শেয়ারFacebookWhatsApp

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর: ভূমিকা: ছাত্রজীবন ভবিষ্যতের পল্লবিত মহিরুহের অস্ফুট পটভূমি। ছাত্রজীবনই হলো মানুষের প্রস্তুতিপর্ব। এরই ওপর নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীর পরিণত জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা। তাই ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলা অনুশীলনের প্রকৃষ্ট সময়। এ বিশ্ব এক অদৃশ্য দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের সূত্রে বাঁধা; ক্ষুদ্রতম অণু-পরমাণু থেকে বিশাল বিশাল গ্রহ-নক্ষত্র, পর্যন্ত সর্বত্রই এক কঠোর নিয়মের শাসন বিরাজিত। প্রভাতে পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয় এবং দিবাশেষে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্ত-সবই এক দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের অধীন। ছাত্রজীবনেও প্রয়োজন সেই নিয়মের শাসন। প্রধান কর্তব্য: সংস্কৃত ভাষায় একটা প্রবাদ আছে- 'ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ।' অর্থাৎ অধ্যয়ন বা লেখাপড়া করাই হচ্ছে ছাত্রজীবনের প্রধান কর্তব্য। সব রকমের ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে একাগ্রতার সঙ্গে নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য উপযুক্ত হওয়াই এ সময়ের অন্যতম কাজ। শুধু লেখাপড়া নয়, এর সাথে সাথে অনেক কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন: মাতা-পিতা ও গুরুজনের আদেশ মান্য করা, তাদের কথামতো চলা ও তাদের সেবা-যত্ন করে তাদের থেকে দোয়া ও শুভেচ্ছা পেতে চেষ্টা করা। কথায় বলে- 'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।' ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যরক্ষার প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। স্বাস্থ্যরক্ষার বিধি বা নিয়মগুলো মেনে চলতে হয়। জ্ঞান আহরণের জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেকের মাঝেই অপার সম্ভাবনার বীজ নিহিত থাকে। অধ্যবসায় ও সাধনার দ্বারা সে সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হয়। পৃথিবীতে যারা অবিনশ্বর কীর্তি রেখে গিয়ে অমর হয়েছেন, তাঁরা প্রধানত কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তা করেছেন। কঠোর শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সহজাত প্রবৃত্তিকে শানিত করে ছাত্রছাত্রীদের - সফলতার পথে এগিয়ে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। জ্ঞানার্জনের সাধনা কেবল পাঠ্যপুস্তকের সীমিত পৃষ্ঠাগুলোতে *সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রচিত ভালো ভালো বই পড়ে জীবনের জন্য কল্যাণকর পাথেয় সঞ্চয় করতে হবে। গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। শিষ্টাচার, বিনয়, কর্তব্যনিষ্ঠা, আনুগত্য, সৃষ্টিশীলতা অর্থাৎ সমাজের উন্নতির জন্য যা কল্যাণকর, তাই অর্জন করতে হবে। চরিত্র গঠন: মানবজীবনের প্রধান সম্পদ হলো চরিত্র। আর এ চরিত্র গঠন করতে হয় ছাত্রজীবনেই। কথায় বলে 'চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমান।' শিক্ষিত হলে কী হবে, সৎ চরিত্রের অধিকারী না হলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাই ছাত্রজীবনেই সৎ চরিত্র তথা সাধুতা, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম, দেশপ্রেম, ধৈর্য প্রভৃতি গুণ আয়ত্ত করে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎ সঙ্গে চলা ও ভালো বই পড়ার মাধ্যমে এটা সম্ভব হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইংরেজি প্রবাদটি প্রণিধানযোগ্য- "When money is lost, nothing is lost When health is lost, Something is lost, But When Character is lost, everything is lost." ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ: সৌজন্য ও শিষ্টাচারের ছোঁয়াতেই ছাত্র হয় বিনীত ও ভদ্র। নতুন প্রাণস্পন্দনে হয় গৌরবান্বিত। ছাত্রজীবনে গুরুজনদের যে শ্রদ্ধা করতে শিখল না, যার উদ্ধত অবিনীত ব্যবহারে শিক্ষক বিরক্ত, যার রূঢ় অমার্জিত আচরণে বন্ধুরা ক্ষুব্ধ-বেদনাহত, পরবর্তী জীবনেও তার একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তখন সে হয় অশুভ শক্তি, অকল্যাণের মূর্ত প্রতীক। ছাত্রজীবনই মানুষের সুপ্ত সুকুমার বৃত্তি লালনের শুভক্ষণ। শিষ্টাচার, সৌজন্য তো তার মনুষ্যত্ব অর্জনেরই সোপান। এরই মধ্যে আছে নিজেকে সুন্দর ও সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে। তোলার মহাশক্তি। শিষ্টাচার ও সৌজন্য প্রকাশের জন্য ছাত্রদের কিছু হারাতে হয় না, কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না, বরং এক মহৎ অঙ্গীকারে তার সমৃদ্ধ জীবন প্রকাশের পথ প্রশস্ত হয়। বিনয়ী, ভদ্র ছাত্র শুধু শিক্ষকের স্নেহই কেড়ে নেয় না, সে পায় শিক্ষকের আশীর্বাদ, পায় তার সাহায্য। