শেয়ারFacebookWhatsApp

কৃষি উদ্যোক্তা;

উত্তর: কৃষি উদ্যোক্তা ভূমিকা :কৃষি উদ্যোক্তা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কৃষিকাজকে নতুন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ব্যাবসায় ঝুঁকি বহন করেন এবং সম্পূর্ণ মুনাফা একা ভোগ করেন। কৃষিকে উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন। বিপুল জনসংখ্যা, কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস, বেকারত্ব- এ সবকিছুর ভেতরে একদল তরুণ কৃষিকে প্রধান অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করছেন। শিক্ষিত তরুণদের কৃষিক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে। কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য: কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন কৃষক তার পণ্য বাজারে বিক্রির চেয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানোয় বেশি গুরুত্ব দেন, অথবা কিছুটা বিক্রির জন্য এবং কিছুটা পরিবারের চাহিদা মেটাতে ব্যয় করেন। অন্যদিকে একজন কৃষি উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য বাজারজাতকরণ ও মুনাফা অর্জন। তাই একজন কৃষি উদ্যোক্তাকে ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তির হতে হয় এবং তার কাজে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। কৃষি উদ্যোগের ক্ষেত্র: শস্য, প্রাণিসম্পদসহ কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়কে কৃষি উদ্যোগের আওতায় আনা যায়। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই মূলধন, জমির পরিমাণ, মাটির গুণাগুণ, অবকাঠামো, বালাই ব্যবস্থাপনা, লোকবল, পরিবহণ ব্যবস্থা, বাজার ও চাহিদা, উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। ধান, গম, ডাল, আখ, পাট, ঘাস, শাকসবজি, ফুল, ফল, মসলা, মধু, মাশরুম, রেশম, মাছ প্রভৃতির চাষ ও উৎপাদন; গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রাণিসম্পদের লালন-পালন; গাছের চারা, জৈব সার, বায়োগ্যাস, দুধ ও দুধজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ইত্যাদি কৃষি উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। কৃষি উদ্যোক্তার কর্তব্য: একজন কৃষি উদ্যোক্তাকে নিম্নলিখিত কর্তব্য সম্বন্ধে অবগত থাকতে হবে: ১. উদ্যোক্তাকে প্রথমেই তার পণ্যের বাজার সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতে হয়। ২. প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে অপচয় ও ব্যয় হ্রাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। ৩. কৃষি উদ্যোক্তাকে উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হয়। তার এই উদ্ভাবনী শক্তি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ৪. উদ্যোক্তাকে অনেক রকমের ঝুঁকি নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে হয় এবং ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য প্রস্তুতি রাখতে হয়। ৫. উদ্যোক্তা যে ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবেন, সেই বিষয়ে যাবতীয় তথ্যের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা জরুরি। উপযুক্ত খাদ্য, সার, কীটনাশক, আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ প্রযুক্তি সম্বন্ধে ধারণা থাকা দরকার। সম্প্রতি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার উদ্যোক্তাদের সাফল্যে অবদান রাখছে। ৬. নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। এতে বড়ো ধরনের কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হয় এবং ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে অংশীদার নির্বাচন করা উচিত। ৭. পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, শ্রমিক ও পণ্য পরিবহণ, বাজার পরিস্থিতি ও প্রতিযোগীদের কথা চিন্তা করে কাজে অগ্রসর হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপ: কৃষির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- ১. সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষির ধরন অনুযায়ী স্বল্প সুদে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ প্রদান করছে। ২. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তর উদ্যোক্তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ৩. বছরব্যাপী চাষ করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে 'ডিজিটাল শস্য ক্যালেন্ডার' ও 'বালাইনাশক 'নির্দেশিকা' দেওয়া আছে, যা ঠিক সময়ে ঠিক ফসল ফলাতে সাহায্য করে। ১৬১২৩ নম্বরে ফোন করে কৃষিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কৃষি প্রযুক্তি সম্বন্ধে জানাতে 'কৃষি প্রযুক্তি ভান্ডার' নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি দ্রব্যাদির বাজারদর, কৃষকপ্রাপ্ত বাজারদর সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রেরণ করে। উপসংহার: বাংলাদেশের মানুষের প্রাণ হলো কৃষি। কৃষি ও কৃষক এই দুইয়ে মিলে বাংলাদেশ। এ দেশের জাতীয় উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত করার জন্য জোর দিতে হবে। কৃষির সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের মাঝে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। বৈজ্ঞানিক কৃষিব্যবস্থা হতে পারে আমাদের পরনির্ভরশীলতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম পন্থা।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

