শেয়ারFacebookWhatsApp

অধ্যবসায়

উত্তর: ভূমিকা: 'একবার না পারিলে দেখ শতবার পারিব না বলে মুখ করিও না ভার।'- কালী প্রসন্ন ঘোষ। 'অধ্যবসায়' শব্দের আভিধানিক অর্থ অবিরাম সাধনা বা ক্রমাগত চেষ্টা। যেকোনো কাজে সাফল্য লাভের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য। কোনো কাজ একবার করে ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় মানুষের মানবীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী তার জীবনে সাফল্য অনিবার্যভাবে ধরা দেয়। পক্ষান্তরে, অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি ব্যর্থতা ও হতাশার সাগরে ডুবে থাকে। অধ্যবসায়ের ফলেই মানুষ পৃথিবীকে উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌছে নিতে পারছে। অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা: অধ্যবসায় মানবজীবনের সংগ্রামের মূল প্রেরণা। সংগ্রামে জয় আছে, আছে পরাজয়। কিন্তু পরাজয়ই শেষ কথা নয়, পরাজয় হচ্ছে নতুনতর জয়েরই পথিকৃৎ। অতএব 'ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরো, বাঁধো বাঁধো বুক।' বার বার চেষ্টার ফলেই মানুষের ভাগ্যাকাশে ওঠে সাফল্যের ধ্রুবতারা। ব্যর্থতাই সাফল্যের সোপান- 'Failure is the pillar of success [গণিত] , অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড়ো হয়, অসাধ্য সাধন করতে পারে। জগতে বড়ো বড়ো শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সেনানায়ক, ধর্মপ্রবর্তক সকলেই ছিলেন অধ্যবসায়ী। মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে অধ্যবসায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছাত্রজীবনেও সফলতা অর্জনে অধ্যবসায়ের মূল্য অপরিসীম। গভীর আত্মপ্রত্যয় সহকারে অবিরাম অনুশীলন করলে দুরূহ বিষয়ও আয়ত্তে এসে যায়। এরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবিচল অধ্যবসায় মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেয়। মানবজীবনে অধ্যবসায়: অধ্যবসায় মানবচরিত্রের এক উৎকৃষ্ট গুণ। মানবসভ্যতার সেই অস্ফুট মুহূর্ত থেকে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, আজও তা শেষ হয়নি। এ সংগ্রামই মানুষের অভিজ্ঞানপত্র। জীবনযুদ্ধে জয়লাভকরতে হলে প্রয়োজন সাহস ও অধ্যবসায়। এ শক্তিই মানুষের এক মহৎ - চারিত্রিক লক্ষণ। দুর্বলচিত্তের মানুষ কখনো অধ্যবসায়ী হতে পারে না। কারণে-অকারণে সামান্য প্রতিকূল আঘাতেই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। যারা দৃঢ়চিত্ত, অধ্যবসায় তাদেরই চরিত্রের এক মহৎ গুণ। শান্তচিত্তে, প্রতিকূলতাকে জয় করার মূলে আছে অধ্যবসায়। অন্যান্য মানবিক সৎগুণের মতোই জীবনে অধ্যবসায়েরও সযত্নে লালন ও পরিচর্যার প্রয়োজন। নিরন্তর অনুশীলনেই এ বৃত্তির বিকাশ সাধন হয়। হাত্রজীবনে অধ্যবসায়: ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন সর্বাধিক। ছাত্ররা সমাজের ভবিষ্যৎ গৌরবকেতন। বিশ্বের কোটি কোটি বঞ্চিত ভাগ্যাহত মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। অধ্যবসায়ী ছাত্র অল্প মেধাশক্তিসম্পন্ন হলেও সাফল্য লাভ করতে পারে। কাজেই অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর হতাশ না হয়ে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে অধ্যয়নে মনোনিবেশ করা উচিত। কারণ অধ্যবসায়ই পারে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে সাফল্যের পথ দেখাতে। ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে কবি বলে গেছেন- 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, কেন পারিবে না তাহা ভাবো এক বার। পাঁচজনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা, পার কি না পার কর যতন আবার। এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।' অধ্যবসায় ও প্রতিভা: অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী না হলে বড় কাজসাধন করা যায় না- এমন ধারণা পোষণ করা মোটেও উচিত নয়। কারণ অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ব্যতীত শুধু প্রতিভায় কাজ হয় না। জগতে বহু বিখ্যাত লোক জন্মেছেন, যাঁরা প্রতিভাবান অপেক্ষা অধ্যবসায়ী