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অভাব ছাত্রকে অবিনীত, স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর করে। ছাত্রজীবনে সামাজিক নেতৃত্ব: সমাজের যেকোনো কাজে ছাত্রসমাজ নেতৃত্ব দিতে পারে। মহামারি প্রতিরোধ, বন্যার সময় জনসেবায় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্রছাত্রীরা শুধু অংশগ্রহণ করেই নয়, নেতৃত্বও দিয়ে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজসেবায় ছাত্রদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বন্যার্তদের সেবার জন্য ছাত্ররা কেবল কায়িক পরিশ্রমই করে না, তারা বিভিন্নভাবে তহবিলও গঠন করে। এককথায়, ছাত্রজীবনে সমাজসেবার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনস্বীকার্য। নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ থেকে অজ্ঞতা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার দূর করা ছাত্রদের কর্তব্য। জনসাধারণের খাদ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে সচেতন করে তোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে ছাত্রছাত্রীরা সমাজের উন্নতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে, আত্মস্বার্থে নিমগ্ন মানুষ যথার্থ মানুষ নয়- পরের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত জীবন সার্থক জীবন। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে- "পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে/আপনার কথা ভুলিয়া যাও।" - (কামিনী রায়) ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলানুশীলনের উপযুক্ত সময়: ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতা অনুশীলনের উপযুক্ত সময়। এ সময় সজীব-কোমল মানবভূমিতে শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার বীজ বপন করলে উত্তরকালে তাতে অমৃত ফল ফলে। শৃঙ্খলানুশীলন তাই সর্বকালের সর্বদেশের ছাত্রদের অবশ্য আচরণীয় বিধি। দেশ গঠনের নামে ছাত্রসমাজের উচ্ছৃঙ্খলতা: ছাত্রসমাজ অগ্রযাত্রীর দল। তারা স্বভাবতই অগ্রসর হতে চায়, চায় কর্মব্যস্ততা, কিন্তু আজ তাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ। কর্মহীনতার বিশাল অবকাশ তাদের মানসক্ষেত্রে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশব্যাপী আশাহীনতা তাদের নিক্ষেপ করেছে এক গভীর নৈরাশ্যের অন্ধকারে। সেবাদান মানুষের মনুষ্যত্বের প্রকাশ- এ আদর্শের আলোকে গণমানুষকে যেকোনো বিপদসংকুল পরিবেশে সেবাদান করতে গিয়ে কেউ না কেউ রাজনীতিক বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। সেবাদানের এ সময়টুকুতে রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক সময় তাদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে। স্বভাবত শৃঙ্খলাবোধ হারিয়ে হিংস্রতার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আশ্রয় নিয়ে ছাত্রসমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার কলঙ্কের বোঝা মাথায় বয়ে চলে। উপসংহার: বর্তমানে বাংলাদেশের সুশীলসমাজ ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা দাবি করে। ছাত্রসমাজের মনে রাখতে হবে যে, ছাত্রজীবনই হলো দায়িত্ববোধ বিকাশের কাল, সামাজিক কর্তব্যবোধে দীক্ষিত হওয়ার সময়। বর্তমান নৈরাশ্যের অন্ধকার কিংবা রুচি-বিকৃতির কুয়াশা অপসারিত হয়ে শীঘ্রই নতুন আশা ও আদর্শের সূর্যোদয় হবে। এরপর আসবে নতুন দিন, নতুন জীবন। আমাদের ছাত্রসমাজ তাকে বরণ করার জন্য যেন প্রস্তুত থাকে। এজন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে আত্মনিয়োগ করে আদর্শ নাগরিকরূপে গড়ে উঠতে হবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

উত্তর