কৃষি উদ্যোক্তা;

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো।

Barisal · 2026

উত্তর

কৃষি উদ্যোক্তা ভূমিকা :কৃষি উদ্যোক্তা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কৃষিকাজকে নতুন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ব্যাবসায় ঝুঁকি বহন করেন এবং সম্পূর্ণ মুনাফা একা ভোগ করেন। কৃষিকে উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন। বিপুল জনসংখ্যা, কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস, বেকারত্ব- এ সবকিছুর ভেতরে একদল তরুণ কৃষিকে প্রধান অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করছেন। শিক্ষিত তরুণদের কৃষিক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে। কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য: কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন কৃষক তার পণ্য বাজারে বিক্রির চেয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানোয় বেশি গুরুত্ব দেন, অথবা কিছুটা বিক্রির জন্য এবং কিছুটা পরিবারের চাহিদা মেটাতে ব্যয় করেন। অন্যদিকে একজন কৃষি উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য বাজারজাতকরণ ও মুনাফা অর্জন। তাই একজন কৃষি উদ্যোক্তাকে ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তির হতে হয় এবং তার কাজে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। কৃষি উদ্যোগের ক্ষেত্র: শস্য, প্রাণিসম্পদসহ কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়কে কৃষি উদ্যোগের আওতায় আনা যায়। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই মূলধন, জমির পরিমাণ, মাটির গুণাগুণ, অবকাঠামো, বালাই ব্যবস্থাপনা, লোকবল, পরিবহণ ব্যবস্থা, বাজার ও চাহিদা, উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। ধান, গম, ডাল, আখ, পাট, ঘাস, শাকসবজি, ফুল, ফল, মসলা, মধু, মাশরুম, রেশম, মাছ প্রভৃতির চাষ ও উৎপাদন; গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রাণিসম্পদের লালন-পালন; গাছের চারা, জৈব সার, বায়োগ্যাস, দুধ ও দুধজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ইত্যাদি কৃষি উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। কৃষি উদ্যোক্তার কর্তব্য: একজন কৃষি উদ্যোক্তাকে নিম্নলিখিত কর্তব্য সম্বন্ধে অবগত থাকতে হবে: ১. উদ্যোক্তাকে প্রথমেই তার পণ্যের বাজার সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতে হয়। ২. প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে অপচয় ও ব্যয় হ্রাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। ৩. কৃষি উদ্যোক্তাকে উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হয়। তার এই উদ্ভাবনী শক্তি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ৪. উদ্যোক্তাকে অনেক রকমের ঝুঁকি নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে হয় এবং ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য প্রস্তুতি রাখতে হয়। ৫. উদ্যোক্তা যে ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবেন, সেই বিষয়ে যাবতীয় তথ্যের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা জরুরি। উপযুক্ত খাদ্য, সার, কীটনাশক, আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ প্রযুক্তি সম্বন্ধে ধারণা থাকা দরকার। সম্প্রতি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার উদ্যোক্তাদের সাফল্যে অবদান রাখছে। ৬. নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। এতে বড়ো ধরনের কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হয় এবং ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে অংশীদার নির্বাচন করা উচিত। ৭. পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, শ্রমিক ও পণ্য পরিবহণ, বাজার পরিস্থিতি ও প্রতিযোগীদের কথা চিন্তা করে কাজে অগ্রসর হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপ: কৃষির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- ১. সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষির ধরন অনুযায়ী স্বল্প সুদে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ প্রদান করছে। ২. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তর উদ্যোক্তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ৩. বছরব্যাপী চাষ করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে 'ডিজিটাল শস্য ক্যালেন্ডার' ও 'বালাইনাশক 'নির্দেশিকা' দেওয়া আছে, যা ঠিক সময়ে ঠিক ফসল ফলাতে সাহায্য করে। ১৬১২৩ নম্বরে ফোন করে কৃষিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কৃষি প্রযুক্তি সম্বন্ধে জানাতে 'কৃষি প্রযুক্তি ভান্ডার' নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি দ্রব্যাদির বাজারদর, কৃষকপ্রাপ্ত বাজারদর সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রেরণ করে। উপসংহার: বাংলাদেশের মানুষের প্রাণ হলো কৃষি। কৃষি ও কৃষক এই দুইয়ে মিলে বাংলাদেশ। এ দেশের জাতীয় উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত করার জন্য জোর দিতে হবে। কৃষির সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের মাঝে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। বৈজ্ঞানিক কৃষিব্যবস্থা হতে পারে আমাদের পরনির্ভরশীলতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম পন্থা।