ছিলেন বেশি। ভলতেয়ার বলেছেন, 'প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও। তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।' বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ের ভূমিকা: পৃথিবীর প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল ভূমিকা। মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে দূর করেছে আঁধার, বিমান আবিষ্কার করে জয় করেছে আকাশ, রকেটের সাহায্যে অর্জন করেছে চন্দ্রবিজয়ের গৌরব। আর এসব সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে মানুষের যুগ-যুগান্তরের সাধনা ও অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত: ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী ব্যক্তিরাই মানবজন্মকে সার্থক করে তোলেন। অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়েই মনীষীরা কর্মের পথে এগিয়ে গেছেন অবিচল নিষ্ঠায়। সবলের রক্তচক্ষু শাসনেও তাঁরা অকুতোভয়, নির্ভীক। ত্যাগে, ধৈর্যে তাঁরা মানুষের কাছে তুলে দিয়েছেন অমৃতের পাত্র। নিজেরা পান করেছেন জীবন মন্থনের গরল। সেই নীলকণ্ঠ মহামানবগণের পুণ্যস্পর্শে সাধারণ মানুষের জীবন ধন্য হয়েছে। রাজার দুলাল গৌতম বুদ্ধও একদিন জীবনের সত্য সন্ধান করতে গিয়ে সুখের স্বর্ণসিংহাসন থেকে নেমে এসেছিলেন পথের ধুলোয়। সেদিনও কি কপিলাবস্তুর রাজপুরীতে কম ঝড় উঠেছিল? নানা প্রতিকূলতাকে তিনি জয় করেছিলেন অসীম ত্যাগ আর তিতিক্ষায়। অধ্যবসায়ই ছিল তাঁর সেদিনের মন্ত্র। এছাড়া সাহিত্য-শিল্প-বিজ্ঞান সাধনায়ও মানুষের অধ্যবসায়ের তুলনা নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ম্যাক্সিম গোর্কি, দস্তয়েভস্কি প্রমুখ সাহিত্যিক জীবনে অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন, হয়েছেন অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন। তবুও অসীম অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে বিনির্মাণ করে গেছেন মানবজীবনের মহাকাব্যিক' আলেখ্য। এভাবে কত বিজ্ঞানীকেও বারবার অধ্যবসায়ের অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, মাইকেল ফ্যারাডে, লুই পাস্তুর, মাদাম কুরি, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখের জীবনেও এসেছে প্রতিকূলতার আঘাত। মাইকেল অ্যাঞ্জেলো, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মতো শিল্পীর জীবনও নানা ঘাত-প্রতিঘাতে হয়েছে সংক্ষুব্ধ। অধ্যবসায়ের প্রদীপ্ত আদর্শই ছিল তাঁদের সৃষ্টির প্রেরণা। যুগে যুগে অভিযাত্রীরাও মৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে আবিষ্কার করেছে নতুন নতুন দেশ। দুর্গম পর্বতশিখরে রেখে এসেছে জয়ের নিশান। অধ্যবসায়ী ছিলেন বলেই সম্রাট নেপোলিয়ান এমন দৃঢ়কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন, 'অসম্ভব' শব্দটি কেবল নির্বোধের অভিধানেই পাওয়া যায়। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ইংরেজদের সঙ্গে পর পর ছয়বার যুদ্ধে পরাজি হয়ে তিনি ভগ্নহৃদয়ে বনে পালিয়ে যান। একদিন এক গুহায় তিনি প্তায় মগ্ন ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন, একটা মাকড়স' বারবার একটি স্তম্ভের গায়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু খানিকটা উঠেই গড়ে যাচ্ছে। ছ-বার চেষ্টার পর সপ্তমবারের মতো সে স্তম্ভের গায়ে উঠতে সমর্থ হলো। সামান্য একটি প্রাণীর এরূপ অদম্য প্রচেষ্টা এবং সাফল্য লাভের দৃশ্য রবার্ট ব্রুসকে অশেষ প্রেরণা জুগিয়েছিল। তিনি পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে শত্রুর হাত থেকে স্বদেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উপসংহার: অধ্যবসায়ই মানুষকে পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় করতে পারে। তাই আমাদের হতে হবে অধ্যবসায়ী। মোটকথা, যারা সংকল্পে অটল, জীবন যাদের প্রতিশ্রুতিতে বন্ধ, তাদের কাছে অসাধ্য কিছুই নেই। একমাত্র অধ্যবসায়ের গুণেই আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ নিজের জীবনকে সুষমামণ্ডিত করে দেশ ও জাতির নিকট স্মরণীয়-বরণীয় হতে পারে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

