শেয়ারFacebookWhatsApp

সময়ানুবর্তিতা।

উত্তর: সময়ানুবর্তিতা। ভূমিকা : কথায় আছে সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময় চির প্রবাহমান। মানুষকে সময়ে মূল্য দিতে হয়। কারণ পৃথিবীর 'পথিক' মানুষ সময়ের পথরেখা ধরে অগ্রসর হয়।সময়ের মতো মানবজীবন যদি অন্তহীন হতো, তাহলে মানুষের দুঃখ থাকত না। মানুষ চায় তার সংক্ষিপ্ত জীবনায়তনের মধ্যে বহুতর কর্মের উদ্যাপন। সময় তা মঞ্জুর করে না। কর্ম উদ্যাপনের আগেই তার বিদায়ের ডাক এসে পড়ে। মানুষের কাছে সময় তাই অমূল্য ধন। সময় চলে যায় নদীর স্রোতের মতো। চিরন্তন প্রবহমানতাই তার মূল বৈশিষ্ট্য। মুহূর্তের জন্যও কোথাও সে স্থির থাকে না, কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষের জীবন সময়ের ছন্দে বাঁধা। সময়ের অন্তহীন প্রবাহে মানুষ ছুটে চলেছে জন্ম থেকে মৃত্যুর অভিমুখে। সময়ের গুরুত্ব: সময়ের অস্থির ধাবমানতার জন্যই মানুষের কাছে জীবন মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন সীমাবদ্ধ। তার এক প্রান্তে জন্ম, অন্য প্রান্তে মৃত্যু। এই জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। মানুষ চায় সময়ের অন্তহীনতার মতো অন্তহীন জীবন; কিন্তু পায় না। মানবজীবনের চরম ট্র্যাজেডি এখানেই। জীবন যা শুধু ঘণ্টা আর মিনিটের সমাহার মাত্র। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় এত মূল্যবান। জীবন থেকে যে সময় একবার চলে যায় তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা একান্ত জরুরি। সময়ের অবহেলার পরিণাম: সময়ের যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমেই জীবন সার্থক এবং সুখময় হয়ে ওঠে। কাজেই জীবনের সংক্ষিপ্ত সীমায়তনের মধ্যে সময়কে অবহেলা করে সময়ের অপচয় করা উচিত নয় কারণ সময়ের অপচয়ের পরিণাম আমাদের জীবনে একদিন মর্মান্তিক দুঃখ আর অনুশোচনা নিয়ে আসবে। তখন বুকফাটা আর্তনাদ কিংবা এক সমুদ্র অশ্রুবর্ষণে কিংবা অনুতাপে দগ্ধ হলেও সেই আলস্যে অতিবাহিত সময় আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সময়ের মূল্যবোধের অর্থ: প্রকৃতপক্ষে সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই জীবনের সাফল্য অর্জনের সোপান। সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়ে সম্পাদন করা। যে তা করে না, সে করে সময়ের অমর্যাদা এবং পরাজয়ই হয় তার জীবনের চরম পরিণতি।যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কীভাবে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন আর কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না। মানবজীবনেও সেই একই কথা। আলস্যে অযথা সময় নষ্ট করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়। সময়ের সদ্ব্যবহার: শৈশবই কর্মজীবনে প্রবেশের তোরণ দ্বার। এই সময়ই জীবনের প্রস্তুতির কাল। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সব দায়িত্বভার বহনের যোগ্যতা এই সময়েই অর্জন করতে হয়। শৈশবকালের প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এবং অমূল্য সময়ের অপচয় না করে তার প্রতিটি দুর্লভ মুহূর্তকে জীবনক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে পরবর্তীকালে সুখ ও শান্তি দুই-ই পাওয়া যাবে। শৈশবেই আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, সময় অমূল্য সম্পদ। উপসংহার: সময়ের অপচয় মানে জীবনে দুঃখ বয়ে আনা। যারা সময় নষ্ট করে তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সাফল্যের সোপান। যেহেতু সময় জীবনের সমস্ত সাফল্য ও সুখের উৎস, তাই প্রত্যেককে সময়ের মূল্য সম্বন্ধে সচেতন হওয়া এবং তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। তবেই জাতি পাবে গতি, দেশ হবে সমৃদ্ধ, জীবন হবে আনন্দময়।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