ভূমিকা: ছাত্রজীবন ভবিষ্যতের পল্লবিত মহিরুহের অস্ফুট পটভূমি। ছাত্রজীবনই হলো মানুষের প্রস্তুতিপর্ব। এরই ওপর নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীর পরিণত জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা। তাই ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলা অনুশীলনের প্রকৃষ্ট সময়। এ বিশ্ব এক অদৃশ্য দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের সূত্রে বাঁধা; ক্ষুদ্রতম অণু-পরমাণু থেকে বিশাল বিশাল গ্রহ-নক্ষত্র, পর্যন্ত সর্বত্রই এক কঠোর নিয়মের শাসন বিরাজিত। প্রভাতে পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয় এবং দিবাশেষে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্ত-সবই এক দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের অধীন। ছাত্রজীবনেও প্রয়োজন সেই নিয়মের শাসন। প্রধান কর্তব্য: সংস্কৃত ভাষায় একটা প্রবাদ আছে- 'ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ।' অর্থাৎ অধ্যয়ন বা লেখাপড়া করাই হচ্ছে ছাত্রজীবনের প্রধান কর্তব্য। সব রকমের ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে একাগ্রতার সঙ্গে নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য উপযুক্ত হওয়াই এ সময়ের অন্যতম কাজ। শুধু লেখাপড়া নয়, এর সাথে সাথে অনেক কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন: মাতা-পিতা ও গুরুজনের আদেশ মান্য করা, তাদের কথামতো চলা ও তাদের সেবা-যত্ন করে তাদের থেকে দোয়া ও শুভেচ্ছা পেতে চেষ্টা করা। কথায় বলে- 'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।' ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যরক্ষার প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। স্বাস্থ্যরক্ষার বিধি বা নিয়মগুলো মেনে চলতে হয়। জ্ঞান আহরণের জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেকের মাঝেই অপার সম্ভাবনার বীজ নিহিত থাকে। অধ্যবসায় ও সাধনার দ্বারা সে সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হয়। পৃথিবীতে যারা অবিনশ্বর কীর্তি রেখে গিয়ে অমর হয়েছেন, তাঁরা প্রধানত কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তা করেছেন। কঠোর শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সহজাত প্রবৃত্তিকে শানিত করে ছাত্রছাত্রীদের - সফলতার পথে এগিয়ে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। জ্ঞানার্জনের সাধনা কেবল পাঠ্যপুস্তকের সীমিত পৃষ্ঠাগুলোতে *সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রচিত ভালো ভালো বই পড়ে জীবনের জন্য কল্যাণকর পাথেয় সঞ্চয় করতে হবে। গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। শিষ্টাচার, বিনয়, কর্তব্যনিষ্ঠা, আনুগত্য, সৃষ্টিশীলতা অর্থাৎ সমাজের উন্নতির জন্য যা কল্যাণকর, তাই অর্জন করতে হবে। চরিত্র গঠন: মানবজীবনের প্রধান সম্পদ হলো চরিত্র। আর এ চরিত্র গঠন করতে হয় ছাত্রজীবনেই। কথায় বলে 'চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমান।' শিক্ষিত হলে কী হবে, সৎ চরিত্রের অধিকারী না হলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাই ছাত্রজীবনেই সৎ চরিত্র তথা সাধুতা, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম, দেশপ্রেম, ধৈর্য প্রভৃতি গুণ আয়ত্ত করে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎ সঙ্গে চলা ও ভালো বই পড়ার মাধ্যমে এটা সম্ভব হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইংরেজি প্রবাদটি প্রণিধানযোগ্য- "When money is lost, nothing is lost When health is lost, Something is lost, But When Character is lost, everything is lost." ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ: সৌজন্য ও শিষ্টাচারের ছোঁয়াতেই ছাত্র হয় বিনীত ও ভদ্র। নতুন প্রাণস্পন্দনে হয় গৌরবান্বিত। ছাত্রজীবনে গুরুজনদের যে শ্রদ্ধা করতে শিখল না, যার উদ্ধত অবিনীত ব্যবহারে শিক্ষক বিরক্ত, যার রূঢ় অমার্জিত আচরণে বন্ধুরা ক্ষুব্ধ-বেদনাহত, পরবর্তী জীবনেও তার একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তখন সে হয় অশুভ শক্তি, অকল্যাণের মূর্ত প্রতীক। ছাত্রজীবনই মানুষের সুপ্ত সুকুমার বৃত্তি লালনের শুভক্ষণ। শিষ্টাচার, সৌজন্য তো তার মনুষ্যত্ব অর্জনেরই সোপান। এরই মধ্যে আছে নিজেকে সুন্দর ও সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে। তোলার মহাশক্তি। শিষ্টাচার ও সৌজন্য প্রকাশের জন্য ছাত্রদের কিছু হারাতে হয় না, কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না, বরং এক মহৎ অঙ্গীকারে তার সমৃদ্ধ জীবন প্রকাশের পথ প্রশস্ত হয়। বিনয়ী, ভদ্র ছাত্র শুধু শিক্ষকের স্নেহই কেড়ে নেয় না, সে পায় শিক্ষকের আশীর্বাদ, পায় তার সাহায্য। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অভাব ছাত্রকে অবিনীত, স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর করে। ছাত্রজীবনে সামাজিক নেতৃত্ব: সমাজের যেকোনো কাজে ছাত্রসমাজ নেতৃত্ব দিতে পারে। মহামারি প্রতিরোধ, বন্যার সময় জনসেবায় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্রছাত্রীরা শুধু অংশগ্রহণ করেই নয়, নেতৃত্বও দিয়ে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজসেবায় ছাত্রদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বন্যার্তদের সেবার জন্য ছাত্ররা কেবল কায়িক পরিশ্রমই করে না, তারা বিভিন্নভাবে তহবিলও গঠন করে। এককথায়, ছাত্রজীবনে সমাজসেবার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনস্বীকার্য। নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ থেকে অজ্ঞতা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার দূর করা ছাত্রদের কর্তব্য। জনসাধারণের খাদ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে সচেতন করে তোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে ছাত্রছাত্রীরা সমাজের উন্নতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে, আত্মস্বার্থে নিমগ্ন মানুষ যথার্থ মানুষ নয়- পরের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত জীবন সার্থক জীবন। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে- "পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে/আপনার কথা ভুলিয়া যাও।" - (কামিনী রায়) ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলানুশীলনের উপযুক্ত সময়: ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতা অনুশীলনের উপযুক্ত সময়। এ সময় সজীব-কোমল মানবভূমিতে শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার বীজ বপন করলে উত্তরকালে তাতে অমৃত ফল ফলে। শৃঙ্খলানুশীলন তাই সর্বকালের সর্বদেশের ছাত্রদের অবশ্য আচরণীয় বিধি। দেশ গঠনের নামে ছাত্রসমাজের উচ্ছৃঙ্খলতা: ছাত্রসমাজ অগ্রযাত্রীর দল। তারা স্বভাবতই অগ্রসর হতে চায়, চায় কর্মব্যস্ততা, কিন্তু আজ তাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ। কর্মহীনতার বিশাল অবকাশ তাদের মানসক্ষেত্রে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশব্যাপী আশাহীনতা তাদের নিক্ষেপ করেছে এক গভীর নৈরাশ্যের অন্ধকারে। সেবাদান মানুষের মনুষ্যত্বের প্রকাশ- এ আদর্শের আলোকে গণমানুষকে যেকোনো বিপদসংকুল পরিবেশে সেবাদান করতে গিয়ে কেউ না কেউ রাজনীতিক বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। সেবাদানের এ সময়টুকুতে রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক সময় তাদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে। স্বভাবত শৃঙ্খলাবোধ হারিয়ে হিংস্রতার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আশ্রয় নিয়ে ছাত্রসমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার কলঙ্কের বোঝা মাথায় বয়ে চলে। উপসংহার: বর্তমানে বাংলাদেশের সুশীলসমাজ ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা দাবি করে। ছাত্রসমাজের মনে রাখতে হবে যে, ছাত্রজীবনই হলো দায়িত্ববোধ বিকাশের কাল, সামাজিক কর্তব্যবোধে দীক্ষিত হওয়ার সময়। বর্তমান নৈরাশ্যের অন্ধকার কিংবা রুচি-বিকৃতির কুয়াশা অপসারিত হয়ে শীঘ্রই নতুন আশা ও আদর্শের সূর্যোদয় হবে। এরপর আসবে নতুন দিন, নতুন জীবন। আমাদের ছাত্রসমাজ তাকে বরণ করার জন্য যেন প্রস্তুত থাকে। এজন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে আত্মনিয়োগ করে আদর্শ নাগরিকরূপে গড়ে উঠতে হবে।

উত্তর

ভূমিকা: বেকার সমস্যা আমাদের জাতীয় জীবনের একটা অতি জটিল ও গুরুতর সমস্যা। অগনতি কর্মক্ষম মানুষ কর্মহীন থাকার কারণে আমাদের আর্থিক সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও, যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা মোটেই উন্নত নয়। দেশের শিল্পব্যবস্থা খুবই অনুন্নত এবং ব্যাবসা-বাণিজ্যেরও তেমন প্রসার ঘটেনি। এদেশের শিল্প বিদেশের অত্যাধুনিক যন্ত্রোৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ক্রমশ ধ্বংস হতে চলেছে। এর ফলে শিল্প-কারখানাগুলো দিন দিন শোচনীয় অবস্থায় পতিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশে বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে বেকারত্বের বর্তমান অবস্থা: দেশে বর্তমানে ২৬ লাখের ওপর শিক্ষিত বেকার রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ মতে, বাংলাদেশে বেকারের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। এর কারণ বাংলাদেশে কর্মঘাটতি থাকা এবং পুঁজির অভাবে উদ্যোক্তা তৈরি করতে না পারা। তাছাড়া সামাজিক কারণেও উচ্চশিক্ষিত লোক নিম্নমানের কাজে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারায়। অল্প শিক্ষিত লোকের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম। বিশ্বের প্রায় দেশেই বেকারত্বের অভিশাপ থাকলেও বাংলাদেশে এর সংখ্যা সর্বাধিক। বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সংখ্যা বাড়ছে বেকারত্বের কারণে। বেকার সংখ্যার লাগাম ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে। বেকারত্বের বিভিন্ন রূপ: বেকার সমস্যা আমাদের জাতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, অক্টোপাসের মতো আমাদের গ্রাস করতে উদ্যত হচ্ছে। আমাদের যুবসমাজের বেকারত্ব দু'ভাবে সমস্যা সৃষ্টি করছে- ১. ব্যক্তিগত সমস্যা ও ২. সামাজিক সমস্যা। ব্যক্তিগত ক্ষতির দিক হলো- বেকারত্ব ব্যক্তিগত জীবনে হতাশা ও দুঃখ বয়ে আনে, বেকাররা নিজেদেরকে অভিশপ্ত মনে করে, পরিবারে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ইত্যাদি। সামাজিক সমস্যাও ব্যক্তিগত সমস্যা থেকেই সৃষ্টি হয়, তবে শিক্ষিত মানুষের বেকারত্বের জন্যে অনেকটাই সমাজ দায়ী। শিক্ষিত বেকার বেকারত্ব নিরসনে নিজেদের জমিতে চাষাবাদ কিংবা মৎস্য চাষে উদ্যোগী হলে আমাদের সংকীর্ণ সমাজ সমালোচনায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। ফলে শিক্ষিত বেকার কর্মের অনুসন্ধান পেলেও সামাজিক কারণেই বেকারত্বের অভিশাপে আত্মাহুতি দেয়। বেকারত্বের কারণে তখন সে অবৈধ ও বেআইনি পথে পা বাড়ায়। এভাবে ব্যক্তি কর্মহীন থাকার ফলে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হয়। বেকার সমস্যার জটিলতা: বহুল আলোচিত এ বেকার সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে কর্মহীন মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ও শ্রমিক সম্প্রদায়। জনসংখ্যার সিংহভাগ অর্থাৎ কৃষিকাজের সাথে জড়িত মানুষেরা বছরের কিছু সময় কাজ করে এবং বছরের বাকি সময়টুকু অলস জীবনযাপন করে। শিক্ষিত 'বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে রয়েছে। শুধু চাকরির মাধ্যমে এ জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বেকার সমস্যা শুধু আমাদের দেশেরই সমস্যা নয়। বিশ্বের প্রায় দেশেই এ সমস্যা কমবেশি বিদ্যমান। বেকার সমস্যা সৃষ্টির কারণ: বিগত অর্ধশতাব্দীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এ সময়ে আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকহারে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সে হারে উন্নতি সাধিত হয়নি। অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা বেকার সমস্যাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। বেকারত্ব সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য কারণগুলো নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- প্রথমত: আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও কৃষিব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। দেশের কৃষি ব্যবস্থায় শতকরা ৮৫ জন নাগরিক সরাসরি জড়িত। বছরের নির্দিষ্ট সময় কৃষিকাজে অংশ নেওয়ার পর বাকি সময়ে তাদের অধিকাংশ বেকার হয়ে পড়ে। বিকল্প কাজ না থাকায় তাদেরকে অলস সময় কাটাতে হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছে না। এ কারণে বেকার সমস্যার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত: ব্যাবসা-বাণিজ্যে বিমুখতাও বেকার সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। যুগের প্রেক্ষাপটেই ব্যাবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ না করে সরকারি চাকরির সন্ধানে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়ায় ডিগ্রিধারী শিক্ষিত যুবকেরা। চাকরির আকাঙ্ক্ষা এবং ব্যাবসা-বাণিজ্যে বিমুখতা বেকার সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে। তৃতীয়ত: অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেকার সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে। যন্ত্রে সহায়তায় পাঁচ জনের কাজ বর্তমানে একজনকে দিয়েই করাতে পারে বলে শিল্প-কারখানায় দিনদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। ফলে দেশে ক্রমশ বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চতুর্থত: বর্তমান যুগে কারিগরি জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অধিকাংশ জনগণের কারিগরি জ্ঞান না থাকার কারণে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। বেকার সমস্যার সমাধান: বেকার সমস্যা এতই জটিল যে, এর সমাধান খুঁজে বের করা দুঃসাধ্য। এটা সমাধানের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে। ক. কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন: এদেশের বেশিরভাগ লোক সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষিব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। শিক্ষিত কর্মহীন লোকদের কৃষির প্রতি মনোযোগী করতে হবে। শিক্ষিত যুবকেরা কৃষিকাজে আত্মনিয়োগ করলে, কৃষিব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য আসবে। এজন্য মান্ধাতার আমলের কৃষি উপকরণের পরিবর্তে আধুনিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। কৃষিব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে এবং বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। ক. কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন: এদেশের বেশিরভাগ লোক সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষিব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। শিক্ষিত কর্মহীন লোকদের কৃষির প্রতি মনোযোগী করতে হবে। শিক্ষিত যুবকেরা কৃষিকাজে আত্মনিয়োগ করলে, কৃষিব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য আসবে। এজন্য মান্ধাতার আমলের কৃষি উপকরণের পরিবর্তে আধুনিক কৃষি উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। কৃষিব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে এবং বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়।। খ. বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার প্রচলন: দেশে বেকার সমস্যা সমাধানের জন্যে দ্রুত শিল্পায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব শিল্প-কারখানায় কাজের উপযুক্ত জনশক্তি দরকার। তাই কল-কারখানায় শ্রমের উপযোগী করে যুবসমাজকে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। গ. কুটিরশিল্পের পুনরুদ্ধার ও ক্ষুদ্রায়তন শিল্পের প্রতিষ্ঠা: দেশের কুটিরশিল্পের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে ও ক্ষুদ্রায়তন শিল্পের প্রতিষ্ঠা করে বেকার সমস্যার সমাধান করতে হবে। এতে বেকার জনগোষ্ঠীর অর্থ উপার্জনের পথ প্রশস্ত হবে। যুব সমাজকে কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্প বিষয়ক শিক্ষাদান করতে হবে। ঘ. চাকরির মোহ ত্যাগ: আমাদের জনগণ একটু শিক্ষিত হলেই চাকরি ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে চায় না। কায়িক শ্রমকে তারা অপমানজনক মনে করায় বেকার সমস্যার সমাধান হয় না। যুবক সমাজকে এ ধরনের মনোভাব ত্যাগ করে ছোটো-বড়ো সব ধরনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো কাজকে হেয় করা চলবে না। এছাড়া শিল্প ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি নিরস্ত্র করতে হবে। ঙ. আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা: বেকারত্ব নিরসনে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার স্বাবলম্বী হবার সুযোগ খুঁজে পাবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বেকার ও শিক্ষিত বেকারদের কৃষি, কারিগরি, মৎস্য চাষের যথাযথ প্রশিক্ষণ দান করে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করে আত্মকর্মসংস্থানের জন্যে উপযুক্ত করে তৈরি করা যেতে পারে। উপসংহার: বেকার সমস্যার সমাধান করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় বেকার সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করছে। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্যে আমাদের শিক্ষিত যুব সমাজকে কোনো কাজকে হেয় না করে সকল কাজে এগিয়ে আসতে হবে এবং গ্রামমুখী হতে হবে। কৃষিকাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। জনসংখ্যা স্ফীতি রোধ করে এবং কর্মমুখী শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Comilla · 2019

স্বদেশপ্রেম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।