অধ্যবসায়

উত্তর

ভূমিকা: 'একবার না পারিলে দেখ শতবার পারিব না বলে মুখ করিও না ভার।'- কালী প্রসন্ন ঘোষ। 'অধ্যবসায়' শব্দের আভিধানিক অর্থ অবিরাম সাধনা বা ক্রমাগত চেষ্টা। যেকোনো কাজে সাফল্য লাভের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য। কোনো কাজ একবার করে ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় মানুষের মানবীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী তার জীবনে সাফল্য অনিবার্যভাবে ধরা দেয়। পক্ষান্তরে, অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি ব্যর্থতা ও হতাশার সাগরে ডুবে থাকে। অধ্যবসায়ের ফলেই মানুষ পৃথিবীকে উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌছে নিতে পারছে। অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা: অধ্যবসায় মানবজীবনের সংগ্রামের মূল প্রেরণা। সংগ্রামে জয় আছে, আছে পরাজয়। কিন্তু পরাজয়ই শেষ কথা নয়, পরাজয় হচ্ছে নতুনতর জয়েরই পথিকৃৎ। অতএব 'ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরো, বাঁধো বাঁধো বুক।' বার বার চেষ্টার ফলেই মানুষের ভাগ্যাকাশে ওঠে সাফল্যের ধ্রুবতারা। ব্যর্থতাই সাফল্যের সোপান- 'Failure is the pillar of success,success^{\prime}, অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড়ো হয়, অসাধ্য সাধন করতে পারে। জগতে বড়ো বড়ো শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সেনানায়ক, ধর্মপ্রবর্তক সকলেই ছিলেন অধ্যবসায়ী। মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে অধ্যবসায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছাত্রজীবনেও সফলতা অর্জনে অধ্যবসায়ের মূল্য অপরিসীম। গভীর আত্মপ্রত্যয় সহকারে অবিরাম অনুশীলন করলে দুরূহ বিষয়ও আয়ত্তে এসে যায়। এরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবিচল অধ্যবসায় মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেয়। মানবজীবনে অধ্যবসায়: অধ্যবসায় মানবচরিত্রের এক উৎকৃষ্ট গুণ। মানবসভ্যতার সেই অস্ফুট মুহূর্ত থেকে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, আজও তা শেষ হয়নি। এ সংগ্রামই মানুষের অভিজ্ঞানপত্র। জীবনযুদ্ধে জয়লাভকরতে হলে প্রয়োজন সাহস ও অধ্যবসায়। এ শক্তিই মানুষের এক মহৎ - চারিত্রিক লক্ষণ। দুর্বলচিত্তের মানুষ কখনো অধ্যবসায়ী হতে পারে না। কারণে-অকারণে সামান্য প্রতিকূল আঘাতেই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। যারা দৃঢ়চিত্ত, অধ্যবসায় তাদেরই চরিত্রের এক মহৎ গুণ। শান্তচিত্তে, প্রতিকূলতাকে জয় করার মূলে আছে অধ্যবসায়। অন্যান্য মানবিক সৎগুণের মতোই জীবনে অধ্যবসায়েরও সযত্নে লালন ও পরিচর্যার প্রয়োজন। নিরন্তর অনুশীলনেই এ বৃত্তির বিকাশ সাধন হয়। হাত্রজীবনে অধ্যবসায়: ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন সর্বাধিক। ছাত্ররা সমাজের ভবিষ্যৎ গৌরবকেতন। বিশ্বের কোটি কোটি বঞ্চিত ভাগ্যাহত মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। অধ্যবসায়ী ছাত্র অল্প মেধাশক্তিসম্পন্ন হলেও সাফল্য লাভ করতে পারে। কাজেই অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর হতাশ না হয়ে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে অধ্যয়নে মনোনিবেশ করা উচিত। কারণ অধ্যবসায়ই পারে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে সাফল্যের পথ দেখাতে। ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে কবি বলে গেছেন- 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, কেন পারিবে না তাহা ভাবো এক বার। পাঁচজনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা, পার কি না পার কর যতন আবার। এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।' অধ্যবসায় ও প্রতিভা: অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী না হলে বড় কাজসাধন করা যায় না- এমন ধারণা পোষণ করা মোটেও উচিত নয়। কারণ অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ব্যতীত শুধু প্রতিভায় কাজ হয় না। জগতে বহু বিখ্যাত লোক জন্মেছেন, যাঁরা প্রতিভাবান অপেক্ষা অধ্যবসায়ী ছিলেন