সময়ানুবর্তিতা।

উত্তর

সময়ানুবর্তিতা। ভূমিকা : কথায় আছে সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময় চির প্রবাহমান। মানুষকে সময়ে মূল্য দিতে হয়। কারণ পৃথিবীর 'পথিক' মানুষ সময়ের পথরেখা ধরে অগ্রসর হয়।সময়ের মতো মানবজীবন যদি অন্তহীন হতো, তাহলে মানুষের দুঃখ থাকত না। মানুষ চায় তার সংক্ষিপ্ত জীবনায়তনের মধ্যে বহুতর কর্মের উদ্যাপন। সময় তা মঞ্জুর করে না। কর্ম উদ্যাপনের আগেই তার বিদায়ের ডাক এসে পড়ে। মানুষের কাছে সময় তাই অমূল্য ধন। সময় চলে যায় নদীর স্রোতের মতো। চিরন্তন প্রবহমানতাই তার মূল বৈশিষ্ট্য। মুহূর্তের জন্যও কোথাও সে স্থির থাকে না, কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষের জীবন সময়ের ছন্দে বাঁধা। সময়ের অন্তহীন প্রবাহে মানুষ ছুটে চলেছে জন্ম থেকে মৃত্যুর অভিমুখে। সময়ের গুরুত্ব: সময়ের অস্থির ধাবমানতার জন্যই মানুষের কাছে জীবন মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন সীমাবদ্ধ। তার এক প্রান্তে জন্ম, অন্য প্রান্তে মৃত্যু। এই জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। মানুষ চায় সময়ের অন্তহীনতার মতো অন্তহীন জীবন; কিন্তু পায় না। মানবজীবনের চরম ট্র্যাজেডি এখানেই। জীবন যা শুধু ঘণ্টা আর মিনিটের সমাহার মাত্র। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় এত মূল্যবান। জীবন থেকে যে সময় একবার চলে যায় তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা একান্ত জরুরি। সময়ের অবহেলার পরিণাম: সময়ের যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমেই জীবন সার্থক এবং সুখময় হয়ে ওঠে। কাজেই জীবনের সংক্ষিপ্ত সীমায়তনের মধ্যে সময়কে অবহেলা করে সময়ের অপচয় করা উচিত নয় কারণ সময়ের অপচয়ের পরিণাম আমাদের জীবনে একদিন মর্মান্তিক দুঃখ আর অনুশোচনা নিয়ে আসবে। তখন বুকফাটা আর্তনাদ কিংবা এক সমুদ্র অশ্রুবর্ষণে কিংবা অনুতাপে দগ্ধ হলেও সেই আলস্যে অতিবাহিত সময় আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সময়ের মূল্যবোধের অর্থ: প্রকৃতপক্ষে সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই জীবনের সাফল্য অর্জনের সোপান। সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়ে সম্পাদন করা। যে তা করে না, সে করে সময়ের অমর্যাদা এবং পরাজয়ই হয় তার জীবনের চরম পরিণতি।যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কীভাবে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন আর কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না। মানবজীবনেও সেই একই কথা। আলস্যে অযথা সময় নষ্ট করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়। সময়ের সদ্ব্যবহার: শৈশবই কর্মজীবনে প্রবেশের তোরণ দ্বার। এই সময়ই জীবনের প্রস্তুতির কাল। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সব দায়িত্বভার বহনের যোগ্যতা এই সময়েই অর্জন করতে হয়। শৈশবকালের প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এবং অমূল্য সময়ের অপচয় না করে তার প্রতিটি দুর্লভ মুহূর্তকে জীবনক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে পরবর্তীকালে সুখ ও শান্তি দুই-ই পাওয়া যাবে। শৈশবেই আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, সময় অমূল্য সম্পদ। উপসংহার: সময়ের অপচয় মানে জীবনে দুঃখ বয়ে আনা। যারা সময় নষ্ট করে তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সাফল্যের সোপান। যেহেতু সময় জীবনের সমস্ত সাফল্য ও সুখের উৎস, তাই প্রত্যেককে সময়ের মূল্য সম্বন্ধে সচেতন হওয়া এবং তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। তবেই জাতি পাবে গতি, দেশ হবে সমৃদ্ধ, জীবন হবে আনন্দময়।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।