শেয়ারFacebookWhatsApp

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

উত্তর: বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস বর্বরতার মুখে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শুরু হয় বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম। দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি ও পূর্ণতা আসে সে বছরেরই ১৬ই ডিসেম্বর। এ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলে মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয় একটি স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে বাংলার ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালি সৈন্য থেকে শুরু করে অগনতি নিরীহ, অসহায় মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ট্যাংক, কামানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে বাঙালি নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছিল তারা। বাংলার সবুজ-শ্যামল মাটি সিক্ত হয়েছিল নিরস্ত্র বাঙালির লাল রক্তে। যত্রতত্র অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ধ্বংসপুরীতে পরিণত করতে চেয়েছিল তারা এ জনপদকে। এ হিংস্রতা, বর্বরতা ও অন্যায় আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি বাংলার মানুষ। যার যা আছে তাই নিয়েই প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে এনেছিল কাঙ্ক্ষিত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। ১৯৪৭-এর পর থেকে একের পর এক আন্দোলনের সিঁড়ি ডিঙিয়ে চূড়ান্ত ফসল হিসেবে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়। '৫২-র ভাষা আন্দোলন, '৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, '৬২-র সামরিক আইন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী আন্দোলন, '৬৬-র ছয় দফার আন্দোলন, '৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানেরই চূড়ান্ত পরিণতি '৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম। অমর 'একুশে ফেব্রুয়ারির' পথ বেয়েই এসেছিল ১৬ই ডিসেম্বর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সাধারণ জনগণকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যেসব বাঙালি সৈন্য ছিল তারা এবং আধাসামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যরাও তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তিবাহিনীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। রাস্তায় যাকেই দেখতে পায় তাকেই গুলি করে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ বহু আবাসিক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়, অসংখ্য মানুষ হত্যা করে ও লুটপাট চালায়। মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর চট্টগ্রামের 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে ২৬ ও ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। ঘোষণার পরপরই সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত, মুক্তিযুদ্ধ। ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননের নামকরণ হয় মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ চালানোর সুবিধার্থে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। তাঁর তত্ত্বাবধানে সমগ্র দেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। বাঙালিদের সংগ্রামের প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সরকারের সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং অত্যাচারিত বাঙালিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর দেশের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী সকল পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকাও ছিল গৌরবোজ্জ্বল। এছাড়া সংবাদপত্র, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও প্রবাসী বাঙালিরাও নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান ছিল প্রশংসনীয়। জীবনের মায়া ত্যাগ করে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছে লাখো শহিদের রক্ত, অগণিত মানুষের চোখের জল আর কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। এ যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং দুই লক্ষ বাঙালি নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। বাংলাদেশের একশ্রেণির লোক পাকিস্তানিদের এ নৃশংসতাকে সমর্থন ও মদদ দিয়েছে। এ শ্রেণির সহায়তায় নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে বাঙালি শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পী, রাজনীতিক ও চিন্তাবিদ। এভাবেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও নীলনকশা অনুযায়ী সংঘটিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ চলে। ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ রূপ নেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের প্রতিটি ক্ষণ ছিল চরম আতঙ্ক আর অপরিসীম আশায় উদ্বেলিত। বাঙালি জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আর গভীর দেশপ্রেমের চেতনায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের, মিথ্যার বিরুদ্ধে শাশ্বত সত্যের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামের মূর্ত চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় বাঙালির শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের অভ্যুদয় তাই এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

উত্তর

বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস বর্বরতার মুখে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শুরু হয় বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম। দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি ও পূর্ণতা আসে সে বছরেরই ১৬ই ডিসেম্বর। এ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলে মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয় একটি স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে বাংলার ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালি সৈন্য থেকে শুরু করে অগনতি নিরীহ, অসহায় মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ট্যাংক, কামানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে বাঙালি নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছিল তারা। বাংলার সবুজ-শ্যামল মাটি সিক্ত হয়েছিল নিরস্ত্র বাঙালির লাল রক্তে। যত্রতত্র অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ধ্বংসপুরীতে পরিণত করতে চেয়েছিল তারা এ জনপদকে। এ হিংস্রতা, বর্বরতা ও অন্যায় আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি বাংলার মানুষ। যার যা আছে তাই নিয়েই প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে এনেছিল কাঙ্ক্ষিত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। ১৯৪৭-এর পর থেকে একের পর এক আন্দোলনের সিঁড়ি ডিঙিয়ে চূড়ান্ত ফসল হিসেবে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়। '৫২-র ভাষা আন্দোলন, '৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, '৬২-র সামরিক আইন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী আন্দোলন, '৬৬-র ছয় দফার আন্দোলন, '৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানেরই চূড়ান্ত পরিণতি '৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম। অমর 'একুশে ফেব্রুয়ারির' পথ বেয়েই এসেছিল ১৬ই ডিসেম্বর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সাধারণ জনগণকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যেসব বাঙালি সৈন্য ছিল তারা এবং আধাসামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যরাও তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তিবাহিনীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। রাস্তায় যাকেই দেখতে পায় তাকেই গুলি করে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ বহু আবাসিক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়, অসংখ্য মানুষ হত্যা করে ও লুটপাট চালায়। মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর চট্টগ্রামের 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে ২৬ ও ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। ঘোষণার পরপরই সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত, মুক্তিযুদ্ধ। ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননের নামকরণ হয় মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ চালানোর সুবিধার্থে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। তাঁর তত্ত্বাবধানে সমগ্র দেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। বাঙালিদের সংগ্রামের প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সরকারের সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং অত্যাচারিত বাঙালিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর দেশের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী সকল পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকাও ছিল গৌরবোজ্জ্বল। এছাড়া সংবাদপত্র, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও প্রবাসী বাঙালিরাও নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান ছিল প্রশংসনীয়। জীবনের মায়া ত্যাগ করে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছে লাখো শহিদের রক্ত, অগণিত মানুষের চোখের জল আর কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। এ যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং দুই লক্ষ বাঙালি নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। বাংলাদেশের একশ্রেণির লোক পাকিস্তানিদের এ নৃশংসতাকে সমর্থন ও মদদ দিয়েছে। এ শ্রেণির সহায়তায় নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে বাঙালি শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পী, রাজনীতিক ও চিন্তাবিদ। এভাবেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও নীলনকশা অনুযায়ী সংঘটিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ চলে। ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ রূপ নেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের প্রতিটি ক্ষণ ছিল চরম আতঙ্ক আর অপরিসীম আশায় উদ্বেলিত। বাঙালি জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আর গভীর দেশপ্রেমের চেতনায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের, মিথ্যার বিরুদ্ধে শাশ্বত সত্যের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামের মূর্ত চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় বাঙালির শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের অভ্যুদয় তাই এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

স্বদেশপ্রেম
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2019

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2019

স্বদেশপ্রেম
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্বদেশপ্রেম

স্বদেশপ্রেম

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।