বেশি। ভলতেয়ার বলেছেন, 'প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও। তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।' বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ের ভূমিকা: পৃথিবীর প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল ভূমিকা। মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে দূর করেছে আঁধার, বিমান আবিষ্কার করে জয় করেছে আকাশ, রকেটের সাহায্যে অর্জন করেছে চন্দ্রবিজয়ের গৌরব। আর এসব সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে মানুষের যুগ-যুগান্তরের সাধনা ও অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত: ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী ব্যক্তিরাই মানবজন্মকে সার্থক করে তোলেন। অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়েই মনীষীরা কর্মের পথে এগিয়ে গেছেন অবিচল নিষ্ঠায়। সবলের রক্তচক্ষু শাসনেও তাঁরা অকুতোভয়, নির্ভীক। ত্যাগে, ধৈর্যে তাঁরা মানুষের কাছে তুলে দিয়েছেন অমৃতের পাত্র। নিজেরা পান করেছেন জীবন মন্থনের গরল। সেই নীলকণ্ঠ মহামানবগণের পুণ্যস্পর্শে সাধারণ মানুষের জীবন ধন্য হয়েছে। রাজার দুলাল গৌতম বুদ্ধও একদিন জীবনের সত্য সন্ধান করতে গিয়ে সুখের স্বর্ণসিংহাসন থেকে নেমে এসেছিলেন পথের ধুলোয়। সেদিনও কি কপিলাবস্তুর রাজপুরীতে কম ঝড় উঠেছিল? নানা প্রতিকূলতাকে তিনি জয় করেছিলেন অসীম ত্যাগ আর তিতিক্ষায়। অধ্যবসায়ই ছিল তাঁর সেদিনের মন্ত্র। এছাড়া সাহিত্য-শিল্প-বিজ্ঞান সাধনায়ও মানুষের অধ্যবসায়ের তুলনা নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ম্যাক্সিম গোর্কি, দস্তয়েভস্কি প্রমুখ সাহিত্যিক জীবনে অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন, হয়েছেন অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন। তবুও অসীম অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে বিনির্মাণ করে গেছেন মানবজীবনের মহাকাব্যিক' আলেখ্য। এভাবে কত বিজ্ঞানীকেও বারবার অধ্যবসায়ের অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, মাইকেল ফ্যারাডে, লুই পাস্তুর, মাদাম কুরি, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখের জীবনেও এসেছে প্রতিকূলতার আঘাত। মাইকেল অ্যাঞ্জেলো, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মতো শিল্পীর জীবনও নানা ঘাত-প্রতিঘাতে হয়েছে সংক্ষুব্ধ। অধ্যবসায়ের প্রদীপ্ত আদর্শই ছিল তাঁদের সৃষ্টির প্রেরণা। যুগে যুগে অভিযাত্রীরাও মৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে আবিষ্কার করেছে নতুন নতুন দেশ। দুর্গম পর্বতশিখরে রেখে এসেছে জয়ের নিশান। অধ্যবসায়ী ছিলেন বলেই সম্রাট নেপোলিয়ান এমন দৃঢ়কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন, 'অসম্ভব' শব্দটি কেবল নির্বোধের অভিধানেই পাওয়া যায়। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ইংরেজদের সঙ্গে পর পর ছয়বার যুদ্ধে পরাজি হয়ে তিনি ভগ্নহৃদয়ে বনে পালিয়ে যান। একদিন এক গুহায় তিনি প্তায় মগ্ন ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন, একটা মাকড়স' বারবার একটি স্তম্ভের গায়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু খানিকটা উঠেই গড়ে যাচ্ছে। ছ-বার চেষ্টার পর সপ্তমবারের মতো সে স্তম্ভের গায়ে উঠতে সমর্থ হলো। সামান্য একটি প্রাণীর এরূপ অদম্য প্রচেষ্টা এবং সাফল্য লাভের দৃশ্য রবার্ট ব্রুসকে অশেষ প্রেরণা জুগিয়েছিল। তিনি পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে শত্রুর হাত থেকে স্বদেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উপসংহার: অধ্যবসায়ই মানুষকে পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় করতে পারে। তাই আমাদের হতে হবে অধ্যবসায়ী। মোটকথা, যারা সংকল্পে অটল, জীবন যাদের প্রতিশ্রুতিতে বন্ধ, তাদের কাছে অসাধ্য কিছুই নেই। একমাত্র অধ্যবসায়ের গুণেই আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ নিজের জীবনকে সুষমামণ্ডিত করে দেশ ও জাতির নিকট স্মরণীয়-বরণীয় হতে পারে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।