উত্তর

বাংলাদেশের ফুটবল ভূমিকা: ফুটবল বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে, গঞ্জে, শহরে সর্বত্র সুনামের সঙ্গে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। অতীতের তুলনায় বাংলাদেশি ফুটবলের মান অপ্রত্যাশিত, সহায়তার অভাব এবং দরিদ্র বিনিয়োগের কারণে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রতি মানুষের আগ্রহের মাত্রা বোঝা যায় বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ক্রমে এই খেলার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছে। ফুটবলের ইতিহাস: ফুটবলের নিজস্ব কোনো ধ্রুপদি ইতিহাস নেই। বিশ্বজুড়ে খেলা অন্যান্য বল খেলার সঙ্গে মিল থাকা সত্ত্বেও ফিফা বলেছে যে ইউরোপের বাইরে প্রাচীন কালে অনুষ্ঠিত কোনো খেলার সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ নেই বর্তমান ফুটবলের। ফুটবলের আধুনিক নিয়ম গুলো উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলে খেলা বিভিন্ন ধরনের খেলার মান সম্মত করার প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইংল্যান্ডে ফুটবলের ইতিহাস অন্তত অষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয়। প্রতি দলে এগারোজন করে দুটি দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতে হয়। একটি বায়ুপূর্ণ চামড়ার বলকে হাত ও বাহু ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ দিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয়। পৃথিবীতে ফুটবল ধরনের বেশ কয়েকটি খেলা প্রচলিত আছে। যেমন- রাগবি অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। তবে এখন ফুটবলের যে রূপটি দেখা যায়, তা ১৮৬৩ সালে প্রবর্তিত। মূলত এ সময়ে ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েসন গঠিত হয় এবং তারা ফুটবল খেলার কতকগুলো নিয়ম জারি করে। এই নতুন নিয়মের ফুটবল খেলা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রযাত্রা: ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন হয়। বাংলাদেশে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ফুটবল জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৪৮ সাল থেকে সমগ্র পাকিস্তানে ফুটবলের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় 'ঢাকা লিগ'। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিতে এ ফুটবল দল বিশেষ ভূমিকা। রাখে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের। এর দশকের মধ্যে সবচেয়ে সফল দলগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান ক্লাব হলো- মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ওয়ারী ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে ঢাকা লিগে যুক্ত হয়েছে- বসন্ধুরা কিংস প্রভৃতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে): বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা, জাতীয় দল গঠন ও নিয়ন্ত্রণ তথা ফুটবলের যাবতীয় উন্নয়নে কাজ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বাফুফে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল ও বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলকে তত্ত্বাবধান করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ফুটবল: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। বাফুফে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন), ১৯৭৬ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনালে ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ও ১৯৯৭ সালে সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) বাংলাদেশকে সদস্য করে ১৯৮০ সালে 'এএফসি' এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে এবং ১৯৮৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেয়। ফুটবলে বাংলাদেশের গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয় ২০০৩ সালে। ওই বছরই বাংলাদেশ প্রথম সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ডকাপ-এ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল: বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য। ২৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে দলটি সর্বপ্রথম নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করে। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শিরোপা হিসেবে ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। একনজরে বাংলাদেশ ফুটবলের অর্জন: ⦿ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ২০০৩, ২. রানার্স-আপ (২): ১৯৯৯, ২০০৫ ⦿ দক্ষিণ এশীয় গেমস: ১. স্বর্ণপদক (২): ১৯৯৯, ২০১০, ২. রৌপ্য পদক (৪): ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ৩. ব্রোঞ্জ পদক (৩): ১৯৯১, ২০১৬, ২০১৯ ⦿ প্রেসিডেন্ট'স গোল্ড কাপ: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৮৯ ⦿ চার দেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৯৫ ⦿ মিয়ানমার গ্র্যান্ড রয়্যাল কাপ: ১. রানার্স-আপ (১): ২০০৫ ⦿ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন: ২০২২ স্টেডিয়াম: বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের ফুটবল মাঠ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, যশোরের স্টেডিয়াম, রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম, ফেনীর স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজধানীর পূর্বাচল ও কক্সবাজারে আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপসংহার: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে আসতে পারেনি। একসময় ঘরোয়া ফুটবল সারা বাংলাদেশে যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারত, তাও এখন আবেদন হারিয়েছে। ফুটবলে গৌরব ফিরিয়ে আনতে দরকার কার্যকর নীতিমালা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা। সম্ভাবনাময় এই খেলার গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশকে আরও উঁচু করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

উত্তর

লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভূমিকা: যেকোনো ভ্রমণ মানুষের মনকে পুনরুজ্জীবিত করে। ভ্রমণ আনন্দের উৎস হিসেবে ধরা দেয় মানবজীবনে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি আমার ছোট্ট জীবনে বাস ও ট্রেন ভ্রমণ করলেও লঞ্চ বা জাহাজ ভ্রমণ করিনি কখনো। এমনকি একবার আমি উড়োজাহাজ বা প্লেন ভ্রমণও করেছি। আর আমি ভীষণ ভ্রমণপিপাসু। এজন্য আমি লঞ্চ বা জাহাজ ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমার লঞ্চ ভ্রমণের সুযোগ এসে গেল; তাও আবার আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মভূমি বরিশালে। ভ্রমণের প্রস্তুতি: নদী ও খালের জন্য বিখ্যাত বরিশাল। সেই বরিশালে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলো। ছোটো খালার শ্বশুরবাড়ি বরিশালে। গত মাসে যখন তারা সপরিবার সেখানে যাচ্ছিলেন, আমাকেও যাওয়ার জন্য প্রস্তাব করলেন। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ, আমি তো লঞ্চ ভ্রমণের সুযোগই খুঁজছিলাম। খালাতো ভাই। সামীর মুখে লঞ্চ ভ্রমণের মজার মজার অনেক গল্প শুনেছি। তাই আমি যাওয়ার প্রস্তাবমাত্রই রাজি হয়ে যাই এবং মনের আনন্দে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। একঘেয়েমি জীবনের অবসরে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। বছরের বিভিন্ন সময়ে পছন্দমতো নানান জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, নতুন নতুন জিনিস দেখায় আমাদের নতুন অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়। আর ভ্রমণ আমার কাছে বরাবরই আনন্দের। ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি খুঁজে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি ছুটে যাই ভ্রমণে। স্থান নির্বাচন: যথাযথ স্থান নির্বাচন একটি সুন্দর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভের 'ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভ্রমণের স্থান নির্ভর করে ভ্রমণকারীর মানসিক অবস্থা, শারীরিক সক্ষমতা, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সচ্ছলতা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর। আমি সাধারণত চিরাচরিত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির বুকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ছুটে যেতেই ভালোবাসি। পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও জঙ্গল- এসবই আমার অত্যন্ত পছন্দের বিষয়। এবারে খালামণিদের সঙ্গে লঞ্চে করে বরিশাল যেতে রাজি হলাম। সামির কাছে শুনেছি লঞ্চ ভ্রমণ অনেক আনন্দদায়ক। যাত্রার সময়: উত্তেজনা সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করায় আমরা একটু আগেই লঞ্চে ওঠার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যা ছয়টায় আমরা সদরঘাটে পৌছলাম। ঘাটের টিকিট কিনে প্রবেশ করলাম জেটিতে। দেখলাম বড়ো আকারের অনেক লঞ্চ জেটির সঙ্গে বাঁধা। প্রত্যেক অঞ্চলের লঞ্চ আলাদা আলাদা করে রাখা। কর্মচারীরা নিজ নিজ লঞ্চে ওঠার জন্য যাত্রীদের জোর গলায় ডেকে চলেছে। জেটিতে প্রচুর মানুষ। নানা গন্তব্যের যাত্রীরা নিজেদের লঞ্চটি খুঁজে নিচ্ছে। কেউ একা, কারও সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা। হকাররা তাদের পণ্য সাজিয়ে যাত্রীদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। হকাররা শুধু জেটিতেই নয়, নৌকায় করেও বিক্রি করছে তাদের জিনিসপত্র। নদীর ওপার থেকে ছোটো ছোটো নৌকায় যাত্রীরা এপারে আসছে। যাত্রা শুরু: প্রতিটি লঞ্চই উজ্জ্বল আলোয় সজ্জিত। আমরা বড়ো একটি লঞ্চে উঠে পড়লাম। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে নির্ধারিত স্থানে ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস রাখলাম। লঞ্চটি চারতলাবিশিষ্ট। জিজ্ঞেস করে জানতে পালাম এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার। বেশ কৌতূহল নিয়ে লঞ্চটি ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দোতলা ও তিনতলায় সারিবদ্ধভাবে রয়েছে বেশ কিছু বিলাসবহুল কক্ষ। নিচতলার পুরোটাই ডেক। নিচতলার ডেকের মেঝেতে যাত্রীরা চাদর বিছিয়ে নিজেদের শোয়ার ব্যবস্থা করছে। লঞ্চের পেছন দিকে ইঞ্জিনরুম, রেস্তোরাঁ ও একটি চায়ের দোকান। জানা গেল জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল দিচ্ছে আনসার সদস্যরা। আমি আশপাশের দুয়েকটি লঞ্চ ঘুরে এলাম। দেখলাম সব লঞ্চেরই প্রায় একই রকম ব্যবস্থা। লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা: আমার অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে রাত ৯টার দিকে লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করল। যদিও লয় ছাড়ার সময় ছিল সাড়ে আটটা। দেরি করে যানবাহন ছাড়া আমাদের একটি অলিখিত নিয়ম। জাহাজ চলা শুরু করলে ধীরে ধীরে জেটির মানুষগুলো ছোটো হতে হতে ঝাপসা হয়ে গেল। আমরা ঘাট থেকে অনেক দূরে চলে এলাম। লঞ্চের সারেং একটু পরপর সাইরেন বাজাচ্ছেন আর সার্চলাইট ফেলে পথটা দেখে নিচ্ছেন। অনেকক্ষণ চলার পর একটি বড়ো নদী দেখতে পেলাম। তীর দেখা যায় না। নদীটির নাম শুনলাম মেঘনা। এটি বাংলাদেশের গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী। রেলিং ধরে দাঁড়ালে যতদূর চোখ যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোটো ছোটো আলোকবিন্দু চোখে পড়ে। খালা জানালেন ওগুলো মাছধরা নৌকা। আমার চোখে লঞ্চ ভ্রমণ: নৌকাগুলো দেখে 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের কথা মনে পড়ে গেল। কিছুক্ষণ পরপর একটি-দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভটভট আওয়াজ তুলে উলটো দিকে যাচ্ছে কিংবা আমাদের লঞ্চ সেগুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশের তারকারাজি আর নদীতে ভেসে থাকা আলোকবিন্দুগুলো অপরূপ দৃশ্য তৈরি করেছে। একসময় রাতের খাওয়ার সময় হয়ে গেল। লঞ্চে রান্না করা ইলিশ মাছ ভাজা আর ডাল দিয়ে রাতের খাওয়া সারলাম। খাওয়া শেষে বসলাম কেবিনের সামনে চেয়ারে। সবাই মিলে রাতের নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করছি আর গল্প করছি। বরিশালের বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচয়: প্রায় মধ্য রাতে আমি লঞ্চটির অবস্থা দেখতে বের হলাম। দেখলাম যাত্রীদের কেউ কেউ শুয়ে পড়েছে আবার কেউ কেউ আড্ডা দিচ্ছে। ডেকে হকার তেমন দেখা যাচ্ছিল না। খালামণি বরিশালের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমাদের জানালেন। আমি তো জীবনানন্দের জেলা হিসেবেই ভীষণ আনন্দে আপ্লুত ছিলাম। আজ জানলাম আরও কত মনীষীর জন্ম এই সবুজ বরিশালে। রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী অশ্বিনীকুমার দত্ত, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর,'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা বিজয় গুপ্ত, কুসুমকুমারী দাশ ও তাঁর পুত্র জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল, কামিনী রায়, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং গানটির সুরকার আলতাফ মাহমুদসহ আরও অনেকের কথা জানলাম যাঁরা এই বরিশালেরই সন্তান। গল্পের মাঝে হঠাৎ নৌপুলিশের একটি স্পিডবোট গতি কমিয়ে পাশ দিয়ে চলে গেল। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ মালামাল পরিবহণ। রোধে এই অন্ধকার রাতেও তারা টহল দিচ্ছে। দূরে আরও কয়েকটি লঞ্চ দেখা যাচ্ছে। সারেং মাঝে মাঝে সাইরেন বাজাচ্ছেন। একটু পরপরই সার্চলাইট ফেলে পথ দেখে নিচ্ছেন। সারেঙের কক্ষে গিয়ে দেখলাম কত রকমের প্রযুক্তি তারা ববহার করছে- রাডার, কম্পাস, জিপিএস ইত্যাদি। জীবনে ভ্রমণের তাৎপর্য: জীবনে ভ্রমণের তাৎপর্য বলে শেষ করার মতো নয়। ভ্রমণ আমাদের শরীর ও মন উভয়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। ভ্রমণের ফলে একদিকে আমাদের মন যেমন জীবনের ক্লান্তি ও গ্লানি দূর করে সতেজ হয়ে ওঠে, অন্যদিকে আমাদের শরীরও সকল জড়তা কাটিয়ে সতেজতায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এমনকি বিভিন্ন রোগমুক্তির ক্ষেত্রেও ভ্রমণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সে কারণেই প্রাচীন যুগ থেকে এখনো পর্যন্ত চিকিৎসকেরা বহু রোগ থেকে সেরে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পূর্বে ভ্রমণের পরমার্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া ভ্রমণ মানুষকে চিন্তাশীল হতে শেখায়। শেখায় জীবনের প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে যুঝে নিতে। প্রাচীনকালে রাজারা রাজ্য চালনার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হলে মুগয়ায় যেতেন। এই মৃগয়াতে শিকার অপেক্ষা ভ্রমণের গুরুত্বই বেশি থাকত। এবারকার ভ্রমণ যাত্রায় হয়তো প্রথমবার লঞ্চে চড়েছি বলে উত্তেজনায় ঘুম আসছিল না। বারবার খালামণির তাগাদায় শেষ রাতের দিকে শুয়ে পড়লাম। ভোর পাঁচটার দিকে খালামণি ডেকে তুললেন- 'এই তোরা ওঠ! আমরা বরিশাল পৌঁছে গিয়েছি।' হুড়মুড় করে উঠে পড়লাম। দেখলাম ঘাটে আরও কয়েকটি লঞ্চ বাঁধা। যাত্রীরা নেমে যাচ্ছে। ভিড় কমলে আমরাও ব্যাগগুলো নিয়ে নেমে পড়লাম। উপসংহার: লঞ্চ ভ্রমণের এই রাতটি আমার জীবনের স্মরণীয় একটি রাত হয়ে থাকবে। অসাধারণ একটি ভ্রমণের ভালোলাগা নিয়ে আমরা পা ফেললাম জীবনানন্দের শহরে। প্রকৃতির এই পরম আশ্রয় আমাকে সারা বছরের বাঁচার রসদ জুগিয়ে দিল। সেজন্য আজও রাতে ঘুমাতে গেলে লঞ্চে কাটানো রাতের সেই জোছনাময় ভ্রমণের কথা বারবার স্মৃতিতে ভেসে আসে। মধ্যরাতে বিশাল নদীবক্ষে দাঁড়িয়ে যে অনির্বচনীয় অনুভূতি আমার হয়েছিল তা জীবনে যেমন আর কখনো ফিরে আসবে না, তেমনই লেখনীতে ধারণ করা সম্ভব হবে না।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।