল আশ্রয় নিল। শুকনো পাতা ও খড়কুটা শূন্যে উড়তে লাগল। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানিতে এসব দৃশ্য কারও চোখ এড়িয়ে গেল না। সামনে যা কিছু পড়ল তাতেই বাতাস এসে আঘাত করল। মড়াৎ মড়াৎ শব্দে কোনো কোনো গাছের ডাল ভাঙল, কোনোটার ফলমূল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ল, কোনোটা আবার ছিন্নমূল হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ল। লোকালয়ের অবস্থাঃ লোকালয়ের অবস্থাও ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। কোনো ঘরের চাল উড়ে গেল, বেড়া পড়ে গেল, কোনোটা আবার মটমট শব্দ করে ধূলিসাৎ হলো। গরু-বাছুর গোয়ালের এক কোণে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগল। কোনো কোনো গোয়ালের চাল উড়ে গেল। বিদ্যুতের চমকানিতে দেখা গেল গরু-বাছুরের করুণ দৃশ্য। মানুষেরা আজানের বাণী চিৎকার দিয়ে আওড়াতে লাগল। নানা দোয়া-কালাম পড়তে লাগলেন। কালবৈশাখির প্রচন্ড আঘাতে ঘর ভেঙে পড়বে ভেবে কেউবা নিজের দুর্বল ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিল। কেউবা আঘাত খেয়ে কাতর আর্তনাদ করতে লাগল। মুষলধারে শুরু হলো বৃষ্টি। শুরু হলো বজ্রের গর্জন। পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ রূপ ধারণ করল যে, আর বুঝি রক্ষা পাওয়া যাবে না। গভীর রাতের অবস্থা: বৃষ্টি এবং ঝড়ের গতিবেগ আরও বাড়ল। গুড়ুম গুড়ুম বজ্রের গর্জন, মড়াৎ মড়াৎ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। বৃষ্টি আর দমকা বাতায়ের দাপটে বেড়ার ফুটো দিয়ে পানি এসে আমাদের ঘরের মেঝে ডোবার মতো হয়ে গেল। হঠাৎ দরজায় ঠকঠক শব্দ শুনে খিল খোলামাত্র হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকলেন বড়ো চাচা, বড়ো চাচি ও তাদের ছেলেমেয়েরা। তাদের ঘরের চাল উড়ে কোথায় গেছে বলতে পারেন না। এমনিভাবে ভয়ংকর প্রলয়নৃত্য চলল মাঝরাত পর্যন্ত। ঝড়ের পরের দৃশ্য: ভোর হলো। বৃষ্টি থামল। গৃহস্থেরা দা-বঁটি হাতে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হয়ে এলো। রাস্তায় বহু গাছ ভেঙে পড়ে আছে। ঘরের চাল, বেড়া পড়ে আছে। গাছের ডাল কেটে, ঘরের চাল, বেড়া সরিয়ে পথ পরিষ্কারের কাজ শুরু হলো। গৃহস্থেরা প্রথমেই গোয়ালের পথ পরিষ্কার করে নিল। কোনো কোনো গোয়াল ঘর কাত হয়ে আছে, কোনোটা দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে পড়ে গেছে। কারও কারও গোয়াল থেকে রশি ছিঁড়ে গরুগুলো কোথায় পালিয়ে গেছে। পথে-ঘাটে মাঠে-ময়দানে কত পাখি মরে ও আধমরা হয়ে পড়ে আছে তার কোনো হিসাব নেই। ডিমসহ পড়ে আছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। রাশি রাশি আম পড়ে গাছতলা ভরে আছে। ঘরদোর ও গরুবাছুরের দুর্দশার কারণে ওদিকে কারও মনোযোগ নেই। এমন ভয়ংকর কালবৈশাখির রাত আগে আমি আর কখনো দেখিনি। উপসংহার: প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে আমরা অসহায়। বৈশাখ মাস এলে প্রতিবছরই কালবৈশাখি ঝড় হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে ভয়াবহ এবং কোনো কোনো অঞ্চলে ছোটো ধরনের ঝড় হয়। কিন্তু ঝড় থেকে রেহাই পায় না বাংলাদেশের মানুষ। প্রকৃতির এই তাণ্ডবলীলা মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়।

উত্তর

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার ভূমিকা : বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়েপড়েছে নেশার উপকরণ। নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়। এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। ড্রাগ বা মাদকাসক্তি অতি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ। নিজের প্রকৃতিকে বাইরের মাদক দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ করার প্রবণতা চিরকালই মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রকৃতির দাস নয়, এই আসক্তির বিপরীত সংস্কারও মানুষের মধ্যে আছে। তাই মানুষ অতীতে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়েও বহু ক্ষেত্রে আবার তা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক হতে পেরেছে। আজও আমাদের এদিক থেকে সচেতন হতে হবে, ড্রাগের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এদেশের তরুণ সমাজকে। মাদকদ্রব্যসমূহ: মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে, আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে, একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষে আবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর। নারকোটিক ড্রাগ একজাতীয় মাদকদ্রব্য। হেরোইন, ব্রাউন সুগার, এল-এস-ডি, স্ম্যাক ইত্যাদি নানা রকম এর নাম। মানুষের নেশার জন্য রয়েছে আরও অনেক ড্রাগ। যেমন গাঁজা, আফিম, চরস, ভাং, পেথিডিন, মরফিন, হাসিস, কোকেন ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম ঘুমের ট্যাবলেট। অধুনা আকাঁড়া কোকেনের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের মাদকদ্রব্য। এ নতুন ড্রাগ 'বাজুকো' নামে ইউরোপের বাজারগুলোতে এখন বেশ জমজমাট। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। সর্বনাশা নেশার উৎসভূমিঃমাদকের উৎস বিদেশের নানান দেশে। আমেরিকা মহাদেশের কলম্বিয়া, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকায় নারকোটিক ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র আছে। আমাজানের অববাহিকার গভীর জঙ্গলে 'ল্যান্ড অব ট্যাঙ্ককোয়েলিটি' নামক অঞ্চলে নারকোটিক ড্রাগ শিল্পের বেআইনি শহরটির কথা প্রসংগত স্মরণ করা যায়।এশিয়ার তিনটি এলাকায় প্রধানত পপি উৎপাদিত হয়। এলাকা তিনটি হলো- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগের কবলে বাংলাদেশঃ ড্রাগের উৎপাদন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন, কোকেন, হেম্প, ব্রাউন সুগার, ওপিয়াম ডেরিভেটিস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ। ১/১৬ গ্রাম হেরোইন বা ব্রাউন সুগার দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তি আর এ নেশা থেকে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারে না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও যারা এ নেশার কবলে একবার প্রবেশ করেছে, তারা হয়েছে নরকের কারাগারে বন্দি। মাদকাসক্তির কারণ: বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহল মেটাতেও মানুষ দু-একবার মাদক সেবন করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি সেই আসক্তি থেকে। কোথাও কোনো মানসিক আঘাত পেলে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্যও মানুষ মাদক সেবন করে, কিন্তু পরে তা নেশায় পরিণত হয়। তাছাড়া চিরন্তন নতুনত্বের নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ এবং সাময়িক ভালো লাগার বশবর্তী হয়েও অনেকে আসক্ত হয়। দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় কেউ কেউ নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পেরে হতাশায় ভোগে এবং তা থেকে আসক্ত হতে শুরু করে। মাদকাসক্ত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরাও দূর থেকে কাজ করে। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতি: মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ড্রাগে অভ্যন্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। চেহারাও হয়ে যায় বুক্ষ। ক্ষুধা না পাওয়া এবং দ্রুত ওজন হ্রাস এই আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। দেখা যায়, তারা যখন-তখন নিজের ঘরে ফিরে আসছে। সেই সঙ্গে বইপত্র, খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা, পায়খানা বা বাথরুমে বেশি সময় কাটানো, চোখের তারা ছোটো হয়ে যাওয়া, এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়। এ সময় থেকেই অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এ ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। প্রতিকার: আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে অক্রত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বজুড়ে তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সব দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাসক্তির কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এই ভয়ংকর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করা আবশ্যক। উপসংহার: মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। মাদক ব্